অপরাধ বিচিত্রা: ভাইরে-আমি আর কোনদিনও মাদক ব্যবসা করবো না। শুধু একটাই অনুরোধ, পুলিশ যেন আমাকে অযথা হয়রানী না করে। আপনারা আমার এই অনুরোধটুকু একটু খেয়াল রাখবেন। আমি যখন মাদক ব্যবসা করতাম, তখন পুলিশ আমাকে ঝর্ণা আপা বলে ডাকতো, আর এখন ২ বৎসর যাবত ব্যবসা করিনা-তারপরও পুলিশ মাঝে-মাঝে শত শত মানুষ ও সন্তানদের সামনে লাথি মেরে গাড়ীতে উঠাতে চায়। কথাগুলো বলছিলেন-রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার এক সময়ের গাঁজা বিক্রেতা ঝর্ণা বেগম। এই ব্যবসায় আপনি কিভাবে জড়ালোন-এমন প্রশ্নের উত্তরে অঁেঝার ধারায় হাউ-মাউ করে কেঁদে উঠে বললেন: স্বামী ১টি প্রতিবন্ধী সন্তান সহ ৩টি নাবালক শিশু রেখে অকালে স্টোক করে মারা যায়। আমি ও আমার সন্তান অনাহারে-অর্ধারে কোন রকম বেঁচে ছিলাম। তখন আত্মীয়-স্বজন সহ কোন মানুষ আমাদের ঐ বিপদের সময় কোন রকম সাহায্য-সহযোগিতা বা খোঁজ খরব নেয়নি। আমার অবুঝ সন্তানেরা যখন খাবারের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল-ঠিক তখনই একজনের বুদ্ধিতে এই ব্যবসা আরম্ভ করি। মাঝে-মাঝে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কারণে দৌড়ানো সহ পলাতক থাকলেও কোনদিন খাবারের অভাববোধ করিনি।
আমি এই ব্যবসা করে ঢাকা শহরে একটি বাড়ীও করেছিলাম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই বাড়ীটি বিক্রয় করে দিয়ে বর্তমানে নদীর পাড়ে একটি ঘিঞ্জি বস্তিতে বসাবাস করতে হচ্ছে। চলমান র্যাবের অভিযান শুরুর দিকেই আমি সন্তান সহ পালিয়ে যাই। ব্যবসা করাকালীন আমার বিরুদ্ধে ২টি মাদক মামলাও করা হয়। বর্তমানে আমি ঐ মামলায় জামিনে আছি।
দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার কারণে পরিবারের খোরপোষ ও মামলার টাকা জোগার করতে প্রচুর টাকার ঋণী হয়ে যাই। উল্লেখিত বাড়ীটি বিক্রয় করে ঋণের টাকা শোধ করি। আমি যখন মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ি তখন আমার সন্তানেরা নাবালক ছিল। বর্তমানে আমার বড় ছেলে মাটি কাটা শ্রমিকের কাজ করে।
যেদিন কাজ করে সেদিন ৬০০/- টাকা হাজিরা পায়, সেই টাকা দিয়েই আমরা কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। স্থানীয় আশে-পাশের বাসিন্দারা আমার এই করুণ পরিস্থিতি দেখে তারাও আমাকে সহমর্মিতা জানায়। অহেতুক পুলিশের হয়রানী থেকে আশে-পাশের স্থানীয়রা আমাকে রক্ষা করে।
প্রয়োজনে তারা আমার পক্ষে অঙ্গীকারনামাও দেয়। আমি প্রতিজ্ঞাপূর্বক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সমাজের সকল লোকদেরকে জানাচ্ছি যে, ভবিষ্যতে আমি যদি কোন রকম মাদক ব্যবসা করি তাহলে রাষ্ট্র,
সমাজ এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আমার বিরুদ্ধে যে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে শাস্তি প্রদান করে তাহলে উহা আমি নির্দিধায় মাথা পেতে নেব। এভাবেই কথাগুলো বলছিল-এক সময়ের মাদক বিক্রেতা ঝর্ণা বেগম। যেহেতু সে ভাল হতে চায় তাই তাকে ভালো হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিৎ। আশা করা যায় ঝর্ণা বেগম ভবিষ্যতে তার ওয়াদা অক্ষরে-অক্ষরে পালন করবেন।

