আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া পরিহার করবে আমি তার জন্য জান্নাতের
বেষ্টনীর মধ্যে একটি ঘরের জিম্মাদার;১. ইসলামই একমাত্র আল্লাহর কাছে মনোনীত ধর্ম। ইসলামের বাইরের অন্য সকল ধর্ম বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য। ইসলামের আগমনের পর অন্য আসমানি ধর্ম রহিত হয়ে গেছে। কুরআন বলছে-
اِنَّ الدِّیۡنَ عِنۡدَ اللّٰہِ الۡاِسۡلَامُ
‘নিশ্চয়ই ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র ধর্ম।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৯)
২. ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের মাধ্যমে পরকালীন নাজাত পাওয়া অসম্ভব। চাই যত ভালো থেকে ভালো কাজই করা হোক না কেন। এটি আল্লাহ তাআলা কখনোই গ্রহণ করবেন না। গ্রহণযোগ্যতার প্রথম শর্তই হলো ঈমান আনা। কুরআন বলছে-
وَ مَنۡ یَّبۡتَغِ غَیۡرَ الۡاِسۡلَامِ دِیۡنًا فَلَنۡ یُّقۡبَلَ مِنۡہُ ۚ وَ ہُوَ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ
‘কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম চাইলে তার থেকে সেটা কখনো গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (সূরা আলে ইমরান : ৮৫)
৩. ইসলাম এসেছে আল্লাহর দ্বীনকে আল্লাহর জমীনে বাস্তবায়িত করতে। যতদিন পৃথিবীর এক ইঞ্চি মাটিও শরীয়াহর অধীনে আসা বাকি থাকবে এবং মুসলিমদের শক্তি-সামর্থ্য থাকবে, তাদের দায়িত্ব হলো সেই ইঞ্চিকেও আল্লাহর আইনের অধীনে আনা। আর সেটা সম্ভব না হলে তা করার আকাঙ্খা রাখা। (শরীয়াহর অধীনে আনা মানে এই না জোর করে কাউকে মুসলিম বানানো হবে। কেউ চাইলে নিজ ধর্মে থাকবে, নিজ ধর্মের চর্চা করবে। তবে তখন তাকে/তাদেরকে জিযয়া দিতে হবে।) কুরআন বলছে-
وَ قَاتِلُوۡہُمۡ حَتّٰی لَا تَکُوۡنَ فِتۡنَۃٌ وَّ یَکُوۡنَ الدِّیۡنُ کُلُّہٗ لِلّٰہِ
‘আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক, যাতে ফেতনা (শিরক, কুফর ইত্যাদি অধর্ম) না থাকে আর দ্বীন (এবাদত) সামগ্রিকভাবে আল্লাহর জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।’ (সূরা আনফাল : ৩৯)
قَاتِلُوا الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَ لَا بِالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَ لَا یُحَرِّمُوۡنَ مَا حَرَّمَ اللّٰہُ وَ رَسُوۡلُہٗ وَ لَا یَدِیۡنُوۡنَ دِیۡنَ الۡحَقِّ مِنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ حَتّٰی یُعۡطُوا الۡجِزۡیَۃَ عَنۡ یَّدٍ وَّ ہُمۡ صٰغِرُوۡنَ
‘কিতাবধারীদের মধ্যে যারা আল্লাহ কিংবা পরকালে বিশ্বাস করে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা অবৈধ ঘোষণা করেছেন তাকে অবৈধ গণ্য করে না এবং সত্য ধর্ম গ্রহণ করে না তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না তারা নতি স্বীকার করে স্বেচ্ছায় জিযিয়া (ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের ওপর ধার্যকৃত কর) প্রদান করে।’ (সূরা তাওবা : ২৯)
৪. সব ধর্ম কখনোই সমান নয়। অবশ্যই ইসলাম চিরউন্নত, সমুন্নত ও মর্যাদাশীল। অন্য কোন ধর্মই এমন নয়। সেগুলো বাতিল ও মিথ্যা। কুরআন বলছে-
لَا یَسۡتَوِیۡۤ اَصۡحٰبُ النَّارِ وَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ؕ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ہُمُ الۡفَآئِزُوۡنَ ﴿۲۰﴾
‘জাহান্নামের অধিবাসীরা আর জান্নাতের অধিবাসীরা সমান নয়। জান্নাতের অধিবাসীরাই সফলকাম।’ (সূরা হাশর : ২০)
হাদীস বলছে-
الإسلامُ يَعلُو ولا يُعلى علَيهِ
‘ইসলাম (অন্য সকল কিছুর উপর) সুউচ্চকিত, তার উপর (অন্য কোন কিছু) উচ্চকিত হবার মতো নয়।’ (বুখারী তালিক, কানযুল উম্মাল: ২৪৬)
উপরের কথাগুলো আজকাল অনেক মুসলিম সুস্পষ্টভাবে বলতে লজ্জাবোধ/সংকোচবোধ করে। অনেকে এই বিশ্বাসগুলো নিয়ে সংশয়ে ভোগে। পশ্চিমা প্রভাবিত আধুনিক বিশ্বের সামনে কথাগুলো বললে কেমন যেন সংকীর্ণমনা, উগ্র ও অন্ধকারাচ্ছন্ন ট্যাগ খাওয়ার ভয়ে থাকে। অথচ প্রতিজন মুসলিমের উপর অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে এই বিশ্বাসগুলোর ব্যাপারে শতভাগ স্বচ্ছ থাকা।
যে কেউ-ই এগুলোকে ইনিয়ে-বিনিয়ে আড়াল করতে চাইবে, ধর্মীয় সম্প্রীতির নামে অন্য ধর্মের উপর ইসলামের মর্যাদাবান হওয়াকে লুকাবে তার এই চিন্তাকে কঠিনভাবে পরিহার করতে হবে। চাই তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম বা শাইখুল আযহার বা সৌদির মুফতি আযম যেই হোন না কেন।
যদি কেউ নিজের পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে এসব বিষয় সুস্পষ্ট উচ্চারণে বলতে না পারে, তার উচিত চুপ থাকা। এটা তার ওজর হিসেবে গ্রহণীয় হবে। কিন্তু এমন বক্তব্য ও চিন্তাধারা প্রচার করা শরীয়ত সমর্থিত নয়, যা ইসলামের এই অবস্থানকেই পরিবর্তন করে দেয়। বিশেষত যখন কিনা অনেক সাধারণ মুসলিম এসব নিয়ে নড়বড়ে বিশ্বাসের উপর আছে।

