অভিশপ্ত যানজট বিষফোঁড়া মহিপালের

0
914

যানযট নিত্য দিনের অভিশাপে পরিণত হয়ে উঠেছে ৬ লেনের ফ্লাইওভার উদ্বোধনের পরও যানজটে পরিপূর্ণ ফেনীর মহিপাল। বিভিন্ন পরিবহনের অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে মহিপাল ফ্লাইওভারের দু’পাশে যানজট এখন নিত্য দিনের ঘটনা। বর্তমানে এ সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যহত হচ্ছে   জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী গাড়ির দীর্ঘ সারি এ সড়কে যানজটের অন্যতম কারণ।

Advertisement

 

এছাড়া মহিপাল থেকে ফেনীর বিভিন্ন উপজেলা ও আঞ্চলিক সড়কে যাতায়াতকারী বাস, মিনিবাস, ট্রাক, সিএনজি, ইমাসহ বিভিন্ন যানবাহন মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে দু’পাশে স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে। এদিকে মহিপালের ফেনী-নোয়াখালী সড়কে ড্রেন নির্মাণ কাজের কারণে রাস্তার একাংশ দখলে চলে গেছে। এছাড়া ময়লা আবর্জনার কারণে রাস্তার একপাশ দখলে চলে গেছে। ফলে এ এলাকায় গাড়ি চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফেনীর মহিপালে ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি ৬ লেনের ফ্লাইওভার উদ্বোধন করা হয়। যানজট নিরসনে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী যানবাহন মহিপাল ফ্লাইওভার হয়ে পারাপার হবার কথা। ফলে নিচে সড়কে যানজট থাকবে না। কিন্তু এ নিয়ম মানছে না কেউই। দুরপাল্লার গাড়িগুলো ফ্লাইওভার ব্যবহার না করে নিচ দিয়ে চলাচল করে।  এছাড়া নিচে গড়ে উঠা হোটেল রেস্টুরেন্টে প্রতিনিয়ত যাত্রা বিরতির জন্য রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করা হয়। এতে ফ্লাইওভারের নিচের সড়কে চতুরমুখী গাড়ি এসে জড়ো হলে সীমাহীন যানজট লেগে থাকে। এদিকে বছরের পর বছর ধরে একটি সিন্ডিকেট মহিপালে স্ট্যান্ড চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। এ সিন্ডিকেট নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে মহিপালের সড়ক দখল করে গাড়ি পার্কিংয়ের অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গেছে। মহিপালের এক প্রভাবশালী কাউন্সিলরের নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে মহিপালে সড়কের উপর অবৈধ স্ট্যান্ড টিকে আছে বলে জানান স্থানীয়রা। ফলে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট নিজেদের প্রয়োজনে মহিপালে সড়কের উপর গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। মহিপাল থেকে মাইজদী-নোয়াখালীগামী সুগন্ধা কিং ও দ্রুতযান সার্ভিস, নোয়াখালী এক্সপ্রেস, যাত্রীসেবা, যমুনা, পায়েল, বসুরহাট এক্সপ্রেস, বলাকা, রয়েল ও বাঁধনসহ বিভিন্ন পরিবহনের গাড়িগুলো রাস্তায় পার্কিং করে রাখা হয়। ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ।  চাঁদার বিনিময়ে গাড়িগুলোকে মহিপালে স্ট্যান্ড করে দেয়া হয়েছে। মহিপালে সরকারি জায়গায় ঢাকা বাসস্ট্যান্ড নামে একটি স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হলেও সেখানে গাড়ি রাখার মতো কোন অবস্থা নেই।  এ অস্থায়ী স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রক মামুন চৌধুরী। এ স্ট্যান্ডটির কোন সংস্কার না করায় বর্তমানে তা কাদা পানিতে একাকার হয়ে গেছে। ফলে এ স্ট্যান্ডে গাড়ি না রেখে সড়কে রাখা হয়। এসব গাড়ি ঘন্টার পর ঘন্টা সড়কেই রাখা হয়। সড়কই এখন স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারনে যানজট লেগে থাকে। পুলিশের নাকের ডগায় এসব অবৈধ পার্কিং হলেও টনক নড়ছেনা পুলিশ প্রশাসনের।  এব্যাপারে ফেনী ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক গোলাম ফারুক ইনকিলাবকে জানান, মহিপালের যানজট নিরসনে নোয়াখালীর গাড়িগুলোকে ডাইভারশন সড়ক দিয়ে যাতায়াত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার ও ওভারপাসের দু’পাশে বাড়তি ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে তার প্রতিষ্ঠান রাতদিন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। যানজটের বিষয়ে আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন বাবলু ইনকিলাবকে জানান, মহিপালের কাউন্টারগুলো ব্যক্তিমালিকানাধিন। এর উপরে তাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। যতদিন স্থায়ী টার্মিনাল হবেনা ততদিন এসব সমস্যা সৃষ্টি হবে। তাই মহিপালে যানজট নিরসনে একটি স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণে ইতিমধ্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং ফেনীর এমপি নিজাম উদ্দীন হাজারী এমপির সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা মহিপালে একটি বাস ও একটি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

 

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here