দিনজুড়েই নগরে ট্রাক চলাচল অসহনীয়ও যানজট

0
641

রোজার মাসেও নগরজুড়ে অসহনীয় যানজট। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে নগরবাসীর। যানজটে পড়ে অনেক রোজাদারকে বাধ্য হয়ে পথিমধ্যেই সারতে হচ্ছে ইফতার। দুর্ভোগের যানজট থেকে শিগগিরই মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাও দেখছেন না নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা। অথচ রমজান শুরুর আগেই নগর পুলিশ সড়কে যানজট পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছিল।

Advertisement

সেই ঘোষণার ইতিবাচক ফলাফল সড়কে পাওয়া যায়নি। অবশ্য, ট্রাফিক পুলিশ এর জন্য নগরের সড়কগুলোকে দায়ী করেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, নগরে সকাল-সন্ধ্যা যানজট। সন্ধ্যার পর নগরে ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে দিনজুড়েই নগরে ট্রাক চলাচল করছে। ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে নগরবাসীর। এদিকে ঈদ বাজার শুরুর পর মার্কেটকেন্দ্রিক যানজট তীব্র হওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাঁরা বলছেন, মার্কেটগুলোতে এখন প্রচণ্ড ভিড়। আর বাইরে গাড়ির জট। এছাড়া বেশির ভাগ সড়ক দখল করে গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। এ কারণেও যানজট বেড়েছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা। নগরের অলংকার মোড় থেকে কর্নেলহাট, জিইসির মোড়, দুই নম্বর গেট, বহদ্দারহাট, নিউমার্কেট, স্টেশন রোড, জুবলি রোড, দামপাড়া, কাজির দেউড়ি, বিশ্বরোড, বড়পুল, সল্টগোলা রেলক্রসিং, সিইপিজেড মোড়, অক্সিজেন, শাহ আমানত সেতু এলাকাসহ সর্বত্রই যানজট। তীব্র যানজটের কারণে কর্মজীবী মানুষের অফিস যাত্রাও বিঘ্নিত হচ্ছে। নিত্য যানজটের বিরক্তিকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে ব্যবসায়ী এম. তারিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিদিন ইপিজেড এলাকায় অফিসে যাই। পথিমধ্যে যানজটে ব্যয় হয় গড়ে দুই ঘণ্টা। এর মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে পথে ছিলাম দুই ঘন্টা। আর বুধবার এক ঘণ্টার মতো। সার্সনরোড এলাকার বাসা থেকে ইপিজেড পর্যন্ত অফিসের দূরত্ব সর্বোচ্চ ৮ কিলোমিটার। আর যাত্রাপথ হতে পারে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের। অথচ প্রতিদিনই গড়ে দুই ঘণ্টা যানজটে থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি হিসাব করে দেখেছি প্রতি সপ্তাহে একদিন আমি সড়কেই কাটিয়ে দিই।’ রোজা শুরুর আগে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির তাঁর দপ্তরে বৈঠক করেন নগর ট্রাফিক পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। সেখানে নগরের সড়ক ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় ট্রাফিক পুলিশ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সমস্যা নিরসনের কথা বললেও রেলওয়ের কর্মকর্তারা কোনো ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেননি। ফলে সেই বৈঠক থেকেই আশানুরূপ কোনো বার্তা পায়নি নগরবাসী। রমজানে যানজট কমানোর নানা পদক্ষেপের কথা বলা হলেও যানজট কমেনি কেন? -প্রশ্নের জবাবে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ সাধ্যমতো চেষ্টা করছে যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। যা সমাধান করা পুলিশের পক্ষ সম্ভব নয়।’ যানজট নিরসনে সমস্যা কোথায়?-প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নগরের সড়কগুলোতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে উন্নয়নকাজের কারণে। ফলে বাকি সড়কগুলোতে গাড়ির চাপ বেড়েছে। বাড়তি গাড়ির চাপ সামাল দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। তাই যানজট কমানো যাচ্ছে না।’ দিনের বেলা নগরে ট্রাক প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও কেন ট্রাক প্রবেশ করছে?-এমন প্রশ্নের জবাবে কুসুম দেওয়ান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার ট্রাক পণ্য পরিবহন করে। এসব ট্রাক পোর্ট কানেকটিং রোড ব্যবহার করে বন্দরে পৌঁছত। এখন ওই সড়কে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। সেখানে গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া হালিশহর এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়কগুলোরও উন্নয়ন হচ্ছে। সড়ক নির্বিঘ্ন না হলে যানজট বন্ধের উপায় কী?’

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here