মুহাম্মদ জুবাইরঃ
একে একে দুই আসামী গ্রেফতারের পর দুই দফা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবুও উদ্ধার হয়নি বর্তমান সময়ের আলোচিত ঘটনা চট্টগ্রামের সেই চুরি যাওয়া পবিত্র হজের প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা ও সাড়ে ২৩ ভরি স্বর্ণ। গত সোমবার (১৩ই মে) রাত ৩টায় নগরীর আগ্রাবাদ মৌলভী পাড়ার একটি বাসা থেকে হজের জমানো প্রায় ১৯ লক্ষ টাকাসহ সাড়ে ২৩ ভরি স্বর্ণ চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র। পরবর্তীতে চলতি মাসের ১৬ তারিখ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে আলোচনায় আসে ঘটনাটি। সংবাদ প্রকাশের পর পরই তৎপর হয় পুলিশ। এখানেই শেষ নয়, ভুক্তভোগী ঐ দম্পতি আগের দিন মামলা করলে অর্থ্যাৎ ১৪ তারিখ মামলা করলে পরের দিন এক আসামীকে আলামতসহ গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যমথে রাজধানী ঢাকা থেকে আরেক আসামীকেও গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। সব মিলিয়ে কিছু আলামত উদ্ধার করা গেলেও উদ্ধার হয়নি দম্পতির হজে যাওয়ার একটি টাকাও। ফলে প্রতিটি ক্ষন যন্ত্রনায় কাটাতে হচ্ছে পরিবারটিকে। এ বছর হজে যাওয়া প্রায় অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে তাদের।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ও ভুক্তভোগীর তথ্যমতে জানা যায়, গলির আশেপাশে ঘুরঘুর করা এই দুই ব্যক্তিকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও তদন্তের স্বার্থে এখনি কিছু বলতে নারাজ সংস্থাটি। সেদিন ঘটনাটি ঘটার মাত্র কয়েক মিনিট আগের ভিডিও এটি। এর পরপরই জসিম রোজিনা দম্পত্তির তিনতলার বাসার বাইরে থেকে জানালার গ্রীল কেটে আলমারির তালা ভেঙ্গে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয় নগদ ১৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ও সাড়ে ২৩ ভরি স্বর্ণ। স্বর্ণের আশা ছেড়ে দিলেও হজের জন্য জমানো টাকা উদ্ধারের আশায় জসিমের স্ত্রী রোজিনা। জীবনে একবার হলেও পবিত্র হজ করতে চান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে সরাসরি সিএমপির ডবলমুরিং থানায় গেলে ওসি ফজলুল কাদের চৌধুরী ক্যামেরার সামনে অন রেকর্ডে কোন বক্তব্য দেননি। নগদ টাকাসহ স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। খুব শীঘ্রই এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে বলেও আশ্বাস তার।
এদিকে আসামী গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। শীঘ্রই বাকী আসামীদেরও আইনের আওতায় এনে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার হবে বলে আশা সিএমপির ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তার।
চুরির ঘটনাটি ঘটার পর থেকেই এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। চুরির মালামাল দ্রুত উদ্ধারপূর্বক অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় এলাকাবাসীরা।

