ষ্টাফ রিপোর্টারঃ রাজধানী ঢাকার সীমানা ঘেষা, তুরাগ ও কর্নতলী নদী দ্বারা বেষ্টিত ছোট্ট একটি জনপদ কাউন্দিয়া ইউনিয়ন। সাভার উপজেলাধীন ১২ টি ইউনিয়নের মধ্যে এটি একটি। সেই প্রাচীনকালে গড়ে ওঠা এই জনবসতির বাসিন্দাদের অধিকাংশই তাদের জীবিকা নির্বাহ করে কৃষিকাজের মাধ্যমে। শহরের ব্যাস্ততা আর সকল ঝঞ্জাট এড়িয়ে আমিনবাজার হতে অসংখ্য অলি-গলি আর ছোট্ট কর্নতলী নদী পাড়ি দিয়ে অপরাধ বিচিত্রা প্রবেশ করে শহরের খুব কাছে নদীর কিনারায় অবস্থিত সবুজে ঘেরা ছোট্ট এই জনপদে। দারুন ভালো লাগা আর প্রশান্ত মনে গ্রামটিতে প্রবেশ করলেও অসহায় কিছু মানুষের কান্না সেই প্রশান্তিকে দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি। তাদের কান্নার কারন জানতে চাইলে যে শব্দগুলো কানে ভেষে আসে তা ছিল, ”সুবিচার নিশ্চিত করুন, নতুবা গুলি করে হত্যা করুন একের পর এক মিথ্যা মামলা, সন্ত্রাসী হামলায় আমরা অতীষ্ট, এর চেয়ে মৃত্যুও অনেক সুখের”। কথাগুলো বলছিলেন ঐ গ্রামেরই এক বাসিন্দা তারাবানু (৪৬)। সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন ও অনুসন্ধানে জানা যায়, কাউন্দিয়া ইউনিয়নের কুমারবাড়ী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা তারা বানু ও তার ৫ বোন। পিতা ইসমাইল মাতবর মারা গিয়েছেন তা প্রায় ২২ বছর। ৯ বছর পূর্বে মায়ের মৃত্যূর পর তারা ৬ বোনই দখলে রয়েছেন পেত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত সকল সম্পত্তির। কিন্তু হঠাৎ করেই ঘটে বিপত্তি। একদিন জমির খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে জানতে পারেন তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির প্রায় ১ একর ৪৮ শতাংশ জমি রেকর্ড হয়েছে অন্য কারো নামে। অবশেষে জমির নাম খারিজ সংশোধন করতে ০৯ই সেপ্টেম্বর ২০১৩ সনে আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবার (মামলা নং-৪৬৮/১১)। এর পর থেকেই এই পরিবারটিকে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করতে উঠে পড়ে লাগে একটি মহল। প্রথমত হুমকি ধামকিতে কাজ না হওয়ায় অবশেষে বিপক্ষীয় দল বেছে নেয় সন্ত্রাসীপথ। এরই ধারাবাহিকতায় রাতের অন্ধকারে গত ১৩ই মার্চ ২০১৬ইং রাতের আধারে পরিবারের সকল সদস্যের উপর সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। কুপিয়ে জখম করা হয় ঐ পরিবারের ৪ নারী সদস্যকে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মৃত ইসমাইল মাতবরের কন্যা তারাবানু মৃত লালু খলিফার ছেলে ভুমিদস্যু শাহজাহানকে প্রধান আসামী করা সহ ১০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করলে (সাভার মডেল থানার মামলা নং-১৩, তাং-১৭/০৩/১৬) ক্ষুব্ধ হয়ে তার কিছুদিন পরই পাল্টা একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে আসামীরা। আশ্চর্যজনক ভাবে পুলিশও যেন পাশ কাটিয়ে গেছে এই অসহায় পরিবার থেকে। তারাবানুর করা মামলায় চার্জশিটে আশ্চর্যজনক ভাবে অব্যহতি দেওয়া হয় একাধীক আসামীকে। এরপর থেকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জর্জরিত পরিবারটি। একদিকে সন্ত্রাসী হামলা, সন্ত্রাসী বাহিনীর হুমকি-ধমকি, আরেকদিকে মিথ্যা মামলার জাল, সব মিলিয়ে যেন মড়ার উপর খাড়ার ঘাঁ ! এসকল ঘটনার বিষয়ে ঐ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা তাদের এই অসহায় জীবনাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পুলিশ বাহিনী সহ প্রশাসনের উর্দ্ধত্বন কর্তৃপক্ষ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করেন। অন্যথায় এভাবে চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই হয়তো অসহায় ৬ বোনের এই পরিবারটি সন্ত্রাসী-ভুমিদস্যুদের গ্রাসে পরিনত হবে যখন হয়তো তাদের রক্ষার আর কোন পথই খোলা থাকবে না।

