কোটা সংস্কার ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ জুনায়েদ

0
229

মাহবুবুর রহমান খান : জাতীয়তা বাদী শ্রমিক দলের সক্রিয় কর্মি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানাধীন আমিরগন্জ ইউনিয়নস্হ দক্ষিণ মির্জানগর গ্রামের দিনমজুর আনোয়ার হোসেন এবং হালিমা দম্পতির  বড় ছেলে ছিল জুনায়েদ। জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯৯৭সন। তার পিতা আনোয়ার হোসেন জানান, তার ৩ পুত্র সন্তান এবং এক কন্যা সন্তান ছিল। জুনায়েদ সবার বড়। তারপরে কারিমা খাতুন নামে এক কন্যা সন্তান ছিল। গত করোনা মহামারির সময় পিত্ততলিতে পাথর হয়ে সে মারা যায়। অপর দুই পুত্র সন্তানের নাম আরিফুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম। অতি দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় তার ভাগ্যে পড়া লিখার সুযোগ হয়নি। কোন রকমে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে জীবন  জীবিকার তাগিদে রাজধানী ঢাকা শহরে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতো। থাকতো মিল্ক ভিটা, সেকশন-১০ ব্লক-ডি  মিরপুর সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় ছোট ভাই আরিফুল (২৪) কে নিয়ে মেস ভাড়া করে। ছোটভাই, আরিফুল ও  ট্রাকের হেলপার হিসাবে কাজ করে। দেশে কোটা সংস্কার ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাশাপাশি হাসিনা সরকারের পতনে যখন সারা দেশে  গণ বিপ্লব শুরু হয় তখন জুনায়েদ অটোরিকশা চালানো বাদ দিয়ে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের একজন কর্মী হিসাবে মিছিলে যোগদান করে। শহীদ জুনায়েদ এই আন্দোলন মিছিলে দু,বার গুলি বিদ্ধ হয়। প্রথম বার বেঁচে গেলেও দ্বিতীয়বার তার শেষ রক্ষা হয়নি। গত ২৫ জুলাই মিছিলে থাকাকালীন কল্যানপুর এলাকায় তার ডান পায়ে  রাবার বুলেটের ২ টি গুলি লাগে। তার পর পা থেকে প্রথম বার রাবার বুলেট বের করতে সক্ষম হলেও দ্বিতীয়বার মাথায় আঘাত করা রাইফেল এর গুলিতেই জুনায়েদ শাহাদাত বরণ করে।

Advertisement

প্রথম বার তার পা থেকে গুলি বের করার পর কিছুটা সুস্থ্য হলে আবারো ৪ আগস্ট রাজধানী ঢাকা শহর যখন হাসিনা সরকারের অপসারণ দাবিতে মিছিলের জনসমুদ্রে পরিনত হয় জুনায়েদ তখন সেই মিছিলের অগ্রভাগে থাকায় মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সরকারের পুলিশ বাহিনী যখন বেপরোয়া ভাবে মিছিলকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকে তখন জুনায়েদ এর মিছিলটি দুপুর ২ ঘটিকায় মিরপুর আইডিয়াল কলেজ অতিক্রম করার সময় পুলিশের রাইফেল থেকে ছোড়া ২ টি বুলেট তার মাথায় আঘাত হানে এবং মস্তক ভেদ করে পিছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়।অন্যান্য সাথীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় আগারগাঁও নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার মাথা থেকে প্রচুর রক্ত ক্ষরনের ফলে রাত ১২ টা ৩০ মিনিটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।রচিত হয় দ্বিতীয় স্বাধীনতার রক্তক্ষয়ী ইতিহাস।

পরদিন ৫ আগস্ট তার মৃত দেহ বাড়িতে আনার পর জোহর নামাজের পর তাকে দক্ষিণ মির্জানগর তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, মৃত্যুকালে জুনায়েদ মরিয়ম নামে ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রেখে যায়। তার বাবা আনোয়ার হোসেন এই প্রতিনিধিকে জানান, জুনায়েদ ২০২০ সালে নরসিংদী, চালাকচর গ্রামের হাফছা খাতুনের সংগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তিটির অকাল মৃত্যুতে তার কন্যা সন্তান টি নিয়ে বর্তমানে নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছে স্ত্রী হাফছা খাতুন সহ বাবা আনোয়ার হোসেন।

জুনায়েদ এর অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে দক্ষিন মির্জানগরের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সংগঠক, প্রতিভা টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট নরসিংদীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শর্ট কোর্স ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের প্রধান সমন্বয়ক মো: নাসিরুদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, এই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জুনায়েদ তার বুকের তাজা রক্ত দিয়ে লিখে গেছে দ্বিতীয় স্বাধীনতার ইতিহাস।

এই তরুন শহীদ বীর কে আমি স্যালুট জানাই। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্বিতীয় স্বাধীনতার অকুতোভয় বীর সৈনিক জুনায়েদ কে যথাযথ মূল্যায়ন করে তার অসহায় পরিবারটিকে এক কালীন নগদ অনুদান দিয়ে পুনর্বাসিত করার পাশাপাশি তার স্মৃতি রক্ষার্থে নরসিংদী আরশীনগর অটোরিকশা স্টেণ্ড থেকে শুরু করে মণিপুরা বাজার পর্যন্ত সড়ক টিকেশহীদ জুনায়েদ সড়ক নামে স্বীকৃতি দিতে জেলা প্রশাসক নরসিংদীর প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here