বাংলাদেশে প্রতিবছর দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং ৯১ হাজার ৩৩৯ জন বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে মারা যাচ্ছে। ক্যান্সার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা Globocan-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমান বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ১৩ থেকে ১৫ লক্ষ। ১৮ মার্চ রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে অবস্থিত মনিপুর স্কুল ও কলেজে ‘সচেতনতায় জীবন বাঁচায়’ শীর্ষক ক্যান্সার সচেতনতামূলক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় Cancer Awareness Foundation of Bangladesh -এর প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ মোহাম্মদ মাসুমুল হক একথা বলেন। শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সারে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে যার মূল ভূক্তভোগী হবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের জনগণ। বর্তমানে দেশের গড়ে প্রায় ৪ কোটি পূর্ণ বয়স্ক মানুষ বিভিন্ন উপায়ে তামাক ব্যাবহার করে। শুধু ধুমাপান বর্জন করলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি ৩৩ ভাগ পর্যন্ত হ্রাস করা সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশের পুরুষদের মধ্যে প্রধান তিনটি ক্যান্সার হলো ফুসফুসের ক্যন্সার, মুখ ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার এবং খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর ক্যান্সার। মহিলাদের মধ্যে প্রধান ক্যান্সার তিনটি হলো স্তন ক্যান্সার, জরায়ু-মুখ ক্যন্সার ও মুখ ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার।
শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের দরিদ্র জনগণকে স্বল্প খরচে ক্যান্সার চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিক। সরকার ১৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮টি বিভাগে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর ফলে ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা দেশের সর্বত্র পৌঁছে দেয়া অনেকটাই সম্ভব হবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, অসচেতনতার কারণে বিভিন্ন বয়সের মানুষ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই খাদ্যাভ্যাসসহ জীবনযাপনের বিভিন্ন ত্রুটি সম্পর্কে সকল বয়সী মানুষ, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করতে হবে। তিনি সকল বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের অবহিত করতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের আহবান জানান। মনিপুর স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

