স্টাফ রিপোর্টার : বেপরোয়া লুটপাট, দূর্নীতির মাধ্যমে সরকারের শত শত কোটি টাকার ক্ষতি করে বিশাল অংকের টাকা তুলে দিচ্ছেন বাবার হাতে। আর বাবা সে টাকা ঢালছেন সরকার উৎখাতের ধাবমান আন্দোলনে গতি দিতে।
এ নিয়ে জানা শোনা অনেকের মাঝেই ক্ষোভ থাকলেও অপ্রতিরোধ্য টাকার শক্তির কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা । এমন ঘটনার নেপথ্য নায়কেরা হচ্ছেন সরকারের গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা-৪ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নু ও তার পিতা পটুয়াখালী সদর উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও ৫নং কমলা পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম মৃধা। রাজনীতির মাঠে সক্রিয় একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নুুর পিতা আব্দুস সালাম মৃধা এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি বাঁচিয়ে রাখাসহ কেন্দ্রীয় বিএনপিকে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করে চলেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কেন্দ্রিয় ফান্ডে মোটা অংকে টাকা দিয়েছেন আব্দুস সালাম মৃধা।
এলাকায় এমন গুঞ্জন চাউর হয়ে ঘুরছে। কেন্দ্রিয় নেতাদের সাথে দেখা করে তিনি এ টাকা জমা দেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। জানা যায, এর মাধ্যমে আগামী দিনে সরকার পরিবর্তন হলে নিজে উপজেলা চেয়ারম্যান বা তার চেয়ে বড় কোন পদ পাওয়ার আশা করছেন সেই সাথে ছেলেকে আরো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। এলাকায় বিএনপি জামায়াতের লোক আব্দুস সালাম মৃধাকে টাকার গাছ হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন। আব্দুস সালাম মৃধার টাকার উৎস সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসার মতো ঘটনা সামনে চলে আসে। জানা যায়, আব্দুস সালাম মৃধার অর্থের একমাত্র উৎস হচ্ছে তার ছেলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নু।
যিনি এখন কর্মরত রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তর ঢাকা -৪ এ। এর আগে ছিল মিরপুর বিভাগে। যখন মিরপুরে ছিল তখন গণপূর্ত বিভাগের সব চেয়ে বেশী প্রকল্প কার্যকর করেছে মিরপুর বিভাগ। রাজনৈতিক বলয়ের সূত্রগুলো বলছে, ছাত্র জীবনে আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের সহ সভাপতি ছিলেন সাইফুজ্জামান চুন্নুু । সেই সূত্রে বিএনপি জামায়াতের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের সাথে শুরু থেকেই একটি আদর্শিক সম্পর্ক গড়ে যায় তার। সে সুযোগে এক সময় তিনি জড়িয়ে যান তারেক জিয়ার ঘনিষ্ট সিন্ডিকেটের সাথে। তাদের একজনের বিশেষ আর্শিবাদে গণপূর্তের পীর হিসেবে পরিচিত প্রধান প্রকৌশলীর আস্থা ভাজন মুরিদ বিএনপি জামায়াত ঠিকাদারদের আশ্রয় দাতা নুসরাতের সাথে ঘনিষ্ট হন সাইফুজ্জামান চুন্নু। তারই আর্শিবাদে মোটা অংকের টাকা দরবারের ফান্ডে জমা করে প্রধান প্রকৗশলীর আস্থা ভাজন হন তিনি। এর পর আর তাকে পেছনে ফিরতে হচ্ছে না।
ইচ্ছে মতো সরকারি টাকা ভাগ বাটোয়ারার পাশাপাশি নিয়োগ বদলি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ গণপূর্তের অপ্রতিরোধ্য একজন ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন তিনি। কয়েক বছরে বনে যান বহু কোটি টাকার মালিক। দেশে নামে বেনামে গড়েছেন অনেক সম্পদ। বিদেশে টাকা পাচার সহ বেশ কয়েকটি দেশে টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে তার নামে। এসব বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী সাইফুজ্জামানের সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি মোবাইলে কথা বলবেন না বলে জানান সাইফুজ্জামান চুন্নুর দুর্নীতি ও অনিয়মের ধারাবাহিক পর্বের ৩য় পর্বে থাকছে ‘দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে তোলা অঢেল সম্পদের বিবরণ’।

