চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ০৫ টি থানা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম ১১ আসন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ন ০৩ টি থানা বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা থানা, এই ৩টি থানার মধ্যে ওয়ার্ড রয়েছে অনেক। বেশি লোক সঞ্জামের স্থান হলো ৩৮, ৩৯ ও ৪০ নং ওয়ার্ড। এই তিনটি ওয়ার্ডেই সম্রাজ্য চালাচ্ছে বরিশাইল্লা এমাদুল (এমাদুল পরাজী) (৩৫), পিতা: আব্দুল জব্বার ফরাজী, সাং-বালুর মাঠ, প্রাথমিক মেরামনি বাড়ী, থানা: মোংলা, জেলা: বাগেরহাট, বর্তমান ঠিকানা: বেপজা রেললাইন উত্তর গেইট, রাজু কলোনী থানা: ইপিজেড, জেলা: চট্টগ্রাম। সে দীর্ঘ দিন যাবৎ জুয়া, মাদক ও পতিতা ব্যবসা করে আসছে তাও প্রশাসনের নাকের ডগায়। তার বিরুদ্ধে বন্দর ও ইপিজেড থানায় বিভিন্ন অভিযোগ বা মামলা থাকলেও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। এলাকাবাসী বলেন তার একটি কারণ তার মাথার উপরে উপর মহলের নেতাদের হাত আছে। সে স্থানীয় কিছু নামকরা জমিদার বংশের লোকবল দ্বারা তার এইসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ দিন। তার এই সব কর্মকান্ড থেকে রেহাই পাচ্ছে না সামান্য গার্মেন্ট কর্মী থেকে কোটি টাকার মালিক পর্যন্ত। তার আছে ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোড, সিইপিজেড ২য় গেইট লটারী খেলা নামে আর একটি প্রতারনা ব্যবসা। সেটি পরিচালনা করে দাঁত ভাঙ্গা জাকির (ট্যাবলেট জাকির)। তার বিভিন্ন জায়গায় জুয়ার আসর ও মাদক বিক্রয়ের আস্তানা রয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়। বন্দর ও ইপিজেড থানা এলাকার অবস্থিত হোটেল মুন আবাসিক এ মাদক এর বড় বড় গডফাদারেরা তার সাথে লেনদেন করার জন্য ব্যবহার করেন। কয়েকদিন আগেও তার একজন ইয়াবা পাচারকারী ইপিজেড থানায় গ্রেফতার হয়। টাকার বিনিময়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। তার আর একজন মহিলা সহযোগী রয়েছে যাহার নাম ঝুমুরের মা বলে কলসী দিঘীর রেল লাইন এলাকায় সু-পরিচিত। তার উক্ত মাদক, জুয়া ও পতিতা ব্যবসার সাথে যারা জরিত রয়েছে নিম্নে তাদের নাম উল্লেখ্য করা হল:
১। ডাবলমুরিং এলাকার মোহাম্মদ আলী উরফে হাত কাটা আলী। বন্দর থানার দক্ষিণ হালিশহর পুলিশ ফাঁড়ি ১০০ গজ পাশেই রয়েছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং ৩৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মো: সাহাবুদ্দীন, কিছুদিন আগেও সে বন্দর থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। তার মরনব্যধী ইয়াবা ব্যবসার বিশ্বস্ত সহযোগীরা হলেন মো: সাব্বির ওরফে বাবা ছাব্বির, মো: আল আমিন, মো: সলু প্রকাশ বাঁশখাইল্লা সলু এবং উপরে উল্লেখিত ঝুমুরের মা। তার বিরুদ্ধে গত ১২/০৩/২০১৯ ইংরেজী তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯ (৩) মামলা রুজু হয়। এই মামলার ২য় আসামী হাসান মিয়া (৩২), পিতা-জব্বার মিয়া, সাং-শরনখোলা, বাংলা বাজার, থানা: শরনখোলা, জেলা: বাগেরহাট, বর্তমানে সে জয়নাল মিয়ার বিল্ডিং, কার্টুন ফ্যাক্টুরী, থানা: বন্দর, জেলা: চট্টগ্রামে বসবাসরত রয়েছে। তার শুধু এই শেষ মামলাই নয় তার বিরুদ্ধে মাদক জুয়া ও পতিতা ব্যবসা ও নারী পাচার কারীর অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন থানায়। খোজ নিয়ে জানা গেছে কতিপয় মাদক ব্যবসায় পুলিশের সোর্স, থানার কতিপয় ক্যাশিয়ার, সন্ত্রাসী ও সদ্য বেড়ে উঠা রাজনৈতিক নেতারা তাকে সেল্টার দেয় বলে জানা যায়। তার ফেইজবুক পেইজে সে এতো বড় একজন মাদক, জুয়া ও পতিতালয় ব্যবসায়ী হয়া সত্বেও তিন তিন বার নির্বাচিত এমপি মহোদয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় তোলা ছবি পাওয়া গেছে। এই ছবি নিয়ে এলাকার কিছু সম্মানি ব্যক্তিবর্গ জানান কিসের এতো ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব এমপি মহোদয়ের সাথে। তার এইসব কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহলের কাছে অভিযোগ করলেও তাতেও কোন সারা মেলেনি এবং তাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রশাসন মহল। সবাই তার টাকার কাছে বিক্রিত। এই নিয়ে ৩৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মুঠো ফোনে কথা বল্লে তিনি জানান এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনিও উক্ত অভিযুক্ত অপারাধীর কাছ থেকে প্রতি মাসে ও দৈনিক হারে মাসোহারা পেয়ে থাকেন। ৩৮ ও ৩৯ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় কিছু সম্মানী লোকজন জানান তার এইসব অপকর্ম যদি নাগাল টেনে ধরতে না পারে তাহলে ভবিষ্যতে স্কুল ও কলেজ পড়–য়া ছাত্ররা জুয়া ও মাদকের সাথে জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। তারা প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধক্রমে জানান যে, অতি সত্তর তাকে আইনের আওতায় আনা হোক। আগেও দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় তার এই অপকর্মের সংবাদ আসলেও তাকে কোন সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় নাই। সে প্রশাসনকে তার নিজের কর্মচারী হিসাবে ব্যবহার করে বলে সে জানায়। সে আর বলে টাকা হলে সবাই বাপ ডাকে।

