গরমকালের পোশাক-আশাক ও খাওয়া-দাওয়া

0
1417

বৈশাখের রোদজ্বলা দিনে সূর্যের উত্তাপ পাল্টে দেয় যাপিত জীবনের আবহ। তীব্র তাপে গরমে টেকা দায় হয়ে পড়ে। তাই বলে জীবনতো আর থেমে থাকবে না! আবার ফ্যাশন আর স্টাইলও থেমে থাকে না। কেবল স্বরূপটা পাল্টায়। গরমে ছেলেদের সবার পছন্দের তালিকায় থাকে গোল গলা টি শার্ট। পাশাপাশি সানগ্লাস রোদ থেকে বাঁচায়। বাইরে বেরুলে খেয়াল রাখতে হয় খাদ্যাভ্যাসেও।

Advertisement

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যায় পোশাক-আশাক আর জীবন যাপনের ধরন। এখন ঘোর গ্রীষ্মকাল। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে গরমের তীব্রতা। নিত্যদিনের ব্যস্ততা আর গরমের অস্থিরতা পুরো শরীর ঘেমে একাকার। এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে গরম থেকে মুক্তি পেতে পোশাকের দিকে নজর দিতে হয়। গরমের আরাম এবং ফ্যাশনের কথা চিন্তা করে টি-শার্ট বেছে নেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করার পাশাপাশি থাকা যায় ফ্যাশনেবল।

গরমে টি-শার্টের একতরফা জনপ্রিয়তা এতই প্রখর যে, তরুণীরা পর্যন্ত টি-শার্ট পরছেন হরহামেশাই। এই সময়ে টি-শার্ট একদিকে আরামদায়ক, অন্যদিকে বাহারি রং, ডিজাইন ও নকশার কারণে স্টাইলেও আসে বৈচিত্র্য। পাশাপাশি বাহারি প্রিন্টসহ, ব্লক, বাটিক আর নান্দনিক ডিজাইনে প্রতিটি টি-শার্ট যেন ডিজাইনারের রং-তুলির ক্যানভাস। শাহবাগের দেশীয় ট্রেন্ডের টি-শার্ট যেমন ব্যবহার করা যায়, তেমনি তারুণ্যের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ওয়েস্টার্ন থিমের কালারফুল সব টি-শার্ট।

টি-শার্টের সঙ্গে জিন্সের প্যান্ট মানানসই। গরম একটু কমে এলে টি-শার্টের ওপরে শার্ট পরে ফ্যাশনে নতুন মাত্রা যোগ করা যায়। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় আর ফ্যাশনেবল টি-শার্ট হল একরঙা ও চেকের টি-শার্ট। পাশাপাশি জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র, ফিল্মী চরিত্র, সুপার হিরো কিংবা প্রিয় ব্যক্তিত্বের ছবি ও নকশার টি-শার্ট চলতি ট্রেন্ড। কিছু কিছু টি-শার্টে বসিয়ে দেয়া হয়েছে ডামি পকেটের ডিজাইন।

তবে বৈশাখের পরপর বাজারে আসা টি-শার্টগুলোতে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে হালকা রঙ এবং আরামদায়ক সুতি ফেব্রিক। এ প্রসঙ্গে ফ্যাশন হাউস পিজিয়নের মার্কেটিং ডিরেক্টর সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই সময়টাতে বেসিক টি-শার্টের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। আমরা বাজারের চলতি ট্রেন্ড মাথায় থেকে কালারফুল সব নকশার টি-শার্ট নিয়ে এসেছি। ক্যারেক্টার বেইজড টি-শার্ট যেমন আছে, তেমনি অনেক টেক্সচুয়াল ডায়লগ বেইজড টি-শার্টও আছে। নিউ মার্কেটসহ সারা দেশে এই টি-শার্টগুলোর দারুণ চাহিদা রয়েছে।

টি-শার্টের রং ও ডিজাইনে বৈচিত্র্যের কোনো শেষ নেই। ফলে সহজেই প্যান্ট কিংবা জুতার সঙ্গে ম্যাচিং করে টি-শার্ট পরা যায়। ক্যাজুয়াল লুকে টি-শার্টের সঙ্গে জিন্সের প্যান্ট বেশি মানায়। হালকা বা সাদা রঙের টি-শার্ট পরলে নীল বা ছাই রঙের জিন্স, গ্যাবাডিন বা সুতি প্যান্টও পরা যায়। তবে ফরমাল প্যান্টের সঙ্গে টি-শার্ট এবং একই রঙের টি-শার্ট ও প্যান্ট পরলে দেখতে ভালো লাগে না। টিন ছেলেরা টি-শার্টের সঙ্গে পাতলা ডেনিম বা কালার টুইস্ট জিন্স এবং মেয়েদের স্টেচিং জিন্স প্যান্টের সঙ্গে ম্যাচিং টি-শার্ট গরমের আরামদায়ক পোশাক।

গরমে পোশাকের ক্ষেত্রে রংটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে কটকটে বা গাঢ় রং অসহনীয় লাগে। তাই অধিকাংশ ছেলে গরমে বেছে নেন সাদা রঙের পোশাক। সবাই এই সময় সাদার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে হালকা রং বলতে শুধু সাদা রংই নয়। বেছে নিতে পারেন ঘিয়া, আকাশি, হালকা সবুজ, বাদামি, পার্পলসহ যে কোনো সহনশীল রং বেছে নিতে পারেন পোশাকে। গরমে গাঢ় রঙ যে পরাই যাবে না, তা কিন্তু নয়।

কালো ও কালচে শেডের রঙগুলো বাদে যে কোনো রংই বেছে নিতে পারেন। ছেলেরা যেহেতু দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকেন তাই আরামদায়ক ফেব্রিক্সের কথা মাথায় রাখুন। সে ক্ষেত্রে সুতির চেয়ে আরামের আর কিছুই হতে পারে না। সুতি বা তাঁতের তৈরি কাপড়ের পোশাক হতে পারে আপনার স্বস্তিদায়ক গরমের সঙ্গী।

এত গেল পোশাকের কথা। গরমে বাইরে যাওয়া মানেই হচ্ছে রোদ আর তাপের সঙ্গে লড়াই করা। রোদে যাওয়ার আগে একটা সানগ্লাস পরে নিতে পারেন। বডি স্প্রে লাগিয়ে নিলে ঘামের গন্ধ নিয়ে চিন্তা থাকবে না। একটা ছোট তোয়ালে বা রুমাল সঙ্গে রাখতে পারেন। যারা কাঁধ ব্যাগ ব্যবহার করেন তারা সঙ্গে ছোট্ট একটি পানির বোতল থাকতে পারে। পায়ে থাকতে পারে মোকাসিন বা স্নিকার। কেউ আরাম পেলে দুই ফিতার স্যান্ডেলও পরতে পারেন। অনেকে আবার চামড়ার স্যান্ডেল ব্যবহার করেন, এতেও কিন্তু সমস্যা নেই।

গরমের তীব্রতার লড়াইয়ে খাবার সম্পর্কেও সচেতন থাকা জরুরি। সুস্থ থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস খুবই জরুরি। গরমে অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার না খাওয়াই উত্তম। আর বরাবরের মতো প্রচুর পানি পান করতে হবে। মৌসুমী ফলের রস খাওয়া উত্তম। মনে রাখবেন, প্রচণ্ড গরমে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের ওপরই নির্ভর করবে আপনার শারীরিক সুস্থতা। গরমে ঘাম হয় প্রচুর।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে পানি পান করা উচিত। এতে করে পানিশূন্যতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। গরমে শুকনা ফল খাবেন না। এতে শরীর আরও ডিহাইড্রেটেড হয়ে যেতে পারে। গ্রীষ্মের তাজা ফল রয়েছে বাজারে। এগুলো খান বেশি করে। যেমন তরমুজ। গরমে এক ফালি তরমুজের সতেজতা আপনাকে এক বুক প্রশান্তি এনে দিতে পারে। এর বাইরেও আপনি ঠাণ্ডা খাবার খেতে পারেন। যেমন ডাবের পানি। গরমে চিনি অথবা মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। এগুলো শরীরকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। তাই মিষ্টি অথবা মধু না খেয়ে সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খান।

সব মিলিয়ে খানিক প্রস্তুতি পাল্টে দিতে পারে আপনার গ্রীষ্মকালীন বিড়ম্বনা। এ সব ব্যাপার মাথায় রাখলে নিজেকে ঠিক রাখতে যেমন সমর্থ হবেন, তেমনি ফ্যাশন স্টাইলেও এতটুকু প্রভাব পড়বে না।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here