তোপের মুখে পাউবোর কর্মকার্তারা: তুলোধুনো করলেন জেলা প্রশাসক

0
985

সুনামগঞ্জ  সংবাদদাতা
একের পর এক হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে বোরো ফসলী ধান তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ঠিকাদার ও পিআইসির লোকজন হাওরের কৃখশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদেও তোপের মুখে রয়েছেন। হাওরের বাঁধ নিয়ে লুপাট ও দুর্নীতির বিষয়ে এরই মধ্যে সরাসরি পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে তুলেধুনো করলেন জেলা প্রশাসক। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভায় শুধু জেলা প্রশাসকই নন বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনরাও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন গংদের নানা কর্মকান্ড তুলে ধরে হাওরের বাঁধের নামে কোটি কোটি টাকা লুপাটের ব্যাপারেও কড়া সমালোচনা করেন।’
চলতি বছর সুনামগঞ্জে বোরো ফসলের আবাদ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। ৪২টি হাওরের ফসল রক্ষায় বেরীবাঁধ নির্মাণ মেরামতে জন্য ৫৮ কোটি টাকা ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের বৃহৎ ৩৭টি হাওরসহ মোট ৪২টি হাওরে ১০ কোটি ৭৭ লাখ ব্যয়ে ২২৫টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) ও ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৬টি প্যাকেজে ঠিকাদার দিয়ে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের নামে চলতি বোরো মৌসুমে হরিলুট চালিয়েছে। পিআইসির  প্রকল্প  বাস্তবায়ন ২৮ ফেব্রয়ারী ও ঠিকাদারের প্রকল্প বাস্তবায়ন ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পিআইসির ও ঠিকাদারের কাজ সময়মত শেষ হয়নি পলে গত কয়েকদিনে শতাধিক হাওরের বোরো ফসল বৃষ্টির পানিতে ও ওপারের ঢলে তলিয়ে গিয়ে কয়েক’শ কোটির টাকার অধিক ফসলহানি হয়েছে।’
প্রশাসক শেখ মো. রফিকুল ইসলাম রবিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় উপস্থিত থাকা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে উদ্দেশ্য করে বলেন,পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকেরা খুবই ধৈর্য্যশীল! তারা তাদের কাজ করবে——-করবে—– বলে যখন বৃষ্টি বাড়ে এবং লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি পরিমাণ পানি হয় তখন আপনারা (পাউবো) বলেন,  এটা আর আমাদের সাধ্যের ভিতরে নেই।  তখন বলবেন, কৃষকরা যেভাবে পারে তারা তাদের ফসল রক্ষায় কাজ করুক আর অপরদিকে বিল পাস হলে সকল ঠিকাদার সহ আপনারা বিল ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে চলে যাবেন।’ আপনাদের ভিতরে যদি ১০০ ভাগের মধ্যে একভাগ মনুষ্যত্ব বোধ থাকত, তাহলে এই  (ফসল ডুবির) ঘটনা আমাদের দেখা লাগত না।’
জেলা প্রশাসক আফসারকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, আপনাকে আমি কয়েকবার ফোন দিয়েছি আপনি আমার ফোন ধরেন না, আমি আপনাকে বললাম , জরুরী অবস্থায় বস্তা পাঠান হাওরে, আপনি পাঠালেন দু’দিন পর। আমরা  লক্ষ্য করেছি বিগত বছর  হাওরের যে পয়েন্টেগুলো ভেঙে পানি ডুকেছিলো ছিল ঠিক এবারও সেই পয়েন্ট দিয়েই বাঁধ ভেঙ্গে পানি ডুকছে হাওরে।  ‘স্থায়ী সমাধানে না গিয়ে ঘুরে ফিরে প্রতিবছর আপনারা ইচ্ছে   করেই লুপাটের সুবিধার্তে একই জায়গায় পুন:রায় প্রকল্প দেন আর আশে পাশে থেকে যতসামান্য মাটি ভরাট করে বিল হজম করেন, এ খেলঅ আর কতদিন খেলবেন?
জেলা প্রশাসক সভায় থাকা জনপ্রতিনিধি ও সুধী জনদের জানান, আমি সচিব-মন্ত্রী পরিষদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, টাকার কোনো সমস্যা নেই। টাকা লাগলে সাথে সাথে পাঠিয়ে দেয়া হবে। তাছাড়া আমি নিজে গিয়ে হাওরের অনেক বাঁধ পরিদর্শন করেছি। আমি লোকজনকে  সাহস জোগাতে নিজে মাটি কেটেছি কিন্তু আপনাদের (পাউবোর) দেখা পাওয়া যায় না বাঁেধের আশে পাশে।
ঠিকাদারদের প্রসঙ্গে শেখ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা কোনো কাজ করবে না, তারা ফাইল ওয়ার্ক আর লোক দেখানোর জন্য কিছু কাজ করাবে আর করাতে সময় লম্বা সময় নিবে এবং বন্যা হওয়ার পর বলবে আমরা আমাদের যথাসাধ্য কাজ করেছি। এসব হাওরের ফসল ডুবির কারনে  এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারদেরই সব দায়ভার নিতে হবে।’
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুজজামান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাহিদুল হক, পৌর মেয়র আয়ূব বখ্ত জগলুল, সহকারি পুলিশ সুপার তাপস সরকার, জেলা রেডক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পীর মতিউর রহমান, নারীনেত্রী শীলা রায়, বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান , সুধীজন ও জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনারগণ উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসার উদ্দিন প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, আসলে একেরপর এক হাওরের ফসল ডুবির পর হাওরে যাবার মত পরিবেশ নেই পাউবোর ও পিআইসি এবং ঠিকাদারদের, যে কোন মুহুর্তে সবাই আমরা নাজেহাল হবার আতংকে রয়েছি।##

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here