ইইউ প্রতিনিধিদলের সাথে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক শ্রমিক কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপে ইইউ সন্তুষ্ট

0
803

ঢাকা ঃ ১৪ চৈত্র ( ২৮ মার্চ )  ঃ
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের(ইইউ) সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এভ্রিথিংস বাট আর্মস(ইবিএ)-এর আওতায় বাংলাদেশ ইউরোপিয়ন ইইউনিয়নের কাছ থেকে জিএসপি সুবিধা পেয়ে আসছে। বাণিজ্য সুবিধা প্রদানের জন্য ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের দেওয়া বাণিজ্য সহযোগিতা কাজে লাগছে। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক কারখায় নিয়োজিত শ্রমিকদের কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের পার্লামেন্ট মেম্বারগণ। মন্ত্রী বলেন, অপ্রত্যাশিত রানাপ প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার এবং তৈরী পোশাক শিল্পের মালিকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় গৃহীত পদক্ষেপের কারনে বাংলাদেশে আর কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। শ্রমিকদের সাথে মালিকদের সম্পর্ক খুবই ভালো। ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের দেওয়া পরামর্শ মোতাবেক বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশে এখন কর্মবান্ধব ও নিরাপদ গ্রীন ফ্যাক্টরী গড়ে উঠছে। কারখানা কমপ্লায়েন্স করতে মালিকদের বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে, তবে তৈরী পোশাক ক্রেতারা পোশাকের মূল্যবৃদ্ধি করছে না। পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন।
মন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে বাংলাদেশে সফররত ইউরোপিয়ন পার্লামেন্টের ৪জন পার্লামেন্ট মেম্বারসহ ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময় করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এ সব কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন বাংলাদেশের বড় ব্যবসায়িক অংশীদার। বাংলাদেশ গত বছর ৩৪.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর ৫৪ ভাগ অর্থাৎ ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য ইউরোপিয়ন ইউনিয়নে রপ্তানি করেছে। ইউরোর অবমূল্যায়ন না হলে এ রপ্তারি পরিমান দাড়াঁতো ২০ বিরিয়িন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচন ও উন্নয়নে ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের পরামর্শ এবং আইএলও-এর বিধান মোতাবেত দেশে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শ্রমিকদের বার্গেনিং অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। একটি কপারখানার ৩০ শতাংশ শ্রমিক চাইলে একটি ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ পাচ্ছেন। ইপিজেড-এ শ্রমিকরা ওয়ার্কার্স ওয়েল ফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন গঠনের মাধ্যমে তাদের অধিকার ভোগ করছেন। বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার এ খাতের শ্রমিকদের ৩৩৬ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করেছে, বর্তমানে সরকারি কর্মচারিদের মতো ৫ শতাংশ হারে ইক্রিমেন্ট পাচ্ছেন, ৫ বছর পর নিয়ম মোতাবেক নতুন পে-কমিশন গঠিত হবে।
সফররত ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের  ডেলিগেশন প্রধান আর্নি লিয়েট(গৎ. অৎহব খরবঃু) সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন ইবিএ-এর আওতায় বাংলাদেশের সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ইইউ চায় শ্রম আইন মোতাবেক বাংলাদেশের শ্রমিকরা অধিকার ভোগ করুক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সন্তোষ জনক ভাবে কাজ করেছে। শ্রমিকদের অদিকার রক্ষায় কাজ অব্যাহত রাখতে হবে, আরো বেশি কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন সন্তোষ জনক।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শুভাশীষ বসু, প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে ইইউ পার্লামেন্টের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারপারসন লিনডা এমসিএ ভ্যান( গং. খরহফধ গপঅ াধহ ), এস এন্ড ডি ডেভেলপমেন্ট কো-অডিনেটর নরবার্ট নিউসার(গৎ.ঘড়ৎনবৎঃ ঘবঁংবৎ), এস এন্ড ডি এনআইটিএ এগনেস জনজিরিয়াস(গং. অমহবং ঔড়হমবৎরঁং) এবং ঢাকাস্থ ইইউ  এ্যাম্বাসেডর পিয়েরি মায়াডোন(চরবৎৎব গধুধঁফড়হ)  উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

(মো. আব্দুল লতিফ বকসী)

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here