অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থায় ক্রটি থাকায় বিভিন্ন হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসকে জরিমানা

0
569

পর্যটন সেবায় কক্সবাজার সৈকতের আশপাশে গড়ে উঠেছে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস। এসব হোটেল-মোটেলে নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা।

Advertisement

 

রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্য শহরে সম্প্রতি একাধিক অগ্নিকাণ্ডের কথা মাথায় রেখে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকা আবাসিক প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরায় অভিযানে নেমেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে সোমবার অভিযানের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম শেখ। এ সময় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থায় ক্রটি থাকায় কলাতলী বাইপাস রোড়ের সী ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টকে ৫০ হাজার, বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজকে ৩০ হাজার ও উইন্ডি ট্রেসকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মঙ্গলবারে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নাসরীন বেগম সেতুর অভিযানে কলাতলীর প্রতীক জিনিয়া হোটেলকে ৫০ হাজার, ঢাকা হোম হাইপেরিয়নকে ৩০ হাজার, পউষী বাংলা রেস্তরাকে ১০ হাজার ও হোয়াইট অর্কিড হোটেলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কক্সবাজার দমকল বাহিনীর কর্মকর্তা শাফায়েত হোসেন সাগর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হাইরাইজ বিল্ডিং হিসেবে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকায় হোটেল ও রেস্তরাকে প্রাথমিকভাবে জরিমানা করা হচ্ছে। ক্রটি সারিয়ে নিতে নির্দিষ্ট সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ না হলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাফায়েত হোসেন সাগর আরো বলেন, প্রথম অভিযানে ছয়তলার বেশী ভবন গুলোতে যাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এগুলো দেখা শেষ হলে ধারাবাহিক ভাবে বাণিজ্যিক ভবন গুলো অভিযানের আওতায় আসবে।

কক্সবাজারে অগ্নিনির্বাপক ক্রটির বিরুদ্ধে অভিযান

রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক জমির উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি ঢাকার বনানীতে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের পর একটা আতংক বিরাজ করছে। প্রশাসন ও হোটেল মালিকদের এখনই সতর্ক হওয়া জরুরি। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম শেখ ও নাসরীন বেগম সেতু বলেন, যে কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালানো হয়েছে সবারই অসতর্কতার বিষয়টি স্পষ্ট। সারাদেশের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্কতার জন্য এ অভিযান। অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থায় ক্রটি থাকায় প্রথমে জরিমানা করে সতর্ক করে পূর্ণতা আনতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক হোটেলে এ অভিযান পর্যায়ক্রমে চালবে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের পর্যটন বিকাশে এখানে চলছে লাখো কোটি টাকার মেগা প্রকল্প। তাই সব দিকে পরিপূর্ণ না হলে এখানে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোর মতো অগ্নিভয়াবহতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই দমকল বাহিনীসহ সকল বিভাগকে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা মজবুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হোটেল বা বহুতল ভবনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থায় ক্রটি সারিয়ে সতর্ক রাখতে মাঠে নামানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিকল্পিত পর্যটনের স্বার্থে এটি চলমান থাকবে বলে উল্লেখ করেন ডিসি

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here