অবশেষে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হল চাঁদাবাজ, তেল পাচারকারী ও ডাকাত মোফাজ্জল ওরফে বিষু

1
653

এম ডি জাহিদ: সন্ত্রাসি ডাকাত, চাঁদাবাজ, মাদক বিক্রি এই শব্দগুলোকে সাধারন মানুষ সবসময় ঘৃনার চোখে দেখে থাকেন। তাই বলে মোফাজ্জলের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। নারায়ণগঞ্জের বৈধ অবৈধ ব্যবসায়ীরা সব সময় মোফাজ্জলকে ভয়ে ছালাম দিত এবং চাহিবা মাত্র চাঁদা দিতে বাধ্য হত, তার কারণ সে কখনও সিআইডি ইন্সেপেক্টর, কখনও সিআইডি দারোগা, আবার কখনও বা ডিবির দারোগা বহুরুপি মোফাজ্জল ওরফে বিষুর বাড়ি ভারত বর্ষে। বৎসরে ৮/১০ বার ভারত যাতায়াত করে থাকেন। এই তেল চোর মোফাজ্জল সিআইডির একজন এডিশনাল এসপির নাম ভাঙ্গিয়ে দীর্ঘ ১৫-১৬ বৎসর যাবৎ নারায়ণগঞ্জ জেলায় সিআইডির ক্যাশিয়ার পরিচয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার সুফল নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকায় নির্মিত পাঁচতলা বাড়ি বিষু বিলা নামে পরিচিত। বাবুরাইল এলাকায় এই বাড়ি সিআইডি অফিসার বিষুর বাড়ি হিসাবে বেশ পরিচিত। এখানেই শেষ নয়, ফতুল্লা যমুনা গেইট এলাকায় রোসেং হাউজিং মসজিদ গলির শেষ মাথায় মোফাজ্জল সাত শতাংশ ভূমির উপর একটি বাড়ি রয়েছে, সেটিও সিআইডি অফিসার মোফাজ্জলের বাড়ি হিসাবে বেশ পরিচিত।

Advertisement

 

ঐ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হলেও নিজের মাদকের আড্ডা খানার জন্য একটি রুম বরাদ্ধ থাকে। প্রতিদিন ফতুল্লা যমুনা ডিপোর ট্যাংক লরির নেতা ছানা উদ্দিনকে নিয়ে মদের আসর বসাতেন মোফাজ্জল। হঠাৎ এক দিন ফতুল্লা থানার এক দারোগা মোফাজ্জলের আস্তানায় হানা দিলে মোফাজ্জলের নির্দেশে উক্ত দারোগাকে ট্যাংক লরির নেতা ছালা উদ্দিন চড় থাপ্পড় মারে। এ নিয়ে একটি মামলাও হয়েছিল। তবে বিষয়টি কোন না কোন ভাবে অনেক টাকা-পয়সা দিয়ে বিষয়টি ধামা চাপা দেন। মোফাজ্জল বর্তমানে সেই রোসেং হাউজিং সাত শতাংশ ভূমির উপর ১০ তলা বিল্ডিং করার পরিকল্পনা ছিলো। ইতিমধ্যে পাইলিং এর কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু পাপ কখনো পিছু ছাড়েনা হঠাৎ ভারত তেল পাচার করতে গিয়ে গত ২৬ মার্চ গ্রেপ্তার হয়। জানা যায় গত ২৬ মার্চ ভারত তেল পাচার করার জন্য ফতুল্লা নদীর পারে একটি টিনের ঘরে ৫৭টি ড্রামে ড্রামজাত করা হয়েছিল। ২৭ মার্চ ট্রলারের মাধ্যমে তেলগুলো ভারত পাচার করার জন্য মজুত করা হয়েছিল বলে জানা যায়। দীর্ঘ দিন যাবৎ এই তেল পাচার করে আসছে। মোফাজ্জালের সাথে জড়িত রয়েছে ইকবাল চৌধুরী নামের আরও এক ব্যক্তি। মোফাজ্জল ও ইকবাল চৌধুরী দুজনই মূলত পার্টনার। এই তেল বিক্রির টাকা আনা নেয়া করার জন্য মোফাজ্জল ওরফে বিষু বৎসরে ৮/১০ বার ভারত যাতায়াত করে থাকেন। এখানে উল্লেখ্য যে, তার পাসর্পোট চেক করলে আসল রহস্য বেড়িয়ে আসবে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। শুধু তাই নয় ১৫/১৬ বৎসর যাবৎ সিআইডি অফিসারদের চোখে ধুলি দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। যা কিনা হুন্ডির মাধ্যমে ভারত পাচার করেছেন মোফাজ্জল ওরফে বিষু। চাঁদাবাজ ও তেল পাচারকারী মোফাজ্জলের অপকর্মের বিষয়টি অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকায় বেশ কয়েক বার ছবিসহ দুটি বাড়ির সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে বেশ কয়েক জন এএসপি ও ইন্সেপেক্টর অন্যত্র বদলি হয়ে যায় একমাত্র ইজ্জত রক্ষার স্বার্থে। তবুও থেমে থাকেনি মোফাজ্জলের চাঁদাবাজি। অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে সিআইডি হেড কোয়াটার এডিশনাল এসপি রুহুল আমিন এর দোহাই দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন চাঁদাবাজ ও তেল পাচারকারী মোফাজ্জল ওরফে বিষু। শেষ রক্ষা হয়নি গত ২৬ মার্চ গ্রেপ্তার হন এই চাঁদাবাজ তেল পাচারকারী মোফাজ্জল ওরফে বিষু। অবৈধভাবে তেল মজুত করার অপরাধে মোফাজ্জল ও পার্টনার ইকবাল চৌধুরীসহ ১৫/১৬ জনের নামে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা হয়।

প্রভাত রয়েছে চোরের মায়ের বড় গলা, তেল পাচারকারী ইকবাল চৌধুরী ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ কোটে উল্টো পিটিশন মামলা দায়ের করেন। যাহার কোন ভিত্তি নেই। এই পিটিশান মামলা দায়ের করার জন্য চাঁদাবাজ মোফাজ্জল ওরফে বিষুর নির্দেশে ইকবাল চৌধুরী কোটে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। তাতে প্রতিয়মান হয় যে মোফাজ্জল শুধু চাঁদাবাজি ও তেল পাচারকারী শেষ নয় সে ইকবাল চৌধুরীর উপদেষ্টা হিসাবেও দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তবে মোফাজ্জল ওরফে বিষুর সব অবকর্মের গোমর ফাঁস হয়ে গেল। আরও গভীরে অনুসন্ধান চলছে বিস্তারিত আগামী সংখ্যায়।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here