ওসি সরাফত উল্লাহসহ ৩ পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহার

0
820

স্টাফ রিপোর্টারঃ
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (ওসি সার্বিক) সরাফত উল্লাহ, পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আবুল হোসেন ও উপ-পরিদশক (এসআই) ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে আছমা বেগম নামে এক বিধবার জমি দখলে ভূমিদস্যুদের সহযোগিতা ও ওই নারীর স্বজনদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি। ১৬ মে তদন্ত কমিটির প্রধান জেলা পুলিশ প্রশাসনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আছমা বেগমের অপর একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে আরো ৫ দিন সময় বৃদ্ধি করে আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। এ বিষয়টি নিয়ে গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে পুলিশের ভাবমুর্তি নিয়ে র্তীব আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। এর আগে গত ৮ মে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক (পিপিএম) কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। তারই প্রেক্ষিতে ৯ মে দুপুর ৩টায় তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আব্দুর রশিদসহ একটি টিম সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাইনাদী এলাকাস্থ আছমা বেগমের মালিকানাধীন জমিতে গিয়ে আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলেন। এছাড়াও গত কয়েকদিন যাবৎ ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত কমিটি যাচাই করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এদিকে মিথ্যে মামলায় ১৯ দিন জেল খেটে ১৬ মে জামিনে মুক্ত হয় ওই বিধবার ভাই মোঃ আলী ও তার মেয়ের জামাইর কর্মচারী ওমর ফারুক ও ইমরান। জানা গেছে,  ৬ মে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের হানিফ খান মিলনায়তনে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকার মৃত হোসেন আলী সাউদের স্ত্রী আছমা বেগম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তার বাবার ওয়ারিশ সূত্রে সিদ্ধিরগঞ্জে ৪৯ দশমিক ৫০ শতাংশ সম্পত্তি আমরা ৭ ভাই বোন ভোগ করে আসছি। এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসী সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার এলাকা আব্দুল্লাহ আল মামুনের ছেলে সাকিব বিন মাহমুদ (৫০),  মোঃ মহসিন, ও মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে মনির জোর করে ওই সম্পত্তি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে ২৫ এপ্রিল আদালতে পিটিশন দায়ের করা করা হলে আদালত ভূমিতে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জে থানার ওসিকে আদেশ দেন। আমি আদেশের নথি নিয়ে ওইদিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি সরাফত উল্লাহর সঙ্গে দেখা করতে গেলে উল্টো আমার সাথে অশোভন আচরণ করে থানা থেকে বের করে দেয়। পরে জানতে পারি ওসি আগে থেকেই আসামীদের থেকে ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ ছিল। ২৬ এপ্রিল সকাল ১০টায় আমি আদালতের আদেশ নিয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল হোসেনের সঙ্গে দেখা করলে তিনি ওই আদেশ রাখার জন্য আমার কাছে ২ হাজার টাকা গ্রহণ করে। পরে দাবীকৃত আরো ৩ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়াও এসআই জাহাঙ্গীর আলম আমার ভাই আলীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে নালিশা ভূমিতে আসামীদের কাজ বন্ধ করে দেয়। ২ থেকে ৩ মিনিট পর থানার অপর এসআই ফারুক এসে আমার ভাই মোঃ আলী সহ ওমর ফারুক ও ইমরানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তখন তাদের ছেড়ে দিতে এসআই ফারুক ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে এবং ওইদিন রাত ১১ টায় থানার ওসির সঙ্গে দেখা করতে বলে। পরে আমি রাত সাড়ে ১১টায় ৫০ হাজার টাকা সহ আমার বাড়ির কর্মচারী দেলোয়ারকে থানায় পাঠাই। ওমর ফারুক সেই টাকা গ্রহণ করে। তবে ওসি সরাফত উল্লাহ জানান, ৩ জনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টে মামলা দিয়ে জেল খানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ কারাগারে গিয়ে জানতে পারি তাদের ৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মোবাইল কোর্টে মামলায় প্রত্যেকের ৩ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। আছমা বেগম বলেন, ঘটনাটি জানা জানি হওয়ার পর ১৫ মে স্থানীয় এক সংসদ সদস্য ডেকে নিয়ে জমির দখল দেবার কথা বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিতে বলেছিলেন। তিনি আরো বলেন, এরপর ওসি সরাফত উল্লাহও এখন বলছেন যে তার ‘ভুল’ হয়েছিল। এই বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি সরাফত উল্লাহ বলেন, এমপি মহোদয়ের কথায় বৈঠকে বসে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে। এমপি জায়গার কাগজপত্র বের করার কথা বলেছেন, বের করলে তিনি এ বিষয়ে উদ্যোগ নিবেন, আছমা বেগম থানায়ও এসেছিলেন, আমি শুনেছি কাগজপত্র দাখিল করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুদায়িত্ব যার কাঁধে, সেই ওসি (থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করছেন দালালী জমি কেনাবেচা ও বিরোধ নিষ্পত্তির ‘জমজমাট বাণিজ্য’। থানার ভেতরে নিজের রুমে দালালী ব্যাবসা চালাচ্ছে বলে সূত্র জানায়। স্থানীয় জমির দালাল ও জমিসংক্রান্ত মামলায় পারদর্শীরা যোগ দেয়। মূলত ওসি এ চক্রটিকে ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন অনৈতিক বাণিজ্য’ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব না মেলায় ওসির এমন কান্ডে অনেকেই ক্ষুব্ধ।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here