সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঞ্চে বসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতারা। অধিবেশন সঞ্চালনাকারী দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ মাইকে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্মেলনে এসেছেন।
রংপুর জেলার কাউন্সিলর হিসেবে অধিবেশনে যোগ দেন জয়। তিনি সম্মেলনস্থলে পৌঁছে কাউন্সিলরদের প্রথম সারিতে বসেন। তখন কাউন্সিলর-ডেলিগেট এবং অন্য নেতাকর্মীরা একযোগে বলতে থাকেন জয়কে মঞ্চে চাই। সবার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এক পর্যায়ে মঞ্চে যেতে বাধ্য হন জয়। মঞ্চে যাওয়ার পর মা শেখ হাসিনা তাকে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র বলে পরিচয় করিয়ে দেন। জয় সবার উদ্দেশে হাত নেড়ে মঞ্চের পেছনের সারিতে বসতে উদ্যত হন। কিন্তু দলের কেন্দ্রীয় নেতারা কেউই তাকে পেছনে বসতে দিতে রাজি নন। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জয়কে হাত ধরে তার পাশের আসনে বসার অনুরোধ করেন। দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফও একই অনুরোধ করলে জয় সেখানে বসে পড়েন। কিন্তু বসার আগে তিনি বারবার যুক্তি তুলে ধরেন যে, এটি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সারি। তিনি শৃংখলা রক্ষার্থে এখানে বসতে পারেন না। জয় বসার পর বিষয়টি সবাইকে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সমবেতদের উদ্দেশে বলেন, জয় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সারিতে বসতে চাচ্ছিল না। সে দলের শৃংখলা মেনে চলে এবং এটাকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু সবার অনুরোধে আর যেহেতু বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র তাই তাকে সামনের সারিতেই (প্রেসিডিয়াম সারি) বসতে হয়েছে। জয়কে কেন্দ্রীয় কমিটিতে চান তৃণমূল নেতারা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আনার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। সম্মেলনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে যে ডিজিটাল বিপ্লব হচ্ছে এর রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয়। আমরা তাকে নেতৃত্বে দেখতে চাই। বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দীন বলেন, রাজশাহী বিভাগের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে আগামী দিনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সজীব ওয়াজেদ জয়কে দেখতে চাই। তিনি জানান, জয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসুক সেটা তৃণমূলের একান্ত দাবি। মমতাজ উদ্দীন বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয় দেশের জন্য কাজ করছেন। তাকে দলীয় নেতৃত্বে আনলে দল ও দেশ উপকৃত হবে।’ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুচ ছালাম বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটিতে চাই।’ বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ধীরেন্দ্র নাথ সম্ভু বলেন, ‘জয়ের দিকে তাকিয়ে আছে সারা বাংলাদেশ। আমরা তাকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে চাই।’ খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হারুনুর রশীদ বলেন, আমি ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে গিয়েছি। সেখানে সবাই জয়ের প্রশংসা করেছেন। তিনি আইসিটি খাতের পাইওনিয়র। আমরা আগামী দিনে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে চাই। এ সময় তিনি উপস্থিত কাউন্সিলর-ডেলিগেটদের উদ্দেশে বলেন, কী ভাই আপনারা চান কিনা? উপস্থিত সবাই হাত তুলে তাকে সমর্থন করেন।
