বিচারের দাবিতে প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
খুলনা জেলা ডিবি পুলিশের এএসআই রাজকুমার, এসআই আলামিন, এসআই শেখ ইমরুল করিম ও ইন্সপেক্টর নাসির উদ্দিন এর বিরুদ্ধে জাতীয় সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকার খুলনা বিভাগীয় অনুসন্ধানী প্রতিবেদক সাংবাদিক মোঃ রিয়াজ উদ্দীন কে কৌশলে ডেকে নিয়ে পেশাগত কাজে বাঁধা প্রদান, হয়রানি ও মিথ্যা অস্ত্র মামলা সহ জীবন নাশের হুমকির অভিযোগে উঠেছে। এ বিষয়ে গত ০৭/০৫/২৪ ইং তারিখে ভুক্তভোগী সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দীন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৬ই এপ্রিল রাত আনুমনিক ৮টার দিকে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক খুলনার রূপসা থানার জাবুসা গ্রামে থাকাকালীন সময়ে সেখানে ইউপি সদস্য বাবর আলী, পুলিশের সোর্স মানিক, কিশোর গ্যাং, ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজদের হোতা রাজু বাহিনীর রাজু ও তার সহযোগী রনির বিরুদ্ধে বস্তুুনিষ্ট সংবাদ প্রকাশ করায় সন্ত্রাসীরা তার বসত বাড়িতে গিয়ে হত্যার উদ্দ্যেশে কয়েকবার হামলা চালায় বিষয়টি গত কয়েক মাসে খুলনায় ব্যাপক আলোচিত। এ বিষয়ে থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় পরিবার সহ তাকে ঐ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। তবুও সন্ত্রাসী বাহিনীরা তার পিছু না ছেড়ে তারা বিভিন্ন কায়দায় অপপ্রচার ,মিথ্যা মামলা ও হামলা করে হয়রানি করতে থাকে। সাংবাদিক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সিরিজ নিউজ করতে থাকে। সাংবাদিক একাধিক সূত্রে জানতে পারে জেলা ডিবি পুলিশ ৪ ড্রাম মরা গরুর মাংস সহ আল মামুন নামের এক আসামিকে টাকা খেয়ে ছেড়ে দিয়েছে এবং গত ১৫/০৪/২৪ ইং স্থানীয় চৌরাস্তা বালুর মাঠে বিকেলে গিয়ে তল্লাশি করে তিনজনের কাছ থেকে কয়েক পিছ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট পেয়ে তাদেরকে কয়েক ঘণ্টা বালুর মাঠে আটক রেখে রফা করে টাকার বিনিময় ছেড়ে দিয়েছে। ঐদিন ভুক্তভোগী তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে কোন বাহিনী বা সংস্থার কারো নাম কোন রকম উল্লেখ না করে “গতকাল রূপসার জাবুসা চৌরাস্তা থেকে মরা গরুর মাংসের মতো ইয়াবা সহ ২ জনকে আটক করে মোটা অংকের টাকা খেয়ে আসামি ছেড়ে দিল এরা কারা????” স্ট্যাটাসটি জেলা ডিবি সহ কয়েকজনকে ট্যাগ করে পোস্ট করেন। যেহেতু একাধিক লোকের ভাষ্য অনুযায়ী তিনজনই ছিল এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফয়সাল শেখ, রনি শেখ, জিয়া মোল্লা ও রাজু বাহিনীর রাজু শেখের ছত্রছায়ায় থাকা বহনকারী। ঘটনার পরদিন সকালে খুলনা ডিবি পুলিশের এএসআই রাজকুমার ভুক্তভোগীর মুঠোফোনে ০১৭৪৭-৬০৬০০৬ নাম্বার থেকে ওয়ার্টসঅ্যাপ এ কল দিয়ে সুকৌশলে কেসিসি মার্কেটে ডাকলে সুমন শেখ নামের একজনকে সাথে নিয়ে ভুক্তভোগী দেখা করেন।
দেখা করা মাত্রই চা খাওয়ান চা খাওয়া শেষ হতে না হতে ওৎ পেতে বসে থাকা একাধিক সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তাদের মধ্যে এস আই আল আমিন পা উঁচু করে বার বার লাথি মারতে যান। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক ওসি সাহেবের কথা বলে এসপি অফিসের দিকে নিয়ে যান। দুজনকে এসপি অফিসের তৃতীয় তলায় নিয়ে আটকিয়ে মারধর করে মামলা মিথ্যা দেয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ওসি সাহেব দ্বিতীয় তলায় না থাকায় ওসি সাহেবের সাথে কথা বলে সেখান থেকে নিচে এসপি অফিসের সামনে বামপাশে নামিয়ে আনলে কিছুক্ষণ পর ইন্সপেক্টর নাসির উদ্দিন সহ আরো একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা হাজির হয়ে বিভিন্ন কায়দায় মারধর করে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি-প্রদানসহ ভয় ভীতি দেখায়। তার কাছে থাকা জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার ও জাতীয় দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার কার্ড দুটি দেখতে দেখার কথা বলে ছিনিয়ে নেন। ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর নাসির উদ্দিন এসেই “এই কুত্তার বাচ্চা হাড্ডিগুড্ডি ভেঙ্গে পুঙ্গার মধ্যে দিয়ে অস্ত্র দিয়ে চালান দিয়ে দেব” তুই কিসের সাংবাদিক তোর শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু। তুই একটা ভুয়া সাংবাদিক তোর মতন সাংবাদিক আমার লাগেনা। তুই জানিস খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেক্রেটারি আমার ভাই ভাই করে। তুই কেন শ্রীমন্ত অধিকারী রাহুলের ছেলেদের বিরুদ্ধে নিউজ করিস? কেউ এমন নিউজ করে না তুই কেন করিস? সারা জীবন জেলে ঢোকাই পচাবো। পাশে থাকা এসআই আলামিন বলেন, জাবুসা কেন পুরো খুলনায় আমার লোক আছে আমি যদি চিন্তা করি তুই শেষ হয়ে যাবি আমার লোকেরা তোকে খেয়ে ফেলবে। কেন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ওখানে আমি গিয়েছিলাম অভিযান আমরা করেছি তাতে কি হয়েছে।
আমরা অপরাধ করলেও ওদের বাপেরও সাহস নেই আমাদের কথা বলার। এক আসামীকে আমি ধরে ছেড়ে দিয়েছি তাতে তোর সমস্যা কি? তুই নেতাকর্মি বা স্থানীয় লোকজনের পেছনে কেন লাগিস? কেন নিউজ করবি এটা বল? তোকে কে তথ্য দিয়েছে এটা বল। তোর বিরুদ্ধে দেশের সকল প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা লাগিয়ে দেব। তোর কোথা থেকে কি করে দেই সেটা শুধু দেখতে থাক। ভুক্তভোগীর সাথে থাকা সুমন শেখকে অশ্লীল ভাষায় মা বাবা তুলে তাকে গালিগালাজ করে তার জীবন শেষ করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে পরদিন সাংবাদিক নেতা ও তথ্য প্রমাণ নিয়ে কার্ড নিয়ে আসতে বলে সাময়িক সময়ে বাড়ীতে পাঠালেও পরদিন থেকে পুনরায় ডিবি পুলিশের এস আই আলামিন আমাকে ০১৮২২-৩৮৫৭৮৮ নাম্বার থেকে আমাকে বারবার কল দিয়ে তথ্য প্রমাণ নিয়ে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। কোন উপায় না পেয়ে সম্পাদক স্যারের সাথে কথা বলতে ঢাকায় আসার পর ডিবি পুলিশের এস আই আলামিন পুনরায় আমাকে তথ্য প্রমাণ নিয়ে ডিবি অফিসে ডাকেন তাঁর নাম্বারে কথা বলতে এসআই ইমরুল করিম যার মোবাইল নাম্বার ০১৭১৭-৪৩৮৯৮৮ তিনি হোয়াটসঅ্যাপে আমাকে বিভিন্ন কায়দায় হুমকি দিয়ে ভয় ভীতি প্রদান করে হয়রানি করেন।
এ বিষয়ে খুলনা জেলা পুলিশ সুপারকে পুরো বিষয়টি সংক্ষেপে অবগত করলে তিনি এ বিষয়টি কিছুই জানেন না বলে ফোন কলটি তিনি কেটে দেন। প্রশ্ন হলো যেখানে কারো নাম বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করে ফেসবুকে মাত্র একটি স্ট্যাটাসে খুলনা ডিবি পুলিশের এতো গা জ্বালা সহ ঘুম হারাম কেন? প্রথমে অস্বীকার করল পরে সব কিছু স্বীকার করলো তাহলে কি তারা সত্যিই অপরাধী। তা না হলে সাংবাদিকের সাথে তাদের এমন আক্রমনাত্তক আচরন কেন? গত জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত সংবাদ প্রকাশ করে কেন ঘরছাড়া? সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে ডিবি পুলিশের গায়ে কেন আগুন জলে? সেখানে ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজি করা সন্ত্রাসী রাজু বাহিনীর রাজু, রনি, ফয়সাল, মানিক এদের বিরুদ্ধে কেন পুলিশ কোন পদক্ষেপে যায় না?
স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় এতো নিউজ করার পরও কোন পদক্ষেপ কেন পুলিশ নিতে পারছে না? তাহলে কি গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদের মূল্য নেই? খুলনা ডিবি পুলিশ তারা আসলে কি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত সহ মিথ্যা মামলার হুমকি দমকি দিয়ে সাংবাদিকের কলম রোধ করতে চাচ্ছে? যেখানে ডিবি পুলিশের কাছে একজন পেশাদার সাংবাদিকের নিরাপত্তা নেই সেখানে সাধারন মানুষের নিরাপত্তা কোথায় সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। সর্বশেষ গত ২১/০৪/২৪ ইং তারিখে ভুক্তভোগী ঐ সাংবাদিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ প্রধান সহ একাধিক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং গত ০৫/০৫/ ২৪ ইং তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে কোন প্রতিকার না পেয়ে অভিযোগ ওঠা খুলনা ডিবি পুলিশের ওসি নাসির উদ্দিন,এস আই ইমরুল করিম, এসআই আলামিন এবং এএসআই রাজকুমার এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

