আল্লাহ তায়ালার চারটি ওয়াদা

0
237

তোমরা আমাকে স্মরণ করো আমিও তোমাদের স্মরণ করব। [সূরা আল- বাকারা:৫৪] তোমরা আমার কাছে দু ‘আ করো আমি কবুল করব। [সূরা আল-গাফির:৬০] তারা যখন ক্ষমা প্রার্থনা করে আল্লাহ তখন তাদেরকে শাস্তি দিবেন না। [সূরা আল- আনফাল :৩৩] যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো অবশ্যই আমি তোমাদের রিজিক বাড়িয়ে দেবো। [সূরা ইব্রাহিম :০৭]

Advertisement

এলেমের ফজিলত – কবরে ফেরেশতাদের পরীক্ষা ও ৪টি কাজের নির্দেশ ও ৪টি কাজ নিষেধগুলো কি ৮৬। হাদীস: হযরত আম্মা (রাঃ) বলেন, আমি এক সময় হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে আসলাম, তখন তিনি নামায পড়ছিলেন। অতপর আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, লোকদের কি অবস্থা? তিনি আসমানের দিকে ইশারা করলেন। তখন দেখতে পেলাম, সব লোকই নামাযে দাঁড়ানো। তারঃপর তিনি মুখে ‘সোবহানাল্লাহ’ বললেন। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, কোন আযাব গজবের নিদর্শন আছে কি? তিনি মাথা দ্বারা (হ্যাঁ সূচক) ইঙ্গিত করলেন। তারপর আমিও তাদের সাথে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলাম। অনেকক্ষণ একই অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আমার বেঁহুশী দেখা দিল। তা দূর হওয়ার পর আমি মাথায় পানি দিতে লাগলাম। অতঃপর নবী করীম (সঃ) মহান আল্লাহর হামদ ও সানা আদায় করে বললেন, যে সব কিছু আমি কখনো দেখতে পাইনি, আজ এস্থানে এ মুহূর্তে আমাকে সে সবকিছুই দেখানো হয়েছে। এমন কি বেহেশত দোযখও দেখানো হয়েছে। আর আমার কাছে অহী করা হয়েছে, অবশ্যই কবরে তোমাদেরকে মসীহে দাজ্জালের ফেত্‌নার মত অথবা তার অনুরূপ ফেতনা দ্বারা পরীক্ষা করা হবে, (আনাস বলেন, এস্থলে আসমা (রাঃ) ‘মেসাল’ অথবা ‘কারীব’ কোন শব্দ বলেছেন, তাতে আমার সন্দেহ হচ্ছে)। হযরত আসমা (রাঃ) আরো বলেন, কবরে মাইয়্যেতকে ফেরেশতা প্রশ্ন করবে, এ ব্যক্তি (মুহাম্মদ সঃ) সম্পর্কে তোমার কি জানা আছে? তখন ঈমানদার ব্যক্তি হলে উত্তর দিবে, ইনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ), যিনি আমাদের কাছে বিভিন্ন মো’জেযা এবং হেদায়াত সহকারে এসেছিলেন। আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ঈমান গ্রহণ করেছি। ইনি হলেন মুহম্মাদ (সঃ)-তিন তিন বার এ কথা বলবে। অতঃপর ফেরেশতারা তাকে বলবেন, তুমি আরামের সাথে ঘুমাও। আমরা জানতাম, তুমি তাঁর প্রতি বিশ্বাসী ছিলে। আর যারা মোনাফেক (সন্দেহ পোষণকারী) তারা উত্তর দিবে, এ ব্যক্তি সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। তবে আমি লোকদেরকে কিছু বলতে শুনেছি, তাই আমিও বলেছি। ৮৭। হাদীসঃ হযরত আবূ জামরা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রা) ও লোকদের মধ্যে দোভাষীর কাজ করতাম। একদিন ইবনে আব্বাস (রা) বললেন, আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী (সা) এর কাছে এলে, তিনি বললেনঃ তোমরা কোন প্রতিনিধি দল? অথবা বললেনঃ তোমরা কোন্ গোত্রের? তারা বলল, ‘রাবী’আ গোত্রের। তিনি বললেনঃ মারহাবা। এ গোত্রের প্রতি অথবা এ প্রতিনিধি দলের প্রতি, এরা কোনরূপ অপদস্থ ও লাঞ্চিত না হয়েই এসেছে। তারা বলল, ‘আমরা বহু দূর থেকে আপনার কাছে এসেছি। আর আমাদের ও আপনার মাঝে রয়েছে কাফিরদের এই ‘মুযার গোত্রের বাস। আমরা শাহর-ই হারাম ছাড়া আপনার কাছে আসতে সক্ষম নই। সুতরাং আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন, যা আমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের কাছে পৌঁছাতে এবং তার ওসীলায় আমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারি। তখন তিনি তাদের চারটি কাজের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি কাজ থেকে নিষেধ করলেন। তাদের এক আল্লাহর উপর ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন তিনি বললেনঃ এক আল্লাহর উপর ঈমান আনা কিরূপে হয় জান? তারা বললঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ ‘তা হল এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল, নামায কায়েম করা, যাকাত দেওয়া এবং রমযান-এর সিয়াম পালন করা আর তোমরা গনীমতের মাল থেকে এক পঞ্চমাংশ দান করবে।’ আর তাদের নিষেধ করলেন শুকনো লাউয়ের খোল, সবুজ কলস এবং আলকাতরার পালিশকৃত পাত্র ব্যবহার করতে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here