কামরুল হাসানঃ ঢাকার নিকটবর্তী সাভার ও ধামরাই উপজেলায় বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুপুর সাড়ে ১২টায় গিয়ে দেখা গেল, একটি কক্ষে ঝাড়ু দিচ্ছিলেন একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বেঞ্চগুলো গোছানো। বারান্দার সামনে আঙিনা পরিষ্কার করছেন আরও একাধিক কর্মী।ভাঙা দরজা-জানালা মেরামতের চিত্র দেখা গেছে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। পাঠদানে প্রস্তুত রয়েছেন স্ব-স্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে দেড় বছর বন্ধের পর আগামী রোববার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার ঘোষণায় এমন প্রস্তুতি চলছে। বৃহস্পতিবার সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিজ কার্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুই উপজেলায় মোট ২৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যার মধ্যে সাভারে ১২১টি এবং ধামরাই উপজেলায় ১৭১টি।
সরেজমিনে ধামরাই উপজেলার গোয়ালদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে পুরোদমে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক শাহ মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান জানান, সরকার ঘোষিত নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য কমিটি করা হয়েছে। কীভাবে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে,শিক্ষার্থীরা কতটা দূরত্বে বসবে, এসব বিষয়ে স্কুলের সকল সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন সরঞ্জামাদিও কেনা হয়েছে।
তিনি আরোও বলেন, ‘স্কুল খোলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। আমরা সকল শিক্ষকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেরাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন।’
উপজেলার তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষিকা শুকরিয়া জাহান বলেন, “দীর্ঘদিন পর বাচ্চারা স্কুলে আসবে। বিদ্যালয় আঙিনায় তাদের ছোটাছুটি হবে। এই দৃশ্য আমার চোখে ঈদের আনন্দের মতো। তাদের কলকাকলীতে আকাশ বাতাস ভরে উঠবে। বিদ্যালয় ফিরে পাবে সেই চিরচেনা পুরাতন পরিবেশ। নতুন প্রেরণা, আবেগ ও উচ্ছ্বাসকে নতুন মাত্রা দেওয়ার মতো। ছোট ছোট বাচ্চারা জুতা পায়ে, স্কুল ড্রেস পরে আবার স্কুলে আসবে। সেইসবে প্রাণ ফিরে পাবে আমাদের বিদ্যালয়।”
এদিকে সাভার ডেইরী ফার্ম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা আতিয়া সুলতানা জানান, স্কুল খোলার খবরে শিশুরা খুব খুশি। তারা স্কুলে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেকেই আবার দলে দলে স্কুলে এসে দেখে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় সাভার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী সঙ্গে, তিনি বলেন “আলস্য সময় পার করার পর অধীর আগ্রহে থাকা আমাদের প্রিয় শিক্ষকরাও বিদ্যালয়ে পাঠদানে ফিরছেন। এটা সবচেয়ে বড় ও খুশির সংবাদ। এজন্য আমাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের কিছু বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ জন্য বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার ও বাইরের পানির টেপগুলো ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাবহারের জন্য হ্যান্ড স্যানেটাইজারের ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে।”
এবিষয়ে সাভার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাবশিরা ইসলাম লিজা জানান, ‘সারা দেশের মতো এই উপজেলাতেও সরকারি নিদের্শনা মেনে শিক্ষকদের স্কুল খোলার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। শিক্ষকেরা নিজেরাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন।
এরইমধ্যে উপজেলার ১২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে একাধিক মিটিং করা হয়েছে।পাশাপাশি আমি নিজে এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারাও বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেছেন।

