স্টাফ রিপোর্টারঃ
ইসলামিক মিডিয়া সোসাইটির অন্তরালে দেশের ৯০ভাগ ধর্মভিরু মুসলমানদের ধর্মান্দ বানাতে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন মাওলানা নামধারী এস,এম, ফারুকী। ইসলাম প্রচারের লেভাসে কতিপয় অসাধু চক্র বিভিন্ন সময় দেশ ও সমাজের বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ইসলামিক মিডিয়া সোসাইটি নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন মাওলানা এস,এম, ফারুকী। তিনি এ সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও চেয়ারম্যান পদে আছেন। উক্ত সংগঠনের কোন সরকারী অনুমোদন নেই। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়েই ১লা জুলাই, ২০১২ ইং থেকে এটি একটি অরাজনৈতিক সেবামূলক সংগঠন হিসাবে কার্যক্রম শুরু করে। এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন আসলে কি এটি সেবামূলক অরাজনৈতিক সংগঠন? এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম কি? এক সময়ের ফটোকপি মেশিন বিক্রয়, সার্ভিস ও আদম ব্যবসাই এস,এম, ফারুকী মাদ্রাসার কোন ডিগ্রি না নিয়েই নিজের নামের সাথে মাওলানা উপাধি ব্যবহার করে ইসলামি লেবাস ধরে হয়ে পড়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা সাইফুদ্দিন মোঃ ফারুকী। যিনি বেশিরভাগ সময় জাতীয় মস্জিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটের সিঁড়ির উপর বসে এক এক সময় এক এক জনের মগজ ধোলাই করে থাকেন। তাকে সহায়তা করেন আরেক মাওলানা নামধারী আশেকী বেলালী ও হাফেজ মাওলানা মুফতী হেমায়েত উদ্দিন। অনুসন্ধানে জানা যায় মাওলানা নামধারী ফারুকীর অর্থ যোগান দাতা জামায়াতের দ্বিতীয় সারির কোন এক নেতা। যিনি ফারুকীর মাধ্যমে দেশ ও সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা যায়, কিছুদিন পূর্বেও তার নিজ বাড়ীতে (২য় তলায়) মুন্সিবাড়ী আলামিন রোড, সারুলীয়া, ডেমরা, ঢাকা জামাত ইসলামের আঞ্চলিক অফিস ছিল, তার দুই ভাই ডেমরা অঞ্চলের জামাত ইসলামের নেতা। ইসলামিক মিডিয়া সোসাইটির নামে সারা বাংলাদেশ ব্যাপি কমিটি তৈরী করছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করছে। এ অর্থ সিংহ ভাগই ব্যবহার করছে রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী প্রচার প্রচারনার কাজে। উল্লেখ্য এ প্রচারনার জন্য তার অফিস কক্ষে বিটিআরসির অনুমতি না নিয়েই স্থাপন করেছেন বৃহৎ একটি সার্ভার প্যানেল, ছাদে স্থাপন করেছে ২/৩টি হাই ফিকোয়েন্সি ডিস এন্টিনা, এসব স্থাপন এর কারণ জানতে চাইলে এস, এম, ফারুকী বলেন, সে নাকি একটি টিভি চ্যানেল অনুমোদন পেয়েছেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় খোঁজ নিয়ে এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। আরো জানা যায়, ইতিপূর্বে তার এক সহকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল নব্য জেএমবি হিসাবে। ৮ মাস কারাভোগের পর উক্ত সহকারী বর্তমানে জামিনে মুক্তি পেয়ে নিখোঁজ আছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে জানা যায় লেবাসধারী এস, এম, ফারুকী সদ্য কয়েকটি দেশ সফর করে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে যা ব্যবহার করা হবে সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী প্রচার প্রচারনার কাজে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময় অর্জিত আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর এই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীতা ধর্মকে পুঁজি করে স্বাধীনতার মূল্যবোধকে ভূলন্ঠিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ সত্ত্বেও নাম সর্বস্ব এ ইসলামিক মিডিয়া সোসাইটি নামে এ অবৈধ সংগঠনটির আঁড়ালে কি হচ্ছে এসব যেন দেখার কেউ নেই। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর দাবী অতিসত্ত্বর এ চক্রটিকে আইনের আওতায় এনে এ ধরণের অনৈতিক কর্মকান্ড প্রতিহত করার। ইসলামী লেবাসধারী স্বঘোষিত মাওলানা এস,এম, ফারুকী সরকার বিরোধী এই অপ-তৎপরতার প্রধান পৃষ্ঠপোষক। আর তাকে এই কাজে নেপথ্যে থেকে অর্থ যোগান দাতা হিসাবে কাজ করছেন বর্তমান জামাত ইসলামের এক দ্বিতীয় সারির নেতার ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যায়। কিছুদিন পূর্বে ফারুকীর বাসাবোতে অবস্থিত ইসলামী লিডারশীপ মাদ্রাসায় জঙ্গি কর্মকান্ডের অভিযোগে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করেন, সেখানে থেকে সে কৌশলে পালিয়ে যায়। পুলিশ তাকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। তাকে গ্রেফতার করা এখন সময়ের দাবী। বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায় তার এই বিতর্কিত কর্মকান্ডে অর্থ যোগানদাতা হিসেবে দুইজন শিল্পপতির নাম শোনা যাচ্ছে।

