এসআই প্রদীপ কুমার দীপ হিন্দু না ইসলাম ধর্মের?? যাত্রাবাড়ীতে মানবপাচারকারী আটক! রহস্যজনক ভূমিকায় পুলিশ

0
1402

জিয়াউর রহমান ঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় চিহ্নিত নারী পাচারকারী শামিম (৪০) কে আটক করেছে থানা পুলিশ। নারী পাচারকারী শামিমের নামে ও বেনামে যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন থানায় রয়েছে একাধিক মামলা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, শামিমকে যাত্রাবাড়ী থানায় আটকের পর থেকে চলে যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ আনিসুর রহমানের রুমে গোপন তদবির। শামিমের বিরুদ্ধে মানবপাচার মামলা নং ৯২/১৬ আদালতে চলছে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রদীপ কুমার দীপ। শামিমকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া অথবা সাধারন ধারায় আদালতে প্রেরণ করার চুক্তি হয়েছে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই প্রদীপ কুমার দীপের সাথে বলেও জানান থানার অঘোষিত এক রাইটার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসআই প্রদীপ কুমার দীপের বিরুদ্ধে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ। গোপন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে হিন্দু ধর্মবলাম্বি যাত্রাবাড়ী থানার এসআই প্রদীপ কুমার দীপ নিজেকে মুসলিম দাবী করলেও নিজের নাম নাম প্রদীপ কুমার দীপ রয়ে গেছে। কোন এক মুসলিম নারীকে বিয়ে করে বিভিন্ন জায়গায় প্রদীপ কুমার দীপ এখন দ্বীপ মাহমুদ। তবে পুলিশের সার্ভিস বুকে তার নাম হিন্দু ধর্মবলাম্বি (সনাতন) হিসেবে লিপিবদ্ধ। এদিকে নিজস্ব গোত্র থেকে বের হননি এই পুলিশ অফিসার। যাত্রাবাড়ী থানায় আটক শামিমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার বিষয়ে তার কিছুই করার নাই। অফিসার ইনচার্জ এর নির্দেশে মামলাটির ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। আর শামিমকে ধরা ছাড়ার বিষয় দেখবে ওসি যাত্রাবাড়ী। এসআই দ্বীপের বিরুদ্ধে এর আগেও নারীপাচারকারীদের ছেড়ে দিয়ে অপরাধীদের কাছে ভিক্টিমকে তুলে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গুলশান, বনানী, রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, সবুজবাগ, ওয়ারী, বংশাল, বাড্ডা, ভাঁটারা, শ্যামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক কিশোরী মেয়েদের নারীপাচারকারী শামিম বাহিনীর জিম্মায় আটক রেখে চালাচ্ছে পাশবিক নির্যাতন। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিশোরী মেয়েদেরকে নানা প্রলোভন ও কৌশলে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকার অসামাজিক কার্যকলাপ চলা ফ্ল্যাট বাসায় এনে প্রথমে গ্যাং র‌্যাপের শিকার করানো হয়। পরবর্তীতে তাদের নগ্ন ভিডিও এবং ছবি তুলে কিশোরী মেয়েদের পাচারকারীরা ক্রিয়ানক বানিয়ে তাদের দ্বারা জোরপূর্বক করানো হচ্ছে দেহ ব্যবসা (যৌন ব্যবসা)। এ ব্যাপারে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আদালত থেকে তাদের কাছে নারীপাচারকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও এ পর্যন্ত একাধিক নারীপাচারকারীদের গ্রেপ্তার করতেও সক্ষম হয়েছেন তারা। সূত্র জানায়, শামিম বাহিনীর নারীপাচারকারীর সক্রিয় সদস্যরা বনানীর -রবি, দুলাল সোহাগী, সোহেল, ছোট কবির, ইভান রাজা, রামপুরার- সবুজ (সপন চৌধুরী), হাসান, শশী, মতি, নাছির, লিটন, বিউটি, কালাম, রিংকু, মালিবাগের-বাবর আলী, ইমন, সেন্টু, মন্টু, বিপ্লব, খিলগাঁও এর- হায়দার, টিপু হাওলাদার, কবির, হাফিজ, সামাদ, নাজমুল, শাহজাহানপুরের-কবির গাজী, মজিবর, জামাল, খোকন, মানিক, ইসমাইল, সাধিন, শাহিন, মনির, সাবের (সপন), সবুজবাগের- পারুল, সাইফুল, চৌধুরী, সামাদ, চৌধুরী, যাত্রাবাড়ীর-মনির, সাথি, মেঘলা, রফিক, বেল্লাল, বুরা হেমায়েত, সারমিন, লঞ্চ কবির, বর্না, সুমা, হাবিব, তাজু, সান্ত, বিপ্লব, পারভিন, গাজী, নদী, জয়, খালেদা, নাজমা ওরফে জীনের বাদশা নাজমা, শিরিন, আঁখি, মায়া, ওয়ারী- গাজী, সপন, মজিবর, বংশালের রতন, গফুর, মিশন, সুজন, রব, বাড্ডা ও ভাঁটারা এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় নারীপাচার সংক্রান্ত ও মাদক ব্যবসা করে বেড়াচ্ছে কবির, সবুজ, রুবেল, স্বাধীন, মানিক, শাহিন, হায়দার, সাবের ও রবি । তাদের মাধ্যমেই আটকৃত ফ্ল্যাট বন্দী কিশোরী মেয়েদের বিক্রি (পাচার) করে দেওয়া হয় বহিরাগত রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ও পতিতালয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনানী-কাকলী এলাকার চিহ্নিত নারীপাচারকারীদের আস্তানা আবাসিক হোটেল নিউ শেরাটনে বর্তমানে নারীপাচারকারীদের জিম্মায় আটক রয়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক কিশোরী-মেয়ে। ইচ্ছা থাকলে প্রত্যেক কিশোরী মেয়েরা ফিরে আসতে পারে না তাদের স্বজনদের নিকট। এদিকে ভাটারা থানা এলাকার বসুন্ধরা গেট সংলগ্ন ২৪/ক, স্টার আবাসিক হোটেলে স্কুল/কলেজ পড়ুয়া বয়সী মেয়েদের বশীভূত করে বিভিন্ন মানব পাচারকারীদের জিম্মায় চালানো হচ্ছে নানা দৈহিক নির্যাতন। ইচ্ছা থাকলেও এ বিষয়ে কোন প্রতিবাদ করতে পারছে রোষানলে পড়া মেয়েগুলো। এ বিষয়ে কয়েকজন জানায়, স্টার আবাসিক হোটেলটি থেকে বিভিন্ন পতিতালয়ে প্রতি মাসে বিক্রি করে দেয়া হয় ১০/২০ জন মেয়েকে। অপরদিকে একাধিকবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে বংশাল থানা এলাকার ১০নং হোল্ডিংয়ে চলা নারীপাচারকারীদের কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। এছাড়াও উক্ত হোল্ডিংকে ঘিরে রয়েছে থানায় কয়েকটি মামলা। ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে নারী পাচারকারীদের জিম্মায় বশীভূত হয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গুলশান, বনানী, রামপুরা, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, সবুজবাগ, ওয়ারী, বংশাল, বাড্ডা, ভাঁটারা, শ্যামপুর থানা এলাকায় আটক অবস্থায় রয়েছে মৌসুমি, সাথী, কেয়া, রুনা, মায়া, লাখি, লায়লা, বৃষ্টি, শিলা, সেলিনা, রুপা, আশা, বীথি, প্রিয়া, সুমনা, সান্তা, শিউলি, সুমি, চৈতী, সুইটি, আখি, পপি, রোজী, শিখা, শিল্পী, হ্যাপি, নদী, টুম্পা, নিপা, রুবিনা, মৌ, লিমা, ময়না, নাসরিন, শম্পা, পিংকি, শিমলা, পায়েল, পাপিয়া, আইরিন, সাথী, বেবি, রিতা, দোলা, জাকিয়া, জ্যোতি, নাজু, মারিয়া, সপ্না, মমতাজ, শিল্পী, সান্তা, ঝর্না, রাধা, সীমা, ফারজানা ও বর্শাসহ নাম না জানা আরও অনেকে। এদের প্রত্যেকেরই বয়স আনুমানিক ১৫-২৫ এর মধ্যে। এ সকল মেয়েদেরকেও বিক্রি করে দেয়া হবে অচিনপুরে। যেখান থেকে হয়তো আর ফেরত আসতে পারবে না তারা। বর্তমানে আটককৃতদের উপর প্রতিনিয়তই চলছে অস্বাভাবিক নির্যাতন। যেকোনো সময়ে হত্যার শিকার হতে পারে বশীভূত হওয়া আটককৃতরা। বিভিন্ন সময়ে আটক মেয়েদের বিভিন্ন যায়গায় স্থনান্থর করা হয়। স্থানীয় থানা পুলিশের কিছু অসৎ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই চলছে মানব পাচারকারীদের কার্যক্রম। এ ধরনের তথ্যও পাওয়া গেছে বেশ কয়েকটি সূত্রে। অভিযোগ উঠেছে, পেশাদার নারী পাচারকারীদের সাথে বেশী সক্ষতা রয়েছে বনানী, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জদের সাথে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি বিভিন্ন মহলে দায়িত্ব অবহেলারও অভিযোগ রয়েছে। কোন রহস্যজনক কারনেই এ সকল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে না বিভাগীয় শাস্তিমুলক ব্যবস্থা। এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় এ সকল নারীপাচারকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here