ঈশ্বরদীতে মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যার নেপথ্যে চেয়ারম্যান এনামুল বাহিনী

0
671

স্টাফ রিপোর্টারঃ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাাফিজুর রহমান সেলিমকে হত্যার নেপথ্যে স্থানীয় দ্ইু ইউপি চেয়ারম্যান জড়িত রয়েছে বলে তার পরিবার সহ একাধিক সুত্র দাবী করছে। আধিপত্য বিস্তার ও সরকারী প্রকল্পের টাকা হরিলুটে বাধায় পাকশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস ও লক্ষীকুন্ডা ইইনিয়নের চেয়ারম্যান আনিস-উর-রহমান শরীফ সিন্ডিকেটের হাতে প্রান দিতে হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সেলিমকে। ভুমিদস্যু, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সরকারী প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে এলাকাবাসী।

Advertisement

জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহনের ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ আসে। বরাদ্দের এই টাকা জমির মালিকদের প্রদানের লক্ষে তালিকা তৈরি দায়িত্ব অর্পিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা সেলিমের উপর। কিন্ত পাকশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস ও লক্ষীকুন্ডা ইইনিয়নের চেয়ারম্যান আনিস-উর-রহমান শরীফ সিন্ডিকেট যোগসাজসে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের বাদ দিয়ে একটি ভুয়া মালিকদের সমন্বয়ে একটি তালিকা তৈরি করে প্রকল্প কর্মকতার নিকট পেশ করে ২৮ কোটি টাকা ভাগাভাগির পায়তারা করেন। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থেকে চেয়ারম্যান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এহেন কাজে তীব্র প্রতিবাদ করেন। তিনি কৃষকদের সংগঠিত করে আদালতে মামলা দায়ের করান। এতে চেয়ারম্যান এনামুল হক সিন্ডিকেটের প্রকল্পে টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ফলে মুক্তিযোদ্ধা সেলিম তাদের চরম শত্রুতে পরিনত হয়। এরই জেরধরে ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে মুক্তিযোদ্ধা সেলিম মোটরসাইকেল যোগে বাড়িতে প্রবেশের সময় চেয়ারম্যান এনামুলের ভাতিজা হত্যা সহ একাধিক মামলার আসামী আব্দুল্লাহ আল বাকি ওরফে আরজু বিশ্বাস তার দলবল নিয়ে তাকে গুলি করে। আহত অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা সেলিমকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় সেলিমের ছেলে তন্ময় বাদী হয়ে অজ্ঞাতানামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঈশ্বরদী থানায় মামলা নং-১২, তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারী-২০১৯, ধারা-৩০২/৩৪। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে ১০ ফেব্রুয়ারি আরজু বিশ্বাস(৪৮) কে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত পিস্তল সহ তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। আরজুর দেয়া তথ্যমতে ৭ মার্চ হত্যাকান্ডে অংশ নেয়া চেয়ারম্যানের এনামুল হক বিশ^াসের ছেলে রকি বিশ্বাস (৩০) এবং ১২ মার্চ পাশ্ববর্তী এলাকার মোস্তাক আহমেদের ছেলে ফারুক আহমেদ লিখন (৩২) ও আব্দুল আজিজের ছেলে রাজিব (৩১) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে ঘটনার মাষ্টারমাইন্ড চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ^াস ও চেয়ারম্যান আনিস-উর-রহমান শরীফকে কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না তা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও গনমাধ্যম কর্মীসহ সাধারন মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ক্ষোভ আর হতাশা। খুনীদের শাস্তির দাবীতে প্রতিনিয়তই চলছে প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন।

মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে রূপপুর বিবিসি বাজারের সব দোকানে কালো পতাকা তুলে ৪০ দিনের শোক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতারা ছাড়াও বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা ও দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। সেলিম হত্যায় জড়িতদের বিচার দাবিতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে রূপপুর মোড়ে ও ঈশ্বরদী শহরে ধারাবাহিকভাবে পালিত হচ্ছে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা।
মোস্তাাফিজুর রহমান সেলিমের স্ত্রী দিলারা বেগম বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র ক্ষমতার জোরে এলাকায় ভূয়া কৃষকের তালিকা তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছে, সেই তালিকা চ্যালেঞ্জ করার কারণেই আমার স্বামীকে খুন করেছে তারা।
ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুজ্জামান পিন্টু বলেন, হত্যাকারী হিসেবে পাকশীর ইউপি চেয়ারম্যান এনামুলের ছেলে রকি বিশ্বাস, ভাতিজা আরজু বিশ্বাস ও তাদের দুই সহযোগি লিখন ও রাজীবকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে নির্দেশদাতা হিসেবে চেয়ারম্যান এনাম বিশ্বাসকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি ফারুকী জানান, চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাসের ছেলে রকি,ভাতিজা আরজু সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। তবে এদের মধ্যে ‘আরজুর বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় ১৯৯৪ সালের একটি হত্যা মামলাসহ আরো দুটি মামলা রয়েছে।’

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here