অনুসন্ধান প্রতিবেদনঃ
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের বনখেকো ওসমান গনির কাহিনী নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে। সেই বন কর্মকর্তা ওসমান গনির দুর্নীতির অনুসন্ধানে তার বাসায় বালিশের ভেতর, চালের মটকায়, বিছানার তলে টাকার পাহাড় পাওয়া গিয়েছিল। এবার আমরা জনতার গোয়েন্দা আপনাদের শুনাবো আরেক খেকোর বাস্তব গল্প। নাম মোঃ নাছির। তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামান্য বেতনের সাবেক নকল নবিশের এসিটিএক পদে। অবসরে এসেছেন গত মার্চ মাসে। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে নৈতিক পতনকে ত্বরান্বিত করে অর্থবিত্তের সীমাহীন লোভের দিকে গিয়ে, সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে, দুর্নীতির মাধ্যমে রাতারাতি বিলাশবহুল গাড়ি ও বাড়ি, ফ্ল্যাটের মালিক হয়ে, ব্যাংকে সঞ্চিত করে কোটি কোটি টাকা। হ্যা সেই দুর্নীতি গ্রস্থ্যর নাম নকল নবিশ মোঃ নাছির। কাগজ কেটে ও মুছে শত শত কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন চাকরীতে থাকে অবস্থায়। সামন্য বেতনে নকল নবিশ কি করে এ রকম আলিশান বাড়ি ও এফ প্রিমিউ গাড়ি ব্যবহার করেন দেখে যে কেউর মাথা ঘুরাবে।
কাগজ কেটে সাবাড় করে অন্য মানুষের বারোটা বাজিয়ে টাকার পাহাড় বানিয়ে তিনি চিরসুখী হয়ে স্বপ্নপুরীতে বসবাস করছেন। আর সে দায়ভার নিতে হয় সরকারকে। এ জন্যই কি দেশ স্বাধীন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আর দেশ গড়ার জন্য লড়ছেন তারই সুযোগ্য কন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যখন উন্নয়নের মাহাসড়কে বাংলাদেশ তখনই এই নকল নবিশ খবিশরা দেশকে রসাতলে নেওয়ার পায়তারা করছেন যা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সামিল। জাতীয়ভাবে তাদের বিচার করার দাবি রাখে এ দেশের আপমার জনসাধারন। রাজধানীর ঢাকার মেরুল বাড্ডার ডি আইটির প্রজেক্টে ১৪ নম্বর সড়কের ২৩ নং রাজকীয় নজরকারা বাড়িটির ৩য় তলায় তিনি থাকেন। তার দুর্নীতি বিষয়ে বাড়িতে কথা বলতে গেলে গেটের দারোয়ান বাসায় নাই বলে জানিয়ে দেয়। নকল নবিশ নাছিরের ফোন অথাবা মোবাইল নম্বর চাইলে দেওয়া নিষেধ আছে বলে দারোয়ান এই প্রতিবেদককে জানান। একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্বব হয়নি। তার উপরি টাকা দিয়ে শুধু ঐ বাড়িটি নয় মেরুল বাড্ডা ডিআইটির একই প্রজেক্টে ১৪ নং সড়কে ২৮ নং প্লট এবং ১৪ নং সড়কে ৩০ নং প্লটও তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি। নামে বেনামে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই নকল নবিশ নাছির। তার গ্রামের বাড়ি কাপাসিয়াতে যৌথভাবে গড়ে তুলেছে ল্যান্ড প্রজেক্ট যা জনতার গোয়েন্দার অনুসন্ধানে আছে। আগামি সংখ্যায় তার পারিবারিক ও গ্রামের আলিশান বাড়ি এবং সম্পত্তি নিয়ে চমক করা সংবাদ থাকবে।

তথ্য সূত্র আরও জানায়, ২য় স্ত্রীকে নিয়ে মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টের ২৩ নং বাড়িতে বসবাস করেন তিনি। পারিবারিক এক সূত্র থেকে জানা যায় আগের সংসারে তার ২ মেয়ে ১ ছেলে। ২য় স্ত্রীরকে নিয়ে খুব আনন্দেই আছেন নকল নবিশ নাছির।
নকল নবিশের পেশায় কর্মরত থাকা অবস্থায় সে যে অপকর্ম করে যে ক্ষতি করেছে তা অপূরনীয় থাকবে আজীবন। ঢাকার তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সূত্র জানায়, নাছির নকল নবিশের এসিটিএকে কর্মরত থাকা অবস্থায়, গুলশান, বারিধারা ও বানানীর জায়গা জমির মূল বলিউমের অনেক পাতা কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে ব্যানিশ করেছেন। একজন সাধারন মানুষ জমি সংক্রান্ত তল্লাশিতে গেলে অফিসিয়ালী রেকর্ডে দেখা যায়, হয় পৃষ্ঠা নাই অথবা তল্লাশিকৃত পৃষ্ঠাটি অস্পষ্ট অথবা সাদা। যা তিনি ক্যামিকেল ব্যবহার করে ব্যানিশ করতেন বলে তথ্য সূত্র জানয়া। নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন ঢাকা জেলার তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে কর্মরত এক্সট্রা মোহরার (নকল
নবিশ) থাকা অবস্থায়। জাল দাতা দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রিকরণ, ভুয়া মর্টগেজ, দলিলের পাতা বদলানো, কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করা ইত্যাদি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল তার কাছে। এ রকম খবিশের কাজ করতে এ নকল নবিশ নাছির। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি এই প্রতিবেদককে বললেন, ভাই নাছিরের ঘটনা মত ঘটনা স্বচোখে দেখে যান, রুমটিতে ঢুকতেই দেখা যায়, এজলাশের সামনে টেবিল বসে টাকা গুণছে একজন নকল নবিশ এবং মূল দলিল ঘাটাঘাটি করছেন। স্থায়ী কর্মচারীকে বসিয়ে রেখে নকল নবিশ পে-অর্ডারে সিল মারছেন। স্থায়ী কর্মচারীরা অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছেন। আবার কারো কাজ না থাকায় রাতের ঘুমটা যেন দিনেই সেরে নিচ্ছেন। লোকে বলে এ দেশের সমৃদ্ধির বারো আনাই খেয়ে ফেলে দুর্নীতি। সরকারি কাজে দুর্নীতির ঠেলায় সুনীতি বা নীতিবানদের চরম দুর্দশার শেষ নেই। বেসরকারি খাতেও এ রোগ ছড়িয়ে গেছে ক্যান্সারের মতো। এদের কারণে ধ্বংস হতে চলেছে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো। এদের মাধ্যামে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে চলছে নিয়ম ভাঙার মহোৎসব। এরা হরিণ পোষেন মনের সুখে চড়েন দামি গাড়িতে, থাকেন আলিশান বাড়ি করে। আর ব্যাংকের টাকার কথা কী বলব? এর পরও তাদের ক্ষুধা মেটে না। সাতপুরুষ বসে খাওয়ার মতো সম্পদ ভোগদখল করে থাকলেও লোভ সামলাতে পারে না তারা। ফলে বন খায়, ধন খান, হাওর-বিল-খাল ও নদী খেয়েও গিলে খায় কাগজ। খাওয়ার লিপ্সার যেন শেষ নেই। কত ক্ষুধা আছে ওদের পেটে! নকল নবিশ নাছিরের খাস বাংলোর চিত্ত বিনোদনের কিচ্ছা কাহিনী নিয়ে সাপ্তাহিক জনতার গোয়েন্দায় আগামি সংখ্যায় চমক সংবাদ প্রাকাশতো থাকছেই। সাথে থাকছে আসছে টেলিভিশনভিত্তিক ধারাবাহিক গীত রচনা “ আমরা জনতার গোয়েন্দার” ব্যানারে নকল নবিশ নাছিরের দুর্নীতির কিচ্ছা কাহিনী।


