জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র আদর্শের পরীক্ষিত কর্মী বাংলাদেশের সফল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের আধুনিক রেলপথের রূপকার মো: মুজিবুল হক, এমপি

0
999

রেলকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার বাংলাদেশের সফল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে রেলপথ মন্ত্রী মো: মুজিবুল হক এমপি রেল পুনর্গঠনে অসামান্য অবদান রেখে আধুনিক রেলপথের রূপকার হিসেবে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের সুফল ভোগ করছেন দেশের মানুষ। মন্ত্রী হবার পর সারাদেশ এবং কুমিল্লা যেনো তার দুই নয়ন। দেশের পাশাপাশি নিজ জেলাকেও সমান ভাবে দেখছেন। চৌদ্দগ্রামসহ জেলাবাসির সমস্যা সমাধানে তিনি সদা তৎপর। তার আন্তরিক তৎপরতায় প্রশাসন বেশ গতিশীল। নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য বেড়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও গরীব দুঃখী খেটে খাওয়া মেহনতীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে তিনি বাতিঘর।

Advertisement

এস এম মোরশেদ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুাজবুর রহমান যেমন নিজকে বিলিয়ে জননেতা ও জাতির জনক হয়েছেন তেমনি তাঁরই কর্মীরা আজ সর্বসাধারণের কাছে স্বপ্নের মানুষে পরিণত হয়েছেন। এ রকম হাজারো মানুষের ভিড়ে একজন গণমানুষের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রেলপথ মন্ত্রী মো: মুজিবুল হক এমপি। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে আজ অবধি তার চিন্তা-চেতনায় মাটি ও মানুষের কল্যাণ। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও গরীব দুঃখী খেটে খাওয়া মেহনতীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে তিনি বাতিঘর। পুরস্কার হিসেবে এমপি নির্বাচিত করার মাধ্যমে তাকে জননেতার আসনে অধিষ্ঠিত করে কুমিল্লাবাসী। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ এমন কোন ঘর-বাড়ি পাওয়া যাবে না যেখানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি এ মাটি ও মানুষের কল্যাণ সাধন করেননি। এ জেলার মানুষের সাথে তার আত্মার বন্ধন ও জনদরদী বলেই তিনি মানব কল্যাণে নিজকে নিয়োজিত করেন। আর এ কারণেই মন্ত্রী হবার পর গোটা কুমিল্লায় যেনো আনন্দের জোয়ারে ভেসে যায়। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকে অদ্যাবধি তিনি এলাকায় আসলে দেখা যায়, তাকে সংবর্ধিত করার জন্য সর্বস্তরের জেলাবাসি প্রতিযোগিতায় নামেন। মন্ত্রী হবার পর সারাদেশ এবং কুমিল্লা যেনো তার দুই নয়ন। দেশের পাশাপাশি নিজ জেলাকেও সমান ভাবে দেখছেন। চৌদ্দগ্রামসহ জেলাবাসির সমস্যা সমাধানে তিনি সদা তৎপর। তার আন্তরিক তৎপরতায় প্রশাসন বেশ গতিশীল। নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য বেড়ে গেছে। রেলকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার বাংলাদেশের সফল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি রেলকে পুনর্গঠনে অসামান্য অবদান রেখে আধুনিক রেলপথের রূপকার হিসেবে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের সুফল ভোগ করছেন দেশের মানুষ।
সরেজমিন অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর হতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ঢেলে সাজাতে এবং একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করে। দেশের সকল জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনয়ন এবং রেলওয়েকে জনগণের নিকট নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং যাত্রীদের সুবিধাদি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত মোট ৭৬৩৩৭১১.৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬৫টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং ৪৯৪৬৮২৬.৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬০টি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। ২০০৯ হতে এ পর্যন্ত ৫১টি প্রকল্প সমাপ্ত হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ৪০টি বিনিয়োগ প্রকল্প এবং ৩টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প অর্থাৎ মোট ৪৩টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। চলতি অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য থোকসহ মোট ১৩০০১.০৯ কোটি টাকা (জিওবিঃ ৫৩৫৬.০০ কোটি টাকা এবং পিএঃ ৭৬৪৫.০৯ কোটি টাকা) বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
জানা যায়, বাংলাদেশে রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে করিডোর ডাবল লাইনে উন্নীতকরণ, বিদ্যমান রেলপথের মানোন্নয়ন, ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি তথা বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশ রেলওয়েকে আধুনিক, যুগোপযোগী গণপরিবহন মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রণীত জধরষধিু গধংঃবৎ চষধহ সরকার কর্তৃক গত ৩০-০৬-২০১৩ তারিখে অনুমোদিত হয়। এ মহাপরিকল্পনায় ২০ বছর মেয়াদে (জুলাই/২০১০ হতে জুন/২০৩০) ৪টি পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ২, ৩৩, ৯৪৪. ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩৫টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলাদেশ রেলওয়ে সাসেক রেলযোগাযোগ বিনিয়োগ কার্যক্রমের জন্য কারিগরী সহায়তা প্রকল্পের আওতায় রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা হালনাগাদ করার কার্যক্রম গ্রহণ করে। এ প্রকল্পের আওতায় রেলওয়ে মহাপরিকল্পনা হালনাগাদ করা হয়েছে যা, সরকার কর্তৃক ২৯-০১-২০১৮ তারিখে অনুমোদিত হয়েছে। নতুন অনুমোদিত রেলওয়ে মহাপরিকল্পনায় জুলাই/২০১৬ হতে জুন/২০৪৫ পর্যন্ত ০৬টি পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ৫, ৫৩, ৬৬২.০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ২৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত আছে। রেলওয়ের মহাপরিকল্পনার আওতায় দেশের রেলযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
রেলওয়ের লাইন ক্যাপাসিটি বৃদ্ধিকরণ
রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সেকশনসমূহ ডাবল লাইনে উন্নীত হলে এসব সেকশনে অধিক সংখ্যক ট্রেন পরিচালনা, সময়ানুবর্তিতা রক্ষা ও ট্রেন যাত্রার সময় হ্রাস করা সম্ভব হবে। এতে রেল সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারিত হয়ে রেলযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় লাইন ক্যাপাসিটি বৃদ্ধির জন্য গৃহীত কার্যক্রম নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোরকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার কাজ শুরু করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব ৩২১ কিলোমিটার। তার মধ্যে ১১৮ কিলোমিটার ডাবল লাইন বিদ্যমান ছিল। ৩টি প্রকল্পের আওতায় লাকসাম-চিনকি আস্তানা সেকশনে ৬১ কিলোমিটার, টঙ্গী-ভৈরব বাজার সেকশনে ৬৪ কিলোমিটার এবং ২য় ভৈরব, ২য় তিতাস সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৬ কি: মি: ডাবল লাইন নির্মাণ কাজ সমাপ্তির ফলে বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের ৩২১ কিলোমিটারের মধ্যে ২৪৯ কিলোমিটার রেলপথে ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এডিবি এবং ইআইবি’র অর্থায়নে আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিঃমিঃ ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর প্রকল্পের আওতায় রেলপথ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের ৩২১ কি:মি: রেলপথের সমগ্র অংশেই ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এর ফলে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ভারতীয় লাইন অফ ক্রেডিট এর আওতায় ২য় ভৈরব ও ২য় তিতাস সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। গত ০৯-১১-২০১৭ তারিখে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারত সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২য় ভৈরব ও ২য় তিতাস সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করেন।
ভারতীয় লাইন অফ ক্রেডিট এর আওতায় ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ রেললাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ড্রয়িং এবং ডিজাইন কাজ শেষ করা হয়েছে। রেললাইন নির্মাণের দ২০১৭ তারিখে আহবান করে ৩১-১০-২০১৭ তারিখে উন্মুক্ত করা হয়; যা মূল্যায়নান্তে বাতিল হয়। পরবর্তীতে ১৮-১২-২০১৭ তারিখে পুনরায় দরপত্র আহবান করা হয়েছে রপত্র ১৬-০৮-।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে বিদ্যমান লাইনের সমান্তরাল একটি ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। রেলপথ নির্মাণের দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন সিসিজিপি কর্তৃক গৃহীত হয়। ঠিকাদারের সাথে রেলপথ নির্মাণ কাজের চুক্তিপত্র ২০-০৬-২০১৭ তারিখে সম্পাদন করা হয়েছে এবং ঠিকাদার মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করেছে।
যমুনা নদীর উপর বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্র্যাক সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিটেইল ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। অচিরেই রেল সেতু নির্মাণ কাজের দরপত্র আহবান করা হবে।
খুলনা-দর্শনা সেকশন ডাবল লাইনে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের খুলনা-দর্শনা ডাবল লাইন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি ২য় ভারতীয় লাইন অফ ক্রেডিট এর আওতায় বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
পার্বতীপুর হতে কাউনিয়া পর্যন্ত মিটারগেজ রেলওয়ে লাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর শীর্ষক প্রকল্পটি ২য় ভারতীয় লাইন অফ ক্রেডিট এর আওতায় বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ভারতের সাথে রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে রেলপথ নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের ডিপিপি’র ওপর ৩০-০৮-২০১৭ তারিখে পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠন করে শীঘ্রই অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হবে।
ঈশ্বরদী-জয়দেবপুর সেকশন ডাবল লাইনে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি চীনা সরকারের সাথে জি টু জি আওতায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ঈযরহধ ঈরারষ ঊহমরহববৎরহম ঈড়হংঃৎঁপঃরড়হ ঈড়ৎঢ়ড়ৎধঃরড়হ (ঈঈঊঈঈ) এর সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে নেগোসিয়েশন কার্যক্রম চলমান।
জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর সেকশন ডাবল লাইনে রূপান্তরের জন্য জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর সেকশনে বিদ্যমান রেললাইনের সমান্তরাল একটি ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি চীনা সরকারের জি টু জি অর্থায়নে বাস্তবায়নে লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের প্রস্তাব ঈঈঊঅ কর্তৃক নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। শীঘ্রই ঈড়সসবৎপরধষ ঈড়হঃৎধপঃ ঘবমড়ঃরধঃরড়হ এর কার্যক্রম শুরু করা হবে। এছাড়া প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব গত ২২-১১-২০১৭ তারিখে পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।
আখাউড়া-সিলেট সেকশন ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের আখাউড়া-সিলেট সেকশনের বিদ্যমান মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর শীর্ষক প্রকল্পটি চীনা সরকারের অর্থায়নে জি টু জি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য চীনা সরকারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ঈযরহধ জধরষধিু ঈড়হংঃৎঁপঃরড়হ ইৎরফমব ঊহমরহববৎরহম ইঁৎবধঁ এৎড়ঁঢ় ঈড়, খঃফ (ঈজইএ) এর সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ের নেগোসিয়েশন সমাপ্ত হয়েছে। বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রেলপথ পুনর্বাসন ও নতুন রেলপথ নির্মাণ
২০০৯ সাল হতে অদ্যাবধি ২৮৪.১৫ কি: মি: নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে।
তারাকান্দি হতে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত ৩৫ কি: মি: নতুন রেললাইন স্থাপনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং ৩০.০৬.২০১২ তারিখ হতে এ সেকশনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
ফরিদপুর জেলার পুকুরিয়া-ভাঙ্গা ৬.৬০ কি: মি: রেলপথ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট এর আওতায় খুলনা থেকে মংলা পর্যন্ত (৬৪.৭৫কি:মি: ব্রডগেজ) রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলমান আছে।
ঈশ্বরদী হতে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন ৭৮.৮০ কি: মি: রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে মাঝগ্রাম হতে পাবনা পর্যন্ত ২৫ কি: মি: ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং এ অংশে ১৪-১২-২০১৭ তারিখে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানো হয়।
কালুখালি-ভাটিয়াপাড়া সেকশন পুনর্বাসন এবং কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ-গোবরা (টুঙ্গিপাড়া) নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে কালুখালি-ভাটিয়াপাড়া সেকশন পুনর্বাসন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাশিয়ানী থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ কাজ চলমান আছে। তাছাড়া গোপালগঞ্জ থেকে গোবরা (টুঙ্গিপাড়া) পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণের কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
এডিবি’র আর্থিক সহযোগিতায় দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মায়ানমারের সন্নিকটস্থ গুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে ১৯-০৪-২০১৬ তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান আছে। দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ওপর ২৩-০৮-২০১৭ তারিখে সিসিজিপিতে সভা অনুষ্ঠিত হয়। রিসেটেলমেন্ট কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্নকরণের জন্য রিসেটেলমেন্ট প্ল্যান অনুমোদিত হয় এবং পুনর্বাসন কাজের এনজিও নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য পরামর্শকের সাথে ১৪-০৯-২০১৭ তারিখে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ১০০
কি: মি: রেললাইন নির্মাণ কাজের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে ১৬-০৯-২০১৭ তারিখে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়।
ঢাকা হতে পদ্মা সেতু-ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা হয়ে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের লক্ষ্যে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ১ম পর্যায়ে ০৬টি জেলার মধ্যে ৩টি জেলায় (নারায়ণগঞ্জ, শরিয়তপুর ও মাদারীপুর) ভূমি অধিগ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে। অপর ৩টি জেলায় (ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ ও ফরিদপুর) ভূমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় সমাপ্তির পর্যায়ে রয়েছে। ২য় পর্যায়ে ৩টি জেলায় (গোপালগঞ্জ, নড়াইল ও যশোর) ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। ০৮-০৮-২০১৬ তারিখে চীনের সরকারী কোম্পানী ঈযরহধ জধরষধিু এৎড়ঁঢ় খঃফ (ঈজঊঈ)-এর সাথে নির্মাণ কাজের বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পের কাজ সুপারভিশনের জন্য ইতোমধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ঋণচুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পায়রা সমুদ্র বন্দরকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার নিমিত্ত একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প প্রস্তাব গত ০৯-১০-২০১৬ তারিখে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়। সমীক্ষা প্রকল্পের অধীনে পরামর্শক নিয়োগের জন্য ঊঙও আহবান করা হয়েছে। দাখিলকৃত ঊঙও মূল্যায়ন সম্পন্ন করে সংক্ষিপ্ত তালিকাভূক্ত প্রতিষ্ঠানের নিকট আরএফপি ইস্যু করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিবেদন অনুযায়ী রেললাইন নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এছাড়া গত ২০-১২-২০১৬ তারিখে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও রেলপথ নির্মাণের জন্য যুক্তরাজ্য ভিত্তিক উচ জধরষ খঃফ. নামক কোম্পানীর সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেল সংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ) শীর্ষক প্রকল্পটি গত ১৬-০৮-২০১৬ তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। উল্লেখ্য, প্রকল্পটি ভারতীয় অনুদানে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ২৩-০৩-২০১৬ তারিখে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ থেকে পড়হপঁৎৎবহপব পাওয়া গিয়েছে। রেলপথ নির্মাণের দরপত্র ১২-১০-২০১৭ তারিখে আহবান করা হয়। ২৭-১২-২০১৭ তারিখে দরপত্র খোলা হয়। দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান আছে।
চট্টগ্রামের জানালীহাট স্টেশন-চুয়েট-কাপ্তাই পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শীর্ষক সমীক্ষা প্রস্তাবটি গত ২৮-১২-২০১৬ তারিখে অনুমোদিত হয়। পরামর্শক নিয়োগের লক্ষ্যে দাখিলকৃত ঊঙও মূল্যায়ন সম্পন্ন করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ঝযড়ৎঃ ষরংঃবফ করা হয়েছে। ঝযড়ৎঃ ষরংঃবফ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নিকট আহবানকৃত জঋচ মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
যশোরের নাভারণ হতে সাতক্ষীরা হয়ে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
বগুড়া হতে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি ৩য় ভারতীয় লাইন অফ ক্রেডিট এর আওতায় বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
ঢাকা শহরের চতুর্দিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের জন্য একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব গত ২৭-১২-২০১৭ তারিখে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। সমীক্ষা কার্যক্রম শেষে সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা/লাকসাম দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন শীর্ষক একটি সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সমীক্ষা প্রকল্পটি ১৮-০৩-২০১৭ তারিখে অনুমোদিত হয়েছে। পরামর্শক নিয়োগের নিমিত্তে ২১-০৬-২০১৭ তারিখে ঊঙও আহবান করা হয়। দাখিলকৃত ঊঙও প্রস্তাব মূল্যায়নান্তে ০৬টি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়। ২৭-১১-২০১৭ তারিখে জবয়ঁবংঃ ভড়ৎ চৎড়ঢ়ড়ংধষ (জঋচ) ইস্যু করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে সাবওয়ে নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা শীর্ষক একটি সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
সমীক্ষা প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষাধীন।
রোলিংস্টক এর সংকট নিরসনে
গৃহীত কার্যক্রম
বাংলাদেশ রেলওয়েতে লোকোমোটিভ ও যাত্রীবাহী কোচের সংকট রয়েছে। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ইতোমধ্যে নিম্নোক্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে-
ইডিসিএফ, দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে ২০১১ সালে ৯টি এমজি লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হয়েছে।
জাইকা অর্থায়নে ২০১৩ সালে ১১টি এমজি লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হয়েছে।
১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ভারতীয় ডলার ক্রেডিট লাইনের বিপরীতে রোলিং স্টক সংগ্রহকল্পে বাংলাদেশ রেলওয়ে বেশ কিছু বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণ করে। তন্মধ্যে ২৬টি বিজি লোকোমোটিভ সরবরাহ পাওয়া গেছে। ১৬৫টি বিজি ট্যাংক ওয়াগন, ৮১টি এমজি ট্যাংক ওয়াগন এবং ২২০টি এমজি কন্টেইনারবাহী ফ্ল্যাট ওয়াগন সংগ্রহ করা হয়েছে।
জিওবি অর্থায়নে ২০০টি এমজি এবং ৬০টি বিজি যাত্রীবাহী কোচ পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় মোট ২৬০টি যাত্রীবাহী কোচ পুনর্বাসন করা হয়েছে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ১০০টি এমজি ও ৫০টি বিজি কোচ সংগ্রহ করা হয়েছে।
ভারতীয় রাষ্ট্রীয় ঋণের আওতায় ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ পাওয়া গিয়েছে।
৫০টি বিজি এবং ১৫০টি এমজি কোচ পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১৩৮ টি কোচ পুনর্বাসন করা হয়েছে।
পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্পের আওতায় ১০০টি বিজি কোচ সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন আছে। ইডিসিএফ, দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে ২০টি, এডিবি অর্থায়নে ১০টি এবং সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট এর আওতায় ৭০টি এমজি লোকোমোটিভ সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান আছে।
ইডিসিএফ, দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে ১৫০টি এমজি, টেন্ডারার্স ফিন্যান্সিং এর আওতায় ২০০টি এমজি এবং এডিবি
অর্থায়নে ২০০টি এমজি ও ৫০টি বিজি কোচ সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এডিবি অর্থায়নে ৪০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ, ৭৫টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যান এবং ৫৮০টি মিটারগেজ ও ৪২০টি ব্রডগেজ ওয়াগন সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দেশের বন্ধ হওয়া রেললাইন চালুকরণে গৃহীত কার্যক্রম
পুনর্বাসন শেষে বন্ধ হয়ে যাওয়া কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া সেকশন (৭৫.৫০ কি:মি:) ০২.১১.২০১৩ তারিখে এবং সৈয়দপুর-চিলাহাটি সেকশন (৫২.২০ কি:মি:) ২৮.০১.২০১৫ তারিখে উদ্বোধন করা হয়।
বিরল-রাধিকাপুর সেকশনের পুনঃসংযোগের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ অংশের পার্বতীপুর হতে বিরল পর্যন্ত মিটার গেজ সেকশনকে ডুয়েল গেজে রূপান্তরের জন্য জেডিসিএফ অর্থায়নে মোট ১০৬৪.১৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুর-কাঞ্চন-পঞ্চগড় ও কাঞ্চন-বিরল মিটার গেজ সেকশনকে ডুয়েল গেজে এবং বিরল-বিরল বর্ডার সেকশনকে ব্রড গেজে রূপান্তর শীর্ষক প্রকল্প ১৫.০৪.২০০৯ তারিখে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ভৌত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে ০৮ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে বিরল-রাধিকাপুর সেকশনে ট্রেন চলাচল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত রেল সংযোগ পুনঃস্থাপিত হয়।
যানজট নিরসনে বাংলাদেশ রেলওয়ে
২০ সেট ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডিইএমইউ) সংগ্রহ: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের যানজট নিরসনে চীন হতে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০ সেট (৩ ইউনিটে একসেট) ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডিইএমইউ) সংগ্রহ করা হয়েছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে ১৬ জোড়া কমিউটার ট্রেন এবং জয়দেবপুর-ঢাকা সেকশনে ৪ জোড়া কমিউটার ট্রেন চালু করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-জয়দেবপুর, ময়মনসিংহ-জয়দেবপুর, আখাউড়া-কুমিল্লা, লাকসাম-কুমিল্লা-চাঁদপুর, লাকসাম-কুমিল্লা-নোয়াখালী, সিলেট-আখাউড়া, পার্বতীপুর-ঠাকুরগাঁও, পার্বতীপুর-লালমনিরহাট, চট্টগ্রাম-কুমিল্লা এবং চট্টগ্রাম শহরে সার্কুলার কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এতে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জনবহুল শহরগুলোতে যানজট অনেকাংশে লাঘব হয়েছে।
সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহীত কার্যক্রম
বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন সেকশনের মোট ৭৯টি স্টেশনের সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ করা হয়েছে, এর ফলে অধিকতর নিরাপত্তার সাথে ট্রেন চলাচল নিশ্চিত হয়েছে। আরো ৫১টি স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন ট্রেন চালুকরণ ও নতুন যাত্রীবাহী কোচ সংযোজন
গত ২৫-০৬-২০১৬ তারিখে ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা এর মধ্যে বিরতিহীন সোনার বাংলা এক্সপ্রেস নামে নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে। গত ০৮-০৯-২০১৬ তারিখে ঢাকা-মোহনগঞ্জ রুটে আন্তঃনগর ট্রেন মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস নামে আরও একটি নতুন ট্রেন উদ্বোধন করা হয়। ফলে ২০০৯ সালের শুরু থেকে অদ্যাবধি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনসহ সর্বমোট ১১৪টি নতুন ট্রেন বিভিন্ন রুটে চালু করা হয়েছে এবং ৩৬টি ট্রেনের সার্ভিস বর্ধিত করা হয়েছে। এছাড়া নতুন, আধুনিক ও উন্নতমানের যাত্রীবাহী কোচ আমদানির মাধ্যমে বিদ্যমান ট্রেনসমূহের পুরাতন যাত্রীবাহী কোচ পরিবর্তন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে মহানগর প্রভাতী ও তূর্ণা এক্সপ্রেস, ঢাকা-সিলেট রুটে পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে তিস্তা এক্সপ্রেস, ঢাকা-খুলনা রুটে চিত্রা এক্সপ্রেস ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস, ঢাকা-রাজশাহী রুটে পদ্মা, সিল্কসিটি ও ধুমকেতু এক্সপ্রেস, ঢাকা-রংপুর রুটে রংপুর এক্সপ্রেস, ঢাকা-দিনাজপুর রুটে দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস, ঢাকা-চিলাহাটি রুটে নীল সাগর এক্সপ্রেস-সহ বেশীরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনসমূহের বিদ্যমান পুরাতন কোচ পরিবর্তন করে নতুন কোচ সংযোজন করা হয়েছেস্টেশন ও ট্রেনের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি
রেলওয়ে স্টেশন ও ট্রেনের অভ্যন্তরে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে। ট্রেনের টয়লেটের বৈদ্যুতিক আলো, পানি, সাবান, টিস্যু পেপার ইত্যাদি সরবরাহ করা হচ্ছে এবং টয়লেটসমূহ নিয়মিত পরিস্কার করা হচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্টেশনে বিশ্রামাগার ও টয়লেট সুবিধাদি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ঢাকা, ঢাকা বিমান বন্দর, চট্টগ্রাম স্টেশনসহ মোট ২৬টি স্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহের জন্য ডধঃবৎ অরফ, ইধহমষধফবংয-এর সহযোগিতায় বিভিন্ন ষ্টেশনে পানি শোধনাগার স্থাপন করা হয়েছে। ফলে যাত্রীসাধারণ উন্নত সেবা পেয়ে রেলওয়েতে ভ্রমণে আকৃষ্ট হচ্ছে এবং আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ডিজিটাল সার্ভিস প্রবর্তন
ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের অংশ হিসাবে রেলওয়েতেও ডিজিটাল সার্ভিস প্রবর্তন করা হয়েছে। ফলে রেলওয়েতে যাত্রী পরিবহনের হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ট্রেনের অভিমুখ, ট্রেন ছাড়ার সময়, ট্রেনের অবস্থান, পরবর্তী স্টপেজ ইত্যাদি তথ্য মোবাইলে ঝগঝ-এর মাধ্যমে জানতে ঞৎধরহ ঞৎধপশরহম ধহফ গড়হরঃড়ৎরহম ঝুংঃবস (ঞঞগঝ) ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে ;
ট্রন চলাচল সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যাদি ডিসপ্লে মনিটরের মাধ্যমে যাত্রী সাধারণের জন্য সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে ঢাকা, ঢাকা বিমান বন্দর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ঈড়সঢ়ঁঃবৎরুবফ ঞৎধরহ ওহভড়ৎসধঃরড়হ উরংঢ়ষধু ঝুংঃবস প্রবর্তন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধার্থে ঢাকা, ঢাকা বিমান বন্দর এবং চট্টগ্রাম স্টেশনে ফ্রি ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচলকারি সুবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণা এক্সপ্রেস এবং মহানগর প্রভাতী ট্রেনে স্নিগ্ধা শ্রেণির যাত্রীদের সুবিধার জন্য ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে।
যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট ক্রয়ের জন্য ই-টিকেটিং সুবিধা চালু করা হয়েছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here