গুরুত্বপূর্ণ এই পৌরসভার সমস্যার যেন অন্ত নেই

0
568

বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। এমন অসংখ্য অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে বৈধ গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। (ডানে) পৌর এলাকার কর্ণপাড়া খালটি একসময় ছিল বেশ খরস্রোতা। খালটি এখন মিল-কারখানা থেকে নির্গত দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত তরল বর্জ্যের এক আধার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান,  স্থাপনা ও শিল্পাঞ্চল এবং অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে সারা দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লোকের বসবাস  সাভারে।

Advertisement

অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই পৌরসভার সমস্যার যেন অন্ত নেই। সাভার পৌরবাসীর নানা সমস্যা, দুর্ভোগ ও ভোগান্তি নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের শেষ পর্বে আজ উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকটি সমস্যার কথা তুলে ধরা হলো। বংশী, ধলেশ্বরী ও তুরাগ বিধৌত, সবুজ শ্যামল প্রান্তরে কাঁঠালবীথি পরিবেষ্টিত, বৌদ্ধ রাজা হরিশচন্দ্র পালের সম্ভার রাজ্যই সাভার, যা ঢাকা মহানগরীর উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত। সাভার পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বাড়িঘর নির্মাণ, আবাসিক এলাকায় মিল-কলকারখানা, সংস্কারবিহীন খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট, সড়কবাতির অভাব, মাদকদ্রব্যের বিস্তার, যত্রতত্র কাঁচা বাজার, শব্দদূষণ, মানহীন ক্লিনিক, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকা, প্রয়োজনীয় ড্রেন ও ডাস্টবিনের অভাব, ময়লা-আবর্জনা ও কলকারখানার বিষাক্ত তরল বর্জ্যের প্রভাব, যানজট, লাগামহীন রিকশাভাড়া, শিশু পার্ক ও খেলার মাঠের অভাব, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিকাশে মঞ্চের অভাব, গ্যাসের চাপ কমজনিত সমস্যা, পার্কিংয়ের জায়গার অভাব, রাস্তাঘাটে জলাবদ্ধতা, যত্রতত্র পলিথিন বিক্রি ও ব্যবহার, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও গরু জবাইয়ে মনিটরিং না থাকা, খাসজমি ও নদ-নদী বা খাল দখল ও দূষণ, মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবসহ অসংখ্য সমস্যায় রয়েছে পৌরবাসী।

বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই

সাভার পৌরসভার নাগরিকদের বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রতিটি বাড়িতে মোটর বা সাবমার্সিবল পাম্পের সাহায্যে মাটির গভীর থেকে পানি তোলা হয়। একইভাবে শিল্প-কারখানাগুলোতে প্রতিদিন কোটি কোটি লিটার পানি ব্যবহার করা হচ্ছে মাটির গভীর থেকে। ফলে মাটিতে পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে গিয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করছে। সাভার উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, সাত-আট বছর আগে ‘উপজেলা গ্রোথ সেন্টার’ প্রকল্পের আওতায় সাভার পৌরসভার নাগরিকদের বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহের পাইলট প্রকল্পের কাজ শেষ করে সাভার পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এই পানি সরবরাহের জন্য ৩০ পয়েন্ট ৭৮ কিলোমিটার পাইপলাইনসহ ২০০টি গৃহসংযোগ দিয়ে প্রকল্পটির কাজ শেষ করা হয়। অথচ পৌরসভা এখনো পানি বাসাবাড়িতে সরবরাহ করছে না কেন তা তিনি জানেন না। এখন প্রকল্পটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের। সাভার পৌরসভার বাসিন্দা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহরাব উদ্দিন খান বলেন, ‘ভূগর্ভের স্তরগুলো মাটি ও বালি দ্বারা স্তরে স্তরে সাজানো। সাভারে ভূগর্ভস্থ পানি অতিরিক্তমাত্রায় উত্তোলনের ফলে প্রথম স্তরের পানি কমে যাচ্ছে। ফলে ভূগর্ভের পানির লেবেল নিচে নেমে এলাকার খাল-বিল ও নদ-নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে শুধু স্বল্প সময়ের বর্ষাকাল ছাড়া তেমন একটা বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ভূগর্ভের পানির সঠিক রিসার্চ বা পুনর্ভরণ হচ্ছে না। এর পরও রিসার্চ হওয়ার জন্য যে পরিমাণ খোলা জমির প্রয়োজন তা সাভারে নেই। যেখানে কয়েকটি গভীর নলকূপ থেকে গোটা পৌরসভায় পানি সরবরাহ করা সম্ভব, সেখানে পৌর এলাকার প্রতিটি বাড়িতে শত শত পাম্প ও নলকূপ স্থাপন করায় ভূগর্ভের পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে এলাকায় পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

কারখানার তরল বর্জ্যে দূষিত নদী-নালা

সাভারে সর্বত্রই পোশাক কারখানা, মিল-কলকারখানাসহ বিভিন্ন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। মিল-কারখানার তরল বর্জ্য নির্বিচারে ফেলা হচ্ছে খাল-বিল, নদী-নালায়। কোথাও এখন আর দূষণমুক্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পৌর এলাকার গেণ্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির দক্ষিণে প্রবাহিত কর্ণপাড়া খালটি একসময় ছিল বেশ খরস্রোতা। খালটি এখন মিল-কারখানা থেকে নির্গত দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত তরল বর্জ্যের বিরাট এক আধার। খালের পানির সঙ্গে শিল্প-কারখানার অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ও মলমূত্র মিশে দুর্গন্ধযুক্ত একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। খালটির পানির যে অবস্থা, তাতে সেখানে জলজ কোনো প্রাণীর বেঁচে থাকা দুষ্কর। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সাভারের সাধাপুরের দিকে চলে গেছে একটি রাস্তা। সেই রাস্তার মাঝখান দিয়ে পাইপের মাধ্যমে স্থানীয় কয়েকটি কারখানা থেকে ছেড়ে দেওয়া অপরিশোধিত তরল বর্জ্যে গিয়ে পড়ছে স্কুলটির পাশে কর্ণপাড়া খালে। আর এই খালের বিষাক্ত পানি গিয়ে মিশছে ধলেশ্বরী নদীতে। এ ছাড়া একইভাবে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশ দিয়ে কর্ণপাড়া সেতুর নিচে রংবেরঙের তরল বর্জ্য ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

সাভারকে গ্রাস করে নিয়েছে মাদক

মাদক গ্রাস করে নিয়েছে পৌর এলাকাসহ গোটা সাভারকে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। মাদকের মরণনেশায় আসক্ত হয়ে বিপথগামী হচ্ছে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীসহ প্রায় সর্বস্তরের লোকজন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারে এখন তৎপর থাকলেও মূল গডফাদাররা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পৌর এলাকার মধ্যে ছোট বলিমেহের, ইমান্দিপুর, মজিদপুর, শাহীবাগ, চাঁপাইন, ব্যাংক কলোনি, রাজাশন, আনন্দপুর, কর্ণপাড়া, নামাগেণ্ডা, ব্যাংক টাউন, ভাগলপুর, কাতলাপুর, বক্তারপুর, বাড্ডা-ভাটপাড়া, অমরপুর, পেড়াবাড়ি, বংশী নদীর তীর, নামাবাজারসহ প্রায় প্রতিটি এলাকায় মাদক কেনাবেচা চলে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে নৈশকোচ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও মালবাহী ট্রাকে করে কৌশলে সাভারের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় মাদকদ্রব্য এনে মজুদ গড়ে তোলা হয়। পরে সেগুলো চাহিদা ও সুযোগমতো বিভিন্ন স্পটে ও শহরের মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয়ধারীরা ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলেও জানা গেছে। সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতিনিয়ত ইয়াবা, চোলাই মদ, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল উদ্ধার কাজ চলছে। কেউ কখনো অভিযোগ করলে তাত্ক্ষণিকভাবে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। মাদক ব্যবসা নির্মূল করতে সর্বস্তরের লোকজনের সহযোগিতা, বিশেষ করে অভিভাবকরা সচেতন হলে মাদক ব্যবসা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’

অপরিকল্পিত নগরায়ণ

সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র গড়ে উঠছে বাড়িঘর, শিল্প-কারখানা, মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এ ধরনের অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে এলাকার সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে। এলাকার জমির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় জমির মালিকরা এক ইঞ্চি জায়গাও না ছেড়ে তাঁদের স্থাপনা তৈরি করছেন। ফলে এলাকার রাস্তাঘাট সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও সব স্থানে যেতে পারছে না। অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও শিল্প-কারখানা নির্মাণ, নদী-পুকুর-জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের ফলে ক্রমেই শহরটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যথেচ্ছাভাবে সাভার পৌর এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বহুতল ভবন। আবাসিক এলাকায় আইন অনুযায়ী মিল-কারখানা স্থাপন নিষিদ্ধ থাকলেও একের পর এক কারখানা গড়ে উঠছে। এমনকি পৌর এলাকায় ইটভাটা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে পোশাক কারখানাও গড়ে উঠেছে। বাড়িঘর নির্মাণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না কোনো ইমারত নির্মাণ আইন। বাড়িঘর নির্মাণের জন্য যে পরিমাণ জায়গা ছেড়ে বাড়ি বা ভবন নির্মাণ করার বিধান রয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার জায়গা না রেখেই ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হচ্ছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সাভারকে নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে ডিটেইলস এরিয়া প্ল্যানের আওতায় নিয়ে এলেও তা আর মেনে চলা হয়নি। পৌর এলাকায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পৌরসভার নকশা অনুমোদন করা হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে সেই নিয়মে অনেকেই স্থাপনা নির্মাণ করছেন না। কাগজে-কলমে যে অনুমোদন নেওয়া হয়, বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। সাভার পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘সাভার পৌরসভার কোনো মাস্টারপ্ল্যান নেই। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পত্র দেওয়া হয়েছে।’ পৌরসভার আবাসিক এলাকায় যত্রতত্র শিল্প-কারখানা ও ইটভাটার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এগুলো স্থাপনে পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেই, তাই এগুলো অবৈধভাবেই গড়ে উঠেছে।’

মহাসড়ক বন্ধ করে শ্রমিক পারাপার

সাভার পৌর এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের সংকেতে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে যান চলাচল বন্ধ থাকছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে। মহাসড়কের সাভারের উলাইলে আল মুসলিম গ্রুপের গার্মেন্ট কারখানার কারণে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। যাত্রীবাহী বাস ছাড়াও অ্যাম্বুল্যান্স, জরুরি সেবার গাড়ি, পণ্যবাহী যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে থাকায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। এ সমস্যা নিরসনে ফুট ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস নির্মাণের তাগিদ দিলেও অদ্যাবদি কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এ যানজটে প্রতিদিন হাজারো মানুষের শ্রমঘণ্টা নষ্ট হলেও মিলছে না কোনো প্রতিকার। এ ব্যাপারে আল মুসলিম গ্রুপের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফরহাদ আলী খান জানান, ‘কারখানাটির সামনে একটি ফুট ওভারব্রিজের জন্য সাভার পৌরসভার মেয়রকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তবে সদুত্তর মিলেনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘শ্রমিক পারাপারের জন্য পুলিশকেও চিঠি দিয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।’

আবাসিক ও শিল্প এলাকায় গ্যাস সংকট

সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে রয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। ফলে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে পৌরবাসীর। পৌর এলাকার অনেক স্থানেই দিনে গ্যাস থাকে না। নিরুপায় হয়ে অনেকেই এলপি গ্যাস, বৈদ্যুতিক চুলা, স্টোভ ও মাটির তৈরি চুলা দিয়ে রান্নার কাজ করছে। কোনো কোনো বাসাবাড়ির মালিকরা স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রকে টাকা প্রদান করে অবৈধভাবে তাঁদের বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ নিয়েছেন। এই অবৈধ গ্যাস সরবরাহ দেওয়ার কারণে বৈধ সংযোগ নেওয়া গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় চাপের (প্রেসারের) গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে রান্নাবান্নাসহ গ্যাসচালিত বিভিন্ন কলকারখানায় নানা সমস্যার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে। একাধিক কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় তারা গ্যাস ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। গ্যাস জেনারেটর থাকা শিল্প-কারখানায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান যথাসময়ে তাদের পণ্য বিদেশে সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানি আদেশও বাতিল হচ্ছে। সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান  বলেন, ‘অবৈধভাবে নেওয়া অসংখ্য গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বৈধ গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ সংযোগের সংখ্যা কমাতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভাগলপুর এলাকার খানাখন্দে ভরা কর্দমাক্ত রাস্তা সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মূল রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে নানা দোকানপাট

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here