ইসমে আজম’ দিয়ে দু‘আ করলে নিশ্চিত কবুল হয়

0
528

আলোচনা করবো, ‘ইসমে আজম’ কী? এটি দিয়ে কীভাবে দু‘আ করতে হয়। ❑ ইসমে আজমের পরিচয়: ইসমে আজম দুটো আরবি শব্দ; এদের সম্মিলিত অর্থ: মহান নাম, শ্রেষ্ঠ নাম। অর্থাৎ, ইসমে আজম হলো, আল্লাহর মহান ও বিশিষ্ট নাম, যে নামের উসিলায় দু‘আ করা আল্লাহ্ ভীষণ পছন্দ করেন এবং সেই দু‘আ তিনি কবুল করেন। ❑ ইসমে আজম কোনগুলো? এ ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসে বিভিন্ন শব্দ ও বাক্য এসেছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: ◉ আল্লাহ্ (الله) আল্লাহ অসংখ্য আলিম এই মত দিয়েছেন। এর পক্ষে পরোক্ষ দলিলের পরিমাণ অসংখ্য। ◉ আর রব্ব (اَلرَّبُّ) [প্রতিপালক] নবিগণ তাঁদের দু‘আর মধ্যে ‘‘রব্ব’’ শব্দটি খুব গুরুত্বের সাথে বলতেন। ◉ আল-হাইয়ু (اَلْحَيُّ) [চিরঞ্জীব], আল-ক্বাইয়ুম (اَلْقَيُّوْمُ) [চিরস্থায়ী], আল-মান্নান (اَلْمَنَّانُ) [সীমাহীন দাতা], যুল-জালালি ওয়াল-ইকরাম (ذُوْ الْجَلَالِ والْإِكْرَام) [মহত্ত্ব ও মহানুভবতার অধিকারী] (এই নামগুলো ইসমে আজম হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট দলিল বিদ্যমান রয়েছে। নিচের হাদিসটিতে সবগুলো আছে) একবার একজন ব্যক্তি এভাবে দু‘আ করছিলেন— (নিচের বাক্যগুলো দিয়ে) اَللّٰهُمَّ إنِّيْ أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيْعُ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ [মোটামুটি উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিআন্না লাকাল ‘হামদ, লা ইলা-হা ইল্লা আনতাল মান্না-ন, বাদী-‘উস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব, ইয়া যাল জালা-লি ওয়াল ইকরা-ম, ইয়া ‘হাইয়ু, ইয়া ক্বাইয়ূম] অর্থ: হে আল্লাহ্! আমি আপনার কাছে চাই। নিশ্চয়ই আপনার জন্যই সকল প্রশংসা। আপনি ব্যতীত উপাসনার যোগ্য কেউ নেই। (আপনি) মহান দাতা; আসমানসমূহ এবং যমিনের সৃষ্টিকর্তা। হে মহত্ত্ব ও মহানুভবতার অধিকারী! হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘সে আল্লাহর ইসমে আজম (মহান নাম) দিয়ে দু‘আ করেছে, যে নাম দিয়ে ডাকলে সাড়া দেওয়া হয় এবং (কিছু) চাওয়া হলে তা প্রদান করা হয়।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৯৫; ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১৩০০; হাদিসটি সহিহ] [এই দু‘আটি শব্দে শব্দে অর্থসহ শিখতে পরবর্তী পর্বে চোখ রাখুন।] প্রায় একই ঘটনা ঘটেছিলো আরেকজন সাহাবির বেলায়। তিনি তাঁর দু‘আর মধ্যে সুরা ইখলাসকে নিয়ে এসেছিলেন। সেটিকেও নবিজি ‘ইসমে আজম’ বলেছেন। [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১৩০১; হাদিসটি সহিহ] ◉ একটি হাদিসে বলা হয়েছে, সুরা বাকারার ১৬৩ নং আয়াত এবং সুরা আলে ইমরানের প্রথম আয়াতে ইসমে আজম আছে। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৯৬; ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৪৭৮; হাদিসটি হাসান, কারও মতে দুর্বল] অন্য হাদিসে এসেছে, সুরা বাকারাহ, সুরা আলে ইমরান ও সুরা ত্ব-হার মধ্যে ইসমে আজম রয়েছে। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫৬, হাদিসটি হাসান] কোনো কোনো আলিম এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, সুরা বাকারায় বর্ণিত ইসমে আজম আছে দুটো আয়াতে। একটি হলো: ১৬৩ নং আয়াত, যা হাদিসে এসেছে। অপরটি হলো: ২৫৫ নং আয়াত (আয়াতুল কুরসি) একটি হাদিসে এসেছে, কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ১৭৭০] আর সুরা আলে ইমরানে বর্ণিত ইসমে আজম হলো প্রথম আয়াত, যা হাদিসে এসেছে। সুরা ত্ব-হায় বর্ণিত ইসমে আজম আছে ১১১ নং আয়াতে। ◉ আসমাউল হুসনা (সুন্দর নামসমূহ) তথা হাদিসে বর্ণিত আল্লাহর সুন্দর গুণবাচক ৯৯+ টি নামকেও আলিমগণ ইসমে আজম বলেছেন। কারণ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, “আর (সব) সুন্দর সুন্দর নাম তো আল্লাহ্‌ তা‘আলার জন্য, সুতরাং তাঁকে সেসব নামে ডাক।” [সুরা আ’রাফ, আয়াত: ১৮০] ◉ একটি হাদিসে ইউনুস (আ.)-এর দু‘আটিকে বলা হয়েছে, এটি দিয়ে দু‘আ করলে দু‘আ কবুল হয়। সেটি আমরা সবাই জানি: লা ইলা-হা ইল্লা আনতা সুব‘হা-নাকা ইন্নী কুনতু মিনায যোয়ালিমীন। [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫০৫; হাদিসটি সহিহ] ❑ ইসমে আজম দিয়ে দু‘আ করার নিয়ম: প্রথমেই বলি: ইসমে আজম দিয়ে দু‘আ করার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থান হলো নামাজে সালাম ফেরানোর পূর্ব মুহূর্ত। অর্থাৎ, নামাজের শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ, দু‘আ মাসুরা (দু‘আ মাসূরা পড়া ঐচ্ছিক; পড়া খুব ভালো, তবে জরুরি না) পাঠ শেষ করার পর ইসমে আজম পড়বেন, অতঃপর নিজের চাওয়াগুলো বলবেন। প্রথমে আপনি অর্থের দিকে লক্ষ রেখে আগ্রহ ও আন্তরিকতা নিয়ে ইসমে আজম পড়বেন বা ইসমে আজমের দু‘আ পড়বেন। এরপর নিজের চাওয়াগুলো বলতে থাকবেন (আরবিতে)। সেক্ষেত্রে কুরআন-হাদিসে বর্ণিত দু‘আগুলোতে নিজের সব চাওয়াই পেয়ে যাবেন, ইনশাআল্লাহ। তাই, সেগুলো নিজের প্রয়োজনমত মুখস্থ করে নেবেন। নামাজে অনারব ভাষায় দু‘আ করার ব্যাপারে আলিমগণের বিরাট অংশ নিষেধ করেছেন। তাই, সতর্কতা কাম্য। আর, যদি নামাজের বাইরে সাধারণ দু‘আর মধ্যে ইসমে আজম পড়েন, তবে ইসমে আজমের পর যেকোনো ভাষায় দু‘আ করতে পারেন। ইসমে আজম’ দিয়ে দু‘আ করলে নিশ্চিত কবুল হয়। আলোচনা করবো, ‘ইসমে আজম’ কী? এটি দিয়ে কীভাবে দু‘আ করতে হয়। ❑ ইসমে আজমের পরিচয়: ইসমে আজম দুটো আরবি শব্দ; এদের সম্মিলিত অর্থ: মহান নাম, শ্রেষ্ঠ নাম। অর্থাৎ, ইসমে আজম হলো, আল্লাহর মহান ও বিশিষ্ট নাম, যে নামের উসিলায় দু‘আ করা আল্লাহ্ ভীষণ পছন্দ করেন এবং সেই দু‘আ তিনি কবুল করেন। ❑ ইসমে আজম কোনগুলো? এ ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসে বিভিন্ন শব্দ ও বাক্য এসেছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: ◉ আল্লাহ্ (الله) আল্লাহ অসংখ্য আলিম এই মত দিয়েছেন। এর পক্ষে পরোক্ষ দলিলের পরিমাণ অসংখ্য। ◉ আর রব্ব (اَلرَّبُّ) [প্রতিপালক] নবিগণ তাঁদের দু‘আর মধ্যে ‘‘রব্ব’’ শব্দটি খুব গুরুত্বের সাথে বলতেন। ◉ আল-হাইয়ু (اَلْحَيُّ) [চিরঞ্জীব], আল-ক্বাইয়ুম (اَلْقَيُّوْمُ) [চিরস্থায়ী], আল-মান্নান (اَلْمَنَّانُ) [সীমাহীন দাতা], যুল-জালালি ওয়াল-ইকরাম (ذُوْ الْجَلَالِ والْإِكْرَام) [মহত্ত্ব ও মহানুভবতার অধিকারী] (এই নামগুলো ইসমে আজম হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট দলিল বিদ্যমান রয়েছে। নিচের হাদিসটিতে সবগুলো আছে) একবার একজন ব্যক্তি এভাবে দু‘আ করছিলেন— (নিচের বাক্যগুলো দিয়ে) اَللّٰهُمَّ إنِّيْ أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيْعُ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ [মোটামুটি উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিআন্না লাকাল ‘হামদ, লা ইলা-হা ইল্লা আনতাল মান্না-ন, বাদী-‘উস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব, ইয়া যাল জালা-লি ওয়াল ইকরা-ম, ইয়া ‘হাইয়ু, ইয়া ক্বাইয়ূম] অর্থ: হে আল্লাহ্! আমি আপনার কাছে চাই। নিশ্চয়ই আপনার জন্যই সকল প্রশংসা। আপনি ব্যতীত উপাসনার যোগ্য কেউ নেই। (আপনি) মহান দাতা; আসমানসমূহ এবং যমিনের সৃষ্টিকর্তা। হে মহত্ত্ব ও মহানুভবতার অধিকারী! হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘সে আল্লাহর ইসমে আজম (মহান নাম) দিয়ে দু‘আ করেছে, যে নাম দিয়ে ডাকলে সাড়া দেওয়া হয় এবং (কিছু) চাওয়া হলে তা প্রদান করা হয়।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৯৫; ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১৩০০; হাদিসটি সহিহ] [এই দু‘আটি শব্দে শব্দে অর্থসহ শিখতে পরবর্তী পর্বে চোখ রাখুন।] প্রায় একই ঘটনা ঘটেছিলো আরেকজন সাহাবির বেলায়। তিনি তাঁর দু‘আর মধ্যে সুরা ইখলাসকে নিয়ে এসেছিলেন। সেটিকেও নবিজি ‘ইসমে আজম’ বলেছেন। [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১৩০১; হাদিসটি সহিহ] ◉ একটি হাদিসে বলা হয়েছে, সুরা বাকারার ১৬৩ নং আয়াত এবং সুরা আলে ইমরানের প্রথম আয়াতে ইসমে আজম আছে। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৯৬; ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৪৭৮; হাদিসটি হাসান, কারও মতে দুর্বল] অন্য হাদিসে এসেছে, সুরা বাকারাহ, সুরা আলে ইমরান ও সুরা ত্ব-হার মধ্যে ইসমে আজম রয়েছে। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫৬, হাদিসটি হাসান] কোনো কোনো আলিম এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, সুরা বাকারায় বর্ণিত ইসমে আজম আছে দুটো আয়াতে। একটি হলো: ১৬৩ নং আয়াত, যা হাদিসে এসেছে। অপরটি হলো: ২৫৫ নং আয়াত (আয়াতুল কুরসি) একটি হাদিসে এসেছে, কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ১৭৭০] আর সুরা আলে ইমরানে বর্ণিত ইসমে আজম হলো প্রথম আয়াত, যা হাদিসে এসেছে। সুরা ত্ব-হায় বর্ণিত ইসমে আজম আছে ১১১ নং আয়াতে। ◉ আসমাউল হুসনা (সুন্দর নামসমূহ) তথা হাদিসে বর্ণিত আল্লাহর সুন্দর গুণবাচক ৯৯+ টি নামকেও আলিমগণ ইসমে আজম বলেছেন। কারণ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, “আর (সব) সুন্দর সুন্দর নাম তো আল্লাহ্‌ তা‘আলার জন্য, সুতরাং তাঁকে সেসব নামে ডাক।” [সুরা আ’রাফ, আয়াত: ১৮০] ◉ একটি হাদিসে ইউনুস (আ.)-এর দু‘আটিকে বলা হয়েছে, এটি দিয়ে দু‘আ করলে দু‘আ কবুল হয়। সেটি আমরা সবাই জানি: লা ইলা-হা ইল্লা আনতা সুব‘হা-নাকা ইন্নী কুনতু মিনায যোয়ালিমীন। [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫০৫; হাদিসটি সহিহ] ❑ ইসমে আজম দিয়ে দু‘আ করার নিয়ম: প্রথমেই বলি: ইসমে আজম দিয়ে দু‘আ করার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থান হলো নামাজে সালাম ফেরানোর পূর্ব মুহূর্ত। অর্থাৎ, নামাজের শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ, দু‘আ মাসুরা (দু‘আ মাসূরা পড়া ঐচ্ছিক; পড়া খুব ভালো, তবে জরুরি না) পাঠ শেষ করার পর ইসমে আজম পড়বেন, অতঃপর নিজের চাওয়াগুলো বলবেন। প্রথমে আপনি অর্থের দিকে লক্ষ রেখে আগ্রহ ও আন্তরিকতা নিয়ে ইসমে আজম পড়বেন বা ইসমে আজমের দু‘আ পড়বেন। এরপর নিজের চাওয়াগুলো বলতে থাকবেন (আরবিতে)। সেক্ষেত্রে কুরআন-হাদিসে বর্ণিত দু‘আগুলোতে নিজের সব চাওয়াই পেয়ে যাবেন, ইনশাআল্লাহ। তাই, সেগুলো নিজের প্রয়োজনমত মুখস্থ করে নেবেন। নামাজে অনারব ভাষায় দু‘আ করার ব্যাপারে আলিমগণের বিরাট অংশ নিষেধ করেছেন। তাই, সতর্কতা কাম্য। আর, যদি নামাজের বাইরে সাধারণ দু‘আর মধ্যে ইসমে আজম পড়েন, তবে ইসমে আজমের পর যেকোনো ভাষায় দু‘আ করতে পারেন।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here