খুলনায় নির্বাচনী সহিংসতায় সন্ত্রাসী হামলায় মামলা হলেও দুর্ধর্ষ রাজু ধরা ছোঁয়ার বাইরে

0
202

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
খুলনার রূপসা উপজেলা নির্বাচনে দোয়াত কলম প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী এসএম হাবীব ও পরাজিত প্রার্থী কাপ পিরিচ প্রতীক সরদার ফেরদাউস আহমেদ এর অনুসারীদের মধ্যে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিজয়ী প্রার্থীর কতিপয় দুষ্কৃতকারী তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সচল রাখতে যেভাবে বাইক নিয়ে খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়ে ত্রাস সৃষ্টি করে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জাহির করার জন্য অত্র অঞ্চলের চিহ্নিত গডফাদার রাজু বাহিনীর প্রধান রাজুর নেতৃত্বে সেদিনও ১০/১২টি মোটরবাইক সহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে আসে। যখন তারা জাবুসা স্কুল মাঠ সংলগ্নে পৌঁছে তখন পরাজিত প্রার্থীর কর্মীদের সাথে গালমন্দ করে মারধর করতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বিজয়ী প্রার্থীর অনুসারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনী পরাজিত প্রার্থীর অফিস ভাংচুর করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষই বেশ গুরুতর আহত হয় এবং তখন দু’পক্ষের আহতরা খুমেকে ভর্তি হয়। বটিয়াঘাটা থানার এজাহার সূত্রে জানা যায়,পরদিন ০৬/০৬/২৪ ইং তারিখে রাজু বাহিনীর রাজু সহ বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে পরাজিত প্রার্থীদের হত্যা করতে আসছে এমন খবর পেয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে একটি ভাড়া করা মাইক্রোবাস যোগে জাবুসা থেকে ভুক্তভোগীরা বটিয়াঘাটার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথিমধ্যে বটিয়াঘাটার আমিরপুর ইউনিয়নের নারায়ণখালীতে ১০/১২ টি মোটরসাইকেলে ২০/২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাইক্রোটির পথিমধ্যে গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা করে এলোপাতাড়ি ভাবে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে যখম করে। এতে ঘটনাস্থলে একাধিক ব্যক্তি রক্তক্ষরণ হয়ে অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয় জনতা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দিলে বটিয়াঘাটা থানাধীন বাইনতলা পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ জখমীদের উদ্ধার করে স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে গেলে রোগীদের অবস্থা ভয়ানক খারাপ দেখে দ্রুত খুমেকে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। তখন ভুক্তভোগীরা উপস্থিত পুলিশের সহায়তায় খুমেকে ভর্তি হন।

Advertisement

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অধিকাংশ ভুক্তভোগীরা এখনো চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় অনেকেরই দেহের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমনকি অঙ্গ হানির মত ঘটনা ঘটেছে। পরে জাবুসা গ্রামের মোঃ হবি শেখের স্ত্রী মোছাঃ হাওয়া বেগম বাদী হয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজু বাহিনীর রাজুকে ০১ নং আসামি করে ২৪ জন আসামিসহ আরো ১০/১২ জনকে অজ্ঞাতনামা দিয়ে গত ০৮/০৬/২৪ ইং তারিখে বটিয়াঘাটা থানায় একটি মামলা করেন যার মামলার নাম্বার ৫। উক্ত মামলায় ৭ নং আসামি হুকুমদাতা মিজানুর রহমান কে ০৮/০৬/২৪ ইং তারিখে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ রুবেল হোসেন গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করলেও মামলার প্রধান আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রাকিবুল ইসলাম রাজু এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

নামমাত্র দারোয়ান আসলে সে এলাকায় ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি, মাদক নিয়ন্ত্রণ সহ একাধিক অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত বলে একাধিক ভুক্তভোগীরা জানান। তার বিরুদ্ধে বিগত দিনে একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও তার কোন পতিকার জনগণ আজও দেখতে পাইনি। বর্তমানে এই রাজু বাহিনীর কাছে এলাকাবাসীর কেউ এখনো নিরাপদ নয়। তাই অনতিবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগীরা। তারা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য এর মদদে তার পিএস পরিচয় দানকারী শামছুল আলম বাবু’র সহযোগিতায় শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজু ও রনির নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী চক্র অত্র অঞ্চলে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজি, ছিনতাই,চোর সিন্ডিকেট, মাদক কেনাবেচা তাদের প্রধান কাজ। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে তাদের রয়েছে সখ্যতা। তার বাহিনীর মধ্যে রনি,ফয়সাল,মানিক, জিয়া,বাধন, রিমন অন্যতম।

তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে গেলে মারধর ও মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়। ইতিমধ্যে রাজু বাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী পৃথকভাবে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা যায়। গ্রামবাসী এটাও বলেন, এমপি সাহেবের লোকজন সকলেই যে খারাপ তা নয়। তবে এমপির পত্নী এই বাবুকে অবৈধ কর্মকান্ডের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। জানিনা এতে তাদের স্বার্থ কি? ধানের ভেতর যেমন আগাছা থাকে সেটা পরিষ্কার না করলে যেমন ধান ভালো হয়না তেমনি এই ২/১ জন লোকের কারণে এমপি সাহেবের মান সম্মান ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি’র মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন, আমরা একজনকে গ্রেফতার করেছি বাকি আসামিদের মধ্যে অনেকেই বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনে অবশিষ্ট আসামিদের রূপসা থানা পুলিশ সহ ডিবি পুলিশ খুঁজছে। তাদের দেখা মাত্রই গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here