মাজহারুল ইসলাম,রৌমারী (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারীর সীমান্তঘেষা উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নে বার বার বজ্রপাতের
ঘটনায় অনেক দরিদ্র মানুষের গরু ছাগল ভেরা হাস মুরগিসহ পুড়ে ছাই হয়ে ব্যপক ক্ষতি হয়।
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বজ্রপাতে বসতঘর পুড়ে মুইনা (৬০) নামে ও তার স্ত্রী গৃহবধূ রংমালা (৪৫) মারাত্মক দগ্ধ হয়েছেন। এ সময় বজ্রাপাতের আগুনে পুড়ে মারা গেছে তার গরু ও ছাগল ঘরের আশবাবপত্র। উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দক্ষিন নামাজের চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বজ্রপাতে বসত ঘরের উপর পরলে ঘর ও আশবাবপত্র পুরে ছায় হয়ে যায়। এতে পুরে ছায় হয়েছে ২টি গরু, হাঁস মুরগী এবং ৫টি ছাগলসহ আশবাবপত্র। দিবাগতরাত বুধবার আনুমানিক ২টার দিকে প্রবল বৃষ্টি সঙ্গে বজ্রপাত হয়। বজ্রপাত হয় ঐ দিনমুজুর মুইনা মিয়া বাড়ির উপর। বজ্রপাতের সঙ্গে সঙ্গে পুরো বাড়িতে আগুন লেগে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, বাড়ির সব লোক জন ঘুমিয়া থাকা তার নিজ শয়ন ঘরে বজ্রপাত হলে ঘরে আগুন লাগলেও তারা আগুনের টের পায়নি। যখন পুরো ঘর গুলোতে আগুন ছঁিড়য়ে পরে হটাৎ করে তার (মুইনা) শোয়ার ঘরে আগুনে পুরে যাওয়া কাঠ তার স্ত্রী গায়ে (শরীরে) পরলে তখন চিৎকার করে আগুন আগুন করে শোয়ার ঘর থেকে বেড় হয়। চিৎকারে আশ পাশের লোক ছুটে এসে দেখে তার ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জলছে।
ঘটনাস্থলে বজ্রপাতে দিনমুজুর মুইনা (৬০), রংমালা (৪৫), প্রতিবন্ধি বীর মোহন (১৪) গুরুত্ব আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কুড়িগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের রের্ফাড করে রংপুর মেডিকেল হাসপাতেলে পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানাগেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য তাহেজ আলী বলেন, গভীর রাতে ২টার দিকে ওই এলাকার দিনমুজুর মুইনার বসতঘরে হঠাৎ করে বজ্রাঘাত ঘটে। এতে ঘরে থাকা ২ টি গরু ও ৫টি ছাগল ও অন্যান্য মালামালসহ ৩টি ঘর সম্পূর্ণ ভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে দগ্ধ হন দিনমুজুর মুইনার স্ত্রী রংমালা বেগম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাহেবের আলগা ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক মন্ডল জানান, “দগ্ধ দিনমুজুর মুইনা ও তার স্ত্রী গৃহবধূ রংমালা কে রংপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানাগেছে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের আর্থিক সহযোগিতা করা হয়নি। যেহেতু তার বাড়িতে কেউ নেই। সুস্থ হলে তাকে আংশিক ক্ষতিপূরন দেয়া হবে।
বিষয়টি উপর জানতে চাইলে উলিপুর ফাঁড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ (তদন্ত ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, বজ্রাঘাত হয়েছে বলে শুনার পর ঘটনাস্থলে আমাদের থানাপুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মুইনা নামের ব্যাক্তির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ওই মুইনা, তার স্ত্রী রংমালা ও সন্তান গুরুত্বর আহত হয়েছে বলে জানগেছে। এছাড়াও বজ্রপাতে ২টি গরু, ৫টি ছাগল ও মালামালসহ তার বসতঘরটি পুড়ে যাওয়ায় তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, বজ্রপাতে বাড়ি, ঘর ও গরু এবং ছাগল পুরে মারা যায়। বসবাসরত লোকজন আহত হয়ে রংপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানাগেছে। তবে এ ঘটনায় ক্ষতি পূরণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
