আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে

0
1689

রিপোর্টার নানা : আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘‘ প্রধানমন্ত্রী প্রায় বিদেশ সফরে যান, খুব নির্ভিগ্নে যান এবং শান্তিতে ঘুরাঘুরি করে আসেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ভুটানে গিয়েছেন প্রতিবন্ধীদের তিনদিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন করতে। কী তার দেশের রাজনীতিকে তিনি পুরোপুরি প্রতিবন্ধী করে রেখে দিয়েছেন, মানুষকে সম্পূর্ণভাবে পঙ্গু করে রেখে দিয়েছেন। সেই দিকে থেকে তার কোনো খেয়াল নেই, সেই নজর নেই।” তিনদিনের সফর শেষে সকাল ভুটান থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী অটিজম বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন এবং থিম্পুর হেজো-তে বাংলাদেশ দূতাবাসের নতুন চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে দলের নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর পাঁচ বছরপূর্তি উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল বনানীর কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে একদল সদস্য তাকে ও তার গাড়িচালক আনসার আলীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার বিষয়টি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিরোধী দলের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা। কারো ১০টা, কারো ১৫টা, কারো ২০টা, কারো ৪০টা, কারো ১০০টা-১৪০টা মামলা আছে। এই যে বিএনপির বিরুদ্ধে এতো মিথ্যা মামলা, অত্যাচার, নির্যাতন- এটা সরকার কেনো করছে? এর একটা মাত্র কারণ তারা জানে যে, এটা যদি না করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। সেই কারণে তারা অসংখ্য মানুষকে গুম করে, খুন করে, নির্যাতন করে, গ্রেপ্তার করে স্তব্ধ করতে চায়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬ টা মামলা। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৮০ টার কাছাকাছি মিথ্যা মামলা দিয়ে চলেছে। আমাদের সব নেতার বিরুদ্ধে মামলা। এটাকে তারা হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে আমাদেরকে স্তব্ধ করার জন্য। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার তার কোনো শক্তি নাই, সেজন্য কারণে সে আজকে মিথ্যা মামলা দিয়ে রুখতে চায়। ‘বলপূর্বক অপহরণ ও গুম করা’কে জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘ আজকের এই সরকার এই অপরাধে অভিযুক্ত, ভবিষ্যতে তাদেরকে এর জবাব দিতে হবে। শুধু ইলিয়াস আলী নয়, আমাদের ৫ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। এই অপরাধ ক্ষমা করার নয়। যারা এই অপরাধের সাথে জড়িত তারা ক্ষমার যোগ্য নয়। সরকারের দমনপীড়ন নীতির সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, এই সরকার বাংলাদেশের মানুষের ওপর গত ৮/৯ বছর ধরে যে স্টীমরোলার চালাচ্ছে এটা পৃথিবীর ইতিহাসে খুব বিরল, খুব কম দেখা যায়। আজকে  যে ‘গুম’- এই বিষয়টা এখন সভ্য সমাজে, সভ্য পৃথিবীতে নেই। এটা আছে শুধুমাত্র সেইসব দেশগুলোতে যেখানে আছে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত এককভাবে দেশ পরিচালনা করতে চায় সেসব জায়গায়। সেই ৬০ এর দশকে, ৭০‘র দশকে, সাউথ আমেরিকাতে আফ্রিকাতে এসব দেশে গুম হওয়ার ব্যাপারটা ছিলো। আগামী নির্বাচন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সেই ২০১৪ সালে কী নির্বাচন করেছেন? কোনো বিরোধী দল আপনার নির্বাচন নির্বাচনে অংশগ্রহন করে নাই। যার ফলে সেই নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে ও দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় নাই। খুব পরিস্কার করে বলা হয়, ইটস এ ফ্রড ইলেকশন, এটা গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নয়। আমরা বলব, বিএনপিকে কি করে নির্বাচনে আনবেন, সেই চেষ্টা করুন। ওই ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, বিএনপি নির্বাচনে না আসলে তার নিবন্ধন বাতিল হবে, সেই কথা বলে লাভ নেই।বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল, বিএনপি ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না, হতে পারে না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে
নির্বাচনের ব্যাপারে দলের অবস্থান পূনর্ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচন চাই। আমরা একটা নির্বাচনমুখী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার কথা আমরা কখনো চিন্তা করি না। সেই নির্বাচনে যাওয়ার জন্য তো একটা পথ লাগবে। প্রতি পথ প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করবেন, প্রতি পথ আটকিয়ে রাখবেন, আর আমাকে বলবেন নির্বাচনে যাও। আপনি ক্ষমতায় বসে থাকবেন, সমস্ত কল-কবজা নাড়বেন। ইলেকশন মেনিপ্যুলেটেড করবেন, আর আমাকে বলবেন তুমি নির্বাচনে যাও। সেটি হবে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, নিরপেক্ষ সরকার অধীনে যে সরকার কোনো পক্ষ নেবেন না ওই নির্বাচনকালীন সময়ে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। অন্যথায় এদেশের কোনো নির্বাচন হবে না। দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ভ্ইাস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, খায়রুল কবীর খোকন, হাবিবউন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, শামা ওবায়েদ, কামরুজ্জামান রতন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, এবিএম মোশাররফ হোসেন, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ বক্তব্য রাখেন। দলের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে শফিউল বারী বাবু, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, মোরতাজুল করীম বাদরু, হেলেন জেরিন খান, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশীদ হাবিব, আকরামুল হাসান প্রমূখ বক্তব্য দেন।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here