জাকির সিকদার,রাজাপুর প্রতিনিধিঃ রাজাপুরে সরকারের সহায়তায় বিদ্যুৎ পেল এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক। মহিলার উপস্থিতিতে মিটার স্থাপন করে যখন বিদ্যুৎ চালু করা হয় মহিলাটির মধ্যে এক অনাবিল আনন্দ ও খুশি দেখতে পাই। হয়তো এতো খুশি সে এই প্রথম হলো। তার আনন্দের অংশীদার হতে পেরে নিজেকেও ভাগ্যবান মনে করছি।
এই কথাগুলো সবার সাথে শেয়ার করার কারন একটাই আমাদের সমাজে এরকম আরো অনেক মাজেদা বেগম আছে যারা অনাহারে,অযত্নে দিন কাটাচ্ছে। আমরা সমাজে যারা তাদের চেয়ে ভালো আছি সবাই যদি তাদের দিকে একটু সহায়তার হাত বাড়াই তবেই মানুষ জন্ম সার্থক হবে। মাজেদা বেগম, সামী:মৃত-আবুল হোসেন,এক মেয়ে ও ছোট এক ছেলে নিয়ে ভিক্ষা করে কোন রকম ভাংগা ঘরে দিন চলে যায়। আসে পাশে সবার ঘরে বিদ্যুৎ আছে। কিন্তু নিজের ঘরে কখনো বিদ্যুতের আলো জলবে ভাবতে পারেন নাই। তবে শখ ছিলো। সেজন্য গত ৩১/০৭/১৮ তারিখ আমার অফিসে আসে মিটারের জন্য আবেদন করতে।
আমার রুমে যখন আবেদন নিয়ে আসে তখন তাকে দেখে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল।
কৌতুহল বসত জানতে চাইলাম আপনি কি করেন।
বৃদ্ধ মহিলাটি উত্তর দিলো স্যার আমি ভিক্ষা করে খাই। সবার ঘরে বিদ্যুৎ আছে,কিন্তু আমার সামর্থ্য নাই। বললাম ঘর ওয়্যারিং করা আছে।
বলল স্যার খাইতে পারি না ওয়্যারিং করাবো কিভাবে। তবে আস্তে আস্তে করবো।
বললাম আপনার আবেদন করা লাগবে না,কাগজপত্র গুলো দিয়ে যান। আমি আপনার বিদ্যুতের সব খরচ দিবো।
বৃদ্ধ মহিলাটি একটু অবাক হলো,হয়তো বিশ্বাস করতে পারে নাই।
তৎখনাত ওয়্যারিং এর যাবতীয় মালামাল কিনে একজন ইলেকট্রিশিয়ান পাঠিয়ে দিলাম বৃদ্ধ মহিলার বাড়িতে। ওয়্যারিং এর যাবতীয় কাজ শেষ করে আজ দুপুরের দিকে হঠাৎ মিটারসহ মহিলার বাড়ীতে উপস্থিত হই।

