সুলতান মাহমুদঃ কোটাবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের যানবাহন ভাঙচুর, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং মারধরের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।
১২ জুলাই শুক্রবার রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের পরিবহন বিভাগের এপিসির চালক কনস্টেবল খলিলুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় এ মামলা করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আশরাফুল বলে, কোটাবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের যানবাহন ভাঙচুর, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ জুলাই কোটা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত আন্দোলনের কর্মসূচি ছিল। সে অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অজ্ঞাত পরিচয় ছাত্ররা জড়ো হয়ে বিভিন্ন হলের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে বিকাল ৪টার সময় স্লোগান দিতে দিতে শাহবাগ মোড়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় অতিক্রম করে বেআইনি জনতায় আবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি করে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে। তারা শাহবাগ মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে ও পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের মারধর করে সাধারণ জখম ও অশোভ আচরন করে।
পরে তারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা ছাত্রদের বুঝিয়ে শুনিয়ে পুনরায় শাহবাগ মোড়ে ফিরিয়ে আনতে যায়। এ সময় বিএসএমএমইউয়ের পাশে নিরাপদ স্থানে রাখা এপিসি-২৫ ও ওয়াটার ক্যাননের চারদিকে ঘেরাও করে আন্দোলনকারীরা উঠে উদ্দাম নৃত্য শুরু করে। তারা ওয়াটার ক্যানন চালককে গাড়ি থেকে জোর করে বের করার চেষ্টা ও গতিরোধ করে। এর ফলে এপিসি-২৫ এর সামনের দুইটি এসএস স্ট্যান্ড, বনাটের ওপরে বাঁ পাশে রেডিও অ্যান্টেনা এবং ডান পাশের পেছনের চাকার মাডগার্ড এবং ওয়াটার ক্যাননের বাঁ পাশের লুকিংগ্লাস ভেঙে আনুমানিক ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে।
বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়ারি করা হয়। ছাত্রদের অন্য সিনিয়র কর্মকর্তারা বুঝিয়ে শুনিয়ে এপিসি-২৫ ও ওয়াটার ক্যানন থেকে নামিয়ে আনে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে পানির বোতল, টেপটেনিস বল ও ইটের টুকরা ছুড়ে মারে। এতে অনেক পুলিশ সদস্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়। একপর্যায়ে অজ্ঞাতপরিচয় ছাত্ররা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহবাগের আন্দোলনে যোগ দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বারডেম হাসপাতালের গেটের ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশ সদস্যদের আহত করে। তারা পুলিশকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করে।
বিবাদীরা বেআইনিভাবে জড়ো হয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি করে সরকারি কাজে বাধা দেয়। তারা স্বেচ্ছায় আঘাত করে, গতিরোধ, দাঙ্গা দমনকারী কর্তব্যরতদের প্রতি আক্রমণ ও বাধা দিয়ে ক্ষতিসাধন করে।

