আদালতের নির্দেশে চেয়ারম্যান জাকিরের নামে মামলা হলেও গ্রেপ্তার করছেনা ওসি আলমগীর

0
589

স্টাফ রিপোর্টারঃ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার তন্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের নেতৃত্বে তার গ্রামেরই অধিবাসী আলী হোসেনের পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ী ভাংচর, আসবাপত্র লুটপাট ও শাররিক নির্যাতনের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে শ্রীনগর থানায় মামলা রেকর্ড করার প্রায় ১২দিন পেরিয়ে গেলেও আসামী জাকিরকে গ্রেফতার করছেনা ওসি আলমগীর হোসেন।

Advertisement

ভাংচুর, লুটপাট, মারামারি বা সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থানা পুলিশ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত যে কাউকে অভিযোগ ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে। অথচ সন্ত্রাসী চেয়ারম্যানে জাকিরের নামে ভূক্তভোগী আলী হোসেনের সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেয়েও মামলাই গ্রহন করেনি ওসি আলমগীর। তদন্তের নামে কালক্ষেপন করে নাটকীয় মাদক মামলায় আলী হোসেনকে কোর্টে চালান করলেও আলী হোসেনের অসহায় স্ত্রী ফুলমালা দীর্ঘ দিন দ্বারে দ্বার চেষ্টা করে কোর্টে গিয়ে পিটিশন মামলা দায়ের করলে কোর্টের নির্দেশে শ্রীনগর থানায় ঐ মামলাটি রেকর্ড করতে বাধ্য হয় ওসি আলমগীর। কিন্তু মামলা রেকর্ড করার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও কোন প্রকার ব্যবস্থাই গ্রহন করেনি ওসি আলমগীর। এই কারনে সাধারন জনমনে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আর আলী হোসেনের স্ত্রী ফুলমালা তার তিন সন্তান নিয়ে ঘরবাড়ী হারিয়ে গ্রাম ছাড়া হয়ে ওসি আলমগীর ও সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান জাকিরের ভয়ে পালিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগি ও স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার তন্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন জাকির হোসেনের ভাই মিনার হোসেন একই গ্রামের আলী হোসেনের ৮ম শ্রেনি পড়–য়া মেয়ে সুমাইয়াকে কু-প্রস্তাব দিলে সে রাজি না হওয়াতে ওই বখাটে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নষ্ট করার হুমকি দেয়। ঘটনার শিকার সুমাইয়া তার বাবা-মাকে বিষয়টি সব খুলে বললে তার বাবা ঈদুল ফিতরের দিন মিনারের নামে একটি শ্রীনগর থানায় একটি অভিযোগ করেন। ভাইয়ের নামে অভিযোগ করা হয়েছে বিষয়টি ওসি আলমগীর নিকট থেকে জানতে পেরে চেয়ারম্যান জাকির তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে। অভিযোগটি যেন মামলায় নথিভুক্ত না হয় সেই জন্যে মোটা টাকায় ওসি আলমগীরকে ম্যানেজ করে চেয়ারম্যান জাকির, পলাশ, নিঝু মল্লিন, ফারুক, বজলু, রকিব, হারুন, নাসিরসহ প্রায় ৫০/৬০ জনের একটি বুলডুজার বাহিনী নিয়ে ঈদের দ্বিতীয় দিনে আলী হোসেনের বসত বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ঘর বাড়ী ভাংচুর করে মাটির সাথে গুড়িয়ে দেয়। এসময় সন্ত্রাসীরা ঘরের ভিতরে থাকা ফ্রিজ,হাড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন আসবাব পত্র পুকুরে ফেলে দেয় এবং নগদ টাকা, মোবাইল ফোন স্বর্নের চেইন লুট করে নিয়ে যায়। এঘটনায় আলী হোসেন ঐ দিনই ওসি আলমগীরের নিকট চেয়ারম্যান জাকিরের নামে আবারো একাটি অভিযোগ দায়ের করে বাড়ী ফেরার পথে র‌্যাবে হাতে নাটকীয়ভাবে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়। এরপর থেকে আলী হোসেনের স্ত্রী ফুলমালা থানা পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে জাকিরের ভয়ে দীর্ঘ দিন পালিয়ে থেকে মুন্সীগঞ্জ কোর্টে গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ১০/৩০ ধারায় একটি পিটিশন মামলা করেন। যাহার মামলা নং-২১০/২০১৮। কিন্তু আদালতের নির্দেশে ১১ জুলাই ২০১৮ তারিখে শ্রীনগর থানায় ঐ মামলাটি রেকর্ড করতে বাধ্য হয় ওসি আলমগীর হোসেন। যাহার মামলা নং-১৬। মামলাটি রেকর্ড করার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও ওসি আলমগীর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। আর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশাও করছে না ভুক্তভোগি পরিবার। ফুলমালা বেগম কান্নারত কন্ঠে বলেন, আমরা গরীব বিধায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের দারস্ত হলেও প্রভাবশালী চেয়ারম্যান জাকির ও তার সঙ্গীদের গ্রেফতার করছে না থানা পুলিশ। ঘর-বাড়ি ছাড়া অসহায় পরিবারে ফুলমালা আরো বলেন, আমার এক ছেলে ফাহাদ ও মেয়ে সুমাইয়া নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনিতে এবং আরেক ছেলে আহাদ ৭ম শ্রেনিতে লেখা পড়া করে। সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে আমার ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছেনা। প্রতি মুহুর্ত আতংকে দিন পার করছি।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও শ্রীনগর সার্কেল কাজী মাকসুদা লিমার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘এখনও তদন্ত চলছে’। তবে পুলিশের রোষানল থেকে বাচতে এই সংবাদ প্রতিনিধি দ্বিতীয় বার আর এই প্রশ্ন করেনি ‘আর কত কাল চলবে এই তদন্ত’

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here