উৎকণ্ঠায় অন্য এমপিরাও

0
924

গাইবান্ধা-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে হত্যার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সংসদ সদস্যরা।

Advertisement

এ ঘটনায় বিচলিত এমপিদের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকারের কাছে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানানোর কথাও ভাবছেন তারা। অনেক এমপির অফিস ও বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে সরকারও। রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব সংস্থার প্রধানকে নিয়ে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
এ বৈঠকে মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
বৈঠকের পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এমপি লিটন হত্যাকাণ্ড সন্ত্রাসের নতুন কোনো ডাইমেনশন (মাত্রা বা দিক) কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং রাজশাহীর সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা যুগান্তরকে বলেন, এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে বাসায় ঢুকে গুলি করে হত্যার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সংসদ সদস্যরা যথেষ্ট নিরাপদ নন। এ নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনকে নতুন করে ভাবতে হবে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনের আরও গুরুত্ব দেয়া উচিত।
খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দ যুগান্তরকে বলেন, তিনি নিজে আতংকিত। তার ঢাকার বাসায় কোনো ক্যামেরা নেই। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
পঞ্চগড়-১ এর সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান একজন সংসদ সদস্যের নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হওয়ার বিষয়টিকে উদ্বেগের বলে মনে করেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা যে কোনো সময়, যে কারও ক্ষেত্রে ঘটতেই পারে। কিন্তু নিজ বাসার ভেতরে ক্ষমতাসীন দলের একজন এমপির খুন হওয়া নিরাপত্তার বিষয়টিই সামনে আনে। তাই, সরকারের জনপ্রতিনিধি ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য আরও তৎপর হওয়া উচিত।
বরিশাল-৫ এর সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ যুগান্তরকে বলেন, একজন সংসদ সদস্যের নিজ বাসার ভেতরে খুন হওয়াটা অন্য সব সংসদ সদস্যদের জন্য অবশ্যই উদ্বিগ্নতার, আতংকের। যেভাবে জামায়াত-শিবির জঙ্গি-উগ্রবাদী গোষ্ঠী হামলা চালিয়েছে সেটা অ্যালার্মিং। এটা আসলেই উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো। একজন এমপি হোক আর সাধারণ মানুষ হোক, সব মানুষের জীবনের সমান মূল্য। সবারই নিরাপত্তা থাকা উচিত। সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চাচ্ছে, এমপিদেরও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু এ ঘটনার পর বলব, নিরাপত্তা আরও বাড়ানো উচিত।
খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান বলেন, সরকারি দলের এমপিকে নিজ বাসায় গিয়ে হত্যার ঘটনায় আমরা সবাই আতংকিত। বাড়িতে সিসি ক্যামেরা নেই। অফিসের বাইরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, সোমবার খুলনার সব এমপিদের সঙ্গে আলোচনা হবে। এরপর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কিছু নেই বলে মনে করছেন। জানতে চাইলে রোববার সন্ধ্যায় তিনি যুগান্তরকে বলেন, সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের ঘাতকদের গ্রেফতারে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনার পর সারা দেশে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’ জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি, তবে আগেই পুলিশকে এ ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।’
তিনি বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক আছেন। তবে নিরাপত্তাহীন মনে করলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশ এ ধরনের বার্তা পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবে। সংসদ সদস্য লিটন হত্যাকাণ্ড ‘টার্গেট কিলিং’ কিনা এমন এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুগান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রী হিসেবে আমি এখনই এমন মন্তব্য করব না। তদন্তের পরই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাবে।’
আতংকে খুলনার এমপিরা : এদিকে যুগান্তরের খুলনা ব্যুরো জানায়, এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের পর খুলনার এমপিদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। খুলনার ছয় সংসদ সদস্য নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য আজ বৈঠক করতে যাচ্ছেন। অফিস ও বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের চিন্তা করছেন তারা। আগামী দু-একদিনের মধ্যে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে চাওয়া হবে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এ নিয়ে খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো.নুরুল হক জানান, খুলনার ঘটনার পাশাপাশি গাইবান্ধার ঘটনায় আমরা সবাই আতংকিত। শনিবার রাতেই চীন থেকে সিসি ক্যামেরা নিয়ে আসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস জানান, তার নিজ বাসায় কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। তবে খুব দ্রুত ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। সরকারিভাবে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়নি।
শনিবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে তার গ্রামের বাড়িতে ঢুকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here