*অস্তিত্বসংকটে হিংস্র আচরণ
*এলাকায় রয়েছে তাঁর একটি পোষা গুন্ডাবাহিনী
*ইচছা করলে যখন তখন কাউকে হেনস্তা করতে দ্বি¢ধা করেন না
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা ইঞ্জিনিয়ার পলাশ শিকদার অস্তিত্ব সংকটের কারণে হিস্র আচরণে মেতে ওঠার অভিযোগ তুলেছেন ¯স্থানীয়রা । পারিবারিকভাবে আওয়ামীলীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও হাইব্রিড আওয়ামীলীগার হিসেবে বনে গেছেন। পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ থানার পাটিকেল বাড়ি গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারে তাঁর পিতা মৃত আঃ রব শিকদার ডিলার রব নামে পরিচিত ছিলেন। ভূমিহীন ও তৎকালীন জামাত বিএনপির লোক হওয়ার কারণে সরকারি কিছু খাশ জমি বন্দোবস্ত পেযেছিলেন রব শিকদার। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার ও অবিযোগ ছিল তাঁর পিতা রব শিকদারের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে বি এনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ শহীদুল হক জামালের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিস্থিতি অনুকুলে না থাকায় আওয়ামীলীগের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন। নিজেকে আওয়ামীলীগের একজন বিদ্রোহী নেতা হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা চালিয়ে যান। অভাব অনটনের মধ্যে শিক্ষাসমাপ্তি করে ২০১৬ সালে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের সহকারী অথরাইজড হিসেবে যোগদান করলে ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা। যেন হাতে পেয়ে বসেছে টাকার মেশিন। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হযনি ইঞ্জিনিয়ার পলাশ শিকদারের। শুরু হয় অবৈধ অর্থ উপার্জন ও বিত্তবৈভবের মালিক হতে থাকেন। নৌকার ঘোর বিরোধী পলাশের পিতা আব্দুর রব শিকদার মুখোশ পরিবর্তন করে আওয়ামীলীগের লেবাস ধারণ করতে থাকেন। ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে নৌকার ঘোর বিরোধী পলাশের পিতা রব শিকদারকে আওয়ামীলীগের টিকিট নিয়ে নির্বাচন করান। কিন্তু ওই নির্বাচনে নৌকার টিকিট না পেলেও পলাশের কালো টাকার গাম্ভীর্য্যরে কারণে ও বিশাল গুন্ডাবাহিনীর অপরাজনীতির কাছে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয় অর্জন করেন।
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গুয়ারেখা ইউপি পদে নির্বাচনে ছেলের অবৈধ অর্থ আর সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডবে নৌকাকে হারাতে সক্ষম হন রব শিকাদার। ওই নির্বাচনে পলাশের কালোটাকা আর পোষা গুন্ডা ও পেশি শক্তির কারণে তিন বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী সুব্রত ঠাকুরের পরাজয় বরণ করতে হয় পলাশের অপরাজনীতির কাছে।
গত বছরের ৫ এপ্রিল পলাশ শিকদারের পিতা রব শিকদারের মৃত্যুতে গুয়ারেখা ইউনিয়ন পরিষদ এর উপনির্বাচনের ঘোষণা দেন। পলাশের পরিবারটি অস্তিত্বসংকটে পড়ে গেলে তাঁর স্ত্রী ফারজানাকে দিয়ে নির্বাচন করান। ফারজানা কখনও রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও ছাত্রলীগের নেত্রী বানিয়ে নমিনেশন সংগ্রহ করেন। কারন পলাশের রযেছে কালো টাকার পাহাড়।
ইশারা করলেই টাকায় সব মিলে। একটি ¯স্থানীয় সূত্র বলছে, পলাশের কালো টাকা আর সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে শেষ রক্ষা হয়নি। নিশ্চিত পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। থেমে নেই তার হিংস্র আচরণ বিজয়ী নেতাকর্মীদের একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হযরানি করে আসছেন। হেরে যাওয়ার ক্ষোভ আর লজ্জা সহ্য করতে না পেরে ঘটে বিপত্তি। পলাশ নেমে পড়ে বিরোধীদল নিধন মিশনে। একে একে ৬টি মিথ্য মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়েছেন অসংখ্য নেতাকর্মী। পলাশের হিংস্র আচরণের জন্য তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বিচারাধীন।
উপজেলা নির্বাচনেও পূর্বশত্রু তার জেরে নেতাকর্মীদের আক্রমন চালানোর প্রমাণ রয়েছে। থেমে নেই তাঁর অপরাজনীতি। সর্ব শেষ যেই ঘটনাটি ঘটেছে সেটাও অনাকাঙ্খিত। গত ২১ মে উপজেলা নির্বাচনে আনারস প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থক সাবেক গুয়ারেখা ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্যাতনের ঘটনা।
২২ মে ¯স্থানীয় পাটিকেল বাজারের ফার্মেসীতে ঔষধ কিনতে গেলে পলাশের বিরোধী রাজনীতি করায় তার পোষা গুন্ডাবাহিনী নয়ন শেখ ,হেমাযেত হাং ,বাবলু শেখ ,ডানিয়াল শেখ ,নাঈম শিকাদার ,সানিসহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস শিকদারের ওপর হামলা মারধর আরম্ভ করে। তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা করলে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ বাধাপ্রদান করেন।
খবর পেয়ে নেছারাবাদ থানা পুরিশ ঘটনা¯’স্থলে উপস্থিত লোাকদের কাছে ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে প্রত্যক্ষদর্শী ওই আইনজীবীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানান, ২২ মে সন্ধ্যা অনুমান পৌনে আট’টার দিকে সানিসহ অন্যান্যরা দোকানের ভেতর ঢুকে চেয়ারম্যানকে হেচকা টান মারে বেরকরে নিতে চাইলে আমরা বাধা প্রদান করি। তারপর আবারও বেরকরতে চাইলে ব্যর্থহয়।
পরে হুমকি দিয়ে বলেন,নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান হক গাজীকে কয়হাজার ভোট দিয়েছ রেডি থাকো দেখে নেব। তাঁকে জানে শেষ করে দেওয়ারও হুমকি দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও বলেন পলাশ শিকদারের সন্ত্রাসী বাহিনীরা যা করছেন সেটা অপ্রত্যাশিত। সমগ্রিকভাবে বলতে গেলে পলাশ ¯’ানীয়দের নিরাপত্তার জন্য।
সে অস্তিত্বসংকটে টালমাটাল অব¯’ায় যে কোনো সময় তাঁর আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। পুলিশের কাছে একাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষ্যপ্রদানের ভিডিও ফুটেজ প্রতিবেদকের হাতে রযেছে। থানা পুলিশ হাজির হয়ে ¯স্থানীয়ভাবে ঘটনার সত্যতা পেলেও অদৃশ্য কারণে মামলা নেওয়া হয়নি।
পলাশ শিকদারের ওপর একাধিক মামলা চলমান আছে এবং অবৈধ টাকা কামানোর উৎস রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের এক জমিতে ডাবল নকশা, একাধিক ব্যক্তির নিকট নকশার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিযে নেওয়া , নকশা ছাড়া পাঁচতলা ভবন নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ আসতেছে পরবর্তী সংখ্যায়।
এ বিষয় ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা নেছারাবাদ থানার এস আই ওয়ালিদ এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ঘটনা সত্য তাহলে বাদীপক্ষ আর আামাদের সাথে যোগাযোগ করেন নি। এজন্যে মামলা নেওয়া হযনি।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক জোন ২/১ এর অথরাইজড অফিসার পলাশ শিকদারের কাছে জানতে চাইলে তার কোনো বত্তব্য পাওয়া যায়নি। তারঁ হোয়াটঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর দেইনি।

