কাঁদে নদী দেখার নেই কেউ! প্রান আরএফএল গ্রুপের দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে শীতলক্ষ্যা নদী!

0
1469

মাহবুব সৈয়দ ঃ
নানা যাতনায় দখল আর দূষণের যন্ত্রনায় দেশের নদী গুলি কাঁদে! অনেকে ভাবতে পারেন? নদী আবার কাঁদে না কি। সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর কাঁদো নদী কাঁদো যারা পড়েছেন তারা জানেন! সেখানে এক নদীর কথা আছে গভীর রাতে নদী কাঁদে! সেই কান্না কেউ শুনতে পায় আবার কেউ পায় না। গল্প, উপন্যাস কবিতায় নদীর কান্না শোনা গেলেও বাস্তবে সম্ভব নয়। তাই নদীর কান্না কেউ শুনতে পায় না। বাঙ্গালী জীবনের শিল্প, সাহিত্য-ব্যাবসা-বানিজ্য সব কিছুতেই জড়িয়ে আছে নদী। প্রতিটি সভ্যতাই গড়ে উঠেছে কোন না কোন নদীর তীরে। নদী মানুষের নিস্বতরঙ্গ জীবনে দিয়েছে গতিশীলতা! অথচ সেই নদীই আজ অযতেœ অবহেলায় মরে যাচ্ছে। কোথাও নদী আছে নামে মাত্র! নেই স্রোত, নেই গভীরতা-মানুষের সীমাহীন লোভের কাছে হার মেনে দেশের নদ নদী গুলি ধুকে ধুকে মরছে। চলছে নদী দখলের মহা উৎসব। রাজধানীর বুক চিরে ভয়ে চলা শীতলক্ষ্যা নদী নরসিংদী ও গাজীপুর অংশে নদী পাড় দখলে শীর্ষে রয়েছে দেশের খ্যাতিনামা শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রান আরএফএল গ্রুপ। নদী পাড়ের বিশাল এলাকা জুড়েই রয়েছে এই কো¤পানির মালিকাদ্বিন শতাদিক কারখানা। এমন কি সরকারের কাছ থেকে গু-খাদ্যের কথা বলে ঘোড়াশালের বাগপাড়ায় দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে সেখানে গড়ে তুলেছেন বহুুতল স্থায়ী ভবন। এলাকাবাসী জানান-১৯৯৪ সালের দিকে প্রান কো¤পানি ঘোড়াশাল ঘাগড়া নামক স্থানে ছোট পরিসরে ব্যাক্তি মালিকানা অল্প জমি কিনে সেখানে তিনটি টিনের ঘড় নির্মান করেন। এরপর বর্জ্য ও বালী দিয়ে ধীরে ধীরে নদীটির অর্ধেক অংশ দখল করে নেয়। শুধুমাত্র ঘোড়াশাল অংশেই নদী পাড়ের প্রায়-৪ কিঃ মিঃ এলাকা জুড়েই রয়েছে প্রান আরএফএল গ্রুপের বিভিন্ন শিল্প কারখানা। স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে এই কো¤পানিটি প্রথমে ব্যাক্তি মালিকাদ্বীন সামান্য কৃষি জমি ক্রয় করে পরে বর্জ্য, বালি ও মাটি ফেলে নদীর জমি ভরাট করে কারখানার সীমানা বৃদ্ধি করছে প্রতিনিয়ত যার ফলে শীতলক্ষ্যা আজ খালে পরিনত হতে চলছে বলে অভিযোগ করেন নদী পাড়ের সাধারন মানুষ। অন্যদিকে শান্তান পাড়া নদীর পাড়ে অবস্থিত ক্যাপিটাল পেপার মিল লিমিটেড থেকে পাইপযোগে লাল রঙ্গের বিশাক্ত বর্জ্য সরাসরি শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলা হচ্ছে। কারখানাটিতে প্রায় প্রতিদিন-১২০ টন কাগজ উৎপাদিত হয়। আর প্রতিটন কাগজ তৈরীতে নূনতম ২৫ টন পানি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে প্রতিদিন ৩০ টন পানি (বর্জ্য) শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ইটিভি থাকলেও বেসির ভাগ সময় বন্দ রাখা হয় বলে জানান নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক। শীতলক্ষ্যা দখল ও দূষণের ব্যাপারে ঘোড়াশাল পৌরসভা মেয়র শরীফুল হক বলেন, নদী মানব সভ্যতার ধারক ও বাহক। নদী আমাদের নান্দনিকতার উৎস। শীতলক্ষ্যা নদী আছে বলেই ঘোড়াশাল শিল্প শহরে পরিনত হয়েছে। নদীকে হত্যা করে কোন উন্নয়নই টেকশই হবে না। নদী মানুষের অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। তিনি শীতলক্ষ্যা নদী দখল ও দূষণ থেকে বিরিত থাকতে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের প্রতি আহবান জানান। সভ্যতার ক্লান্ততৃপ্ত জীবনে আর্শিবাদ হয়ে ঝড়ে পড়–ক এই বর্ষা। নদী ফিরে পাক যৌবন শীতলক্ষ্যা মুক্তিপাক দখলধারের ছোঁবল থেকে। নদীর প্রতি অত্যাচার হোক বন্ধ চিরতরে! মাছ ও জলজ প্রানীরা উল্লাস করুক অতিতের মতো।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here