লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ সম্মেলনের দীর্ঘ ২ বছর পর লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে।পদে স্থান পেয়েছে বিবাহিত,চাকুরীজীবি,শিবির ও ছাত্রদল কর্মীরা। এতে করে পদবঞ্চিতদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ কমিটিতে আ’লীগ সরকারকে হঠানো আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রশিবির,ছাত্রদলস্থান স্থান পাওয়ায় জেলা ব্যাপী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এর ফলে শিক্ষার পরিবর্তে শিক্ষা অঙ্গনে শান্তির পরিবর্তে কোন্দল সৃষ্টি হবে। ঘটবে নিত্যদিনের সংঘর্ষ হানাহানিসহ বিক্ষিপ্ত ঘটনাও।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর জেলা ষ্টেডিয়ামে সর্বশেষ লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ২০১৫ সালে ১১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চেীধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেলকে সভাপতি,আশরাফুল আলমকে সহ-সভাপতি, রাকিব হোসেন লোটাসকে সাধারণ সম্পাদক, মোঃশাহাদাত হোসেন শরীফকে যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ও মামুনুর রশিদকে সাংগঠনিক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে। এরপর ২৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত ১৬৬ সদস্যের লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চেীধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন লোটাস এ কমিটি দেয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
এরপর এ সংবাদ ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর দৈনিক সমকাল পত্রিকায় ৫ এর পাতায় ৪এর কলামে “২১ মাসেও হয়নি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি” প্রকাশিত হলে টনক নড়ে লক্ষ্মীপুর জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মাঝে। এরপর লক্ষ¥ীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য একটি তালিকা পাঠায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ দপ্তরে।
এ কমিটিতে দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা/কর্মীদের স্থান না দিয়ে চাকুরীজীবি, বিবাহিত, ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের কর্মীসহ এমনকি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ভাই এবং নিকটতম আতœীয় স্বজনদেরকে স্থান দেওয়ায় ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন পদবঞ্চিতরা।
অভিযোগ রয়েছে,১৬৬ জন জেলা ছাত্রলীগের অনুমোদিত কমিটিতে ৬৫ জন রয়েছেন অছাত্র,বিবাহিত, চাকুরীজীবি, শিবির ও ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা।
এর মধ্যে অনুমোদিত কমিটির সহ-সভাপতি কে এম বাপ্পি কবির (বিবাহিত ও ব্যবসায়ী),নুর হোসেন মিঠু (অ-ছাত্র),ফরহাদ হোসেন আজিম (অ-ছাত্র ও তার পিতা রয়েছের লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক),নুর হোসেন মিঠু (অ-ছাত্র),মোঃ জাবেদ হোসেন (মাদ্রাসা শিক্ষক ও বিবাহিত),সাহিদুর রহমান সাহিদ (অ-ছাত্র),সাইফুদ্দিন আহাম্মেদ বাবু (অ-ছাত্র),রাকিব পাটোয়ারী (বিবাহিত) সহ ১৪ জন ।
যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক পদে কামরুন নবী চেীধুরী জুয়েল (সাবেক শিবির কমী),নজরুল ইসলাম রঞ্জু (পেশাজীবি ও বিবাহিত),সাজ্জাদুর রহমান সাগর (বিবাহিত),সাহাদাত হোসেন রায়হান (লক্ষ্মীপুর পৌর সভায় চাকুরীরত)সহ ৬ জন।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ওসমান গনি (বিবাহিত),শাহাদাত হোসেন ফয়সাল (অ-ছাত্র),ববি সুফি (অ-ছাত্র ও বিবাহিত)সহ ৫ জন।
সম্পাদক পদে-উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেজাউল করিম রিয়ান ( বর্তমান পৌর ছাত্রদলের সহ-সাহিত্য সম্পাদক),উপদপ্তর সম্পাদক সেবাব নেওয়াজ (লক্ষ¥ীপুর আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদলে কমিটির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ও বর্তমান সভাপতি),উপ অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ফরহাদ (বিবাহিত ও অ-ছাত্র),উপ-আইন সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান (বিবাহিত ও অ-ছাত্র), পরিবেশ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন (বিবাহিত ও অ-ছাত্র)সহ ১৫ জন।
সহ-সম্পাদক পদে-সাইফুল ইসলাম স্বপন (অ-ছাত্র ও বিবাহিত ও জনপ্রতিনিধি),সাইফুর রহমান জিকু (অ-ছাত্র ও বিবাহিত),শেখ খোরশেদ আলম বাবলু (অ-ছাত্র ও বিবাহিত),পলক আহাম্মেদ (বর্তমান লক্ষ্মীপুর পৌর সভার ৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক)সহ ১১ জন।
এছাড়া সদস্য পদে শরীফুন্নবী চৌধুরী ফয়সাল (সাবেক ছাত্রশিবির কর্মী ও বিবাহিত এবং চাকুরী জীবি ),আরিফুর রহমান (সাবেক ছাত্রশিবির কর্মী ও বিবাহিত),জিসাদ আল নাহিয়ান (বিবাহিত),কাজী মামুুনুর রশিদ বাবলু (অ-ছাত্র ও র্যাব-৭ নিকট ডাকাতিকালে অস্ত্রসহ ধরা পড়েন এবং বর্তমানে জামিনকৃত), মিলন আঠিয়া (রামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক)সহ ১৫ জন।
এভাবে বিভিন্ন পদে থাকা ৬৫ জনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তরে ১৬৬ জনের জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার পূর্বেই অভিযোগ করেছেন লক্ষ্মীপুর কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম। এ ব্যাপারে তিনি জানান, এ অভিযোগ দেওয়ার পরেও কেন্দ্রীয় কমিটি তদন্ত না করে লক্ষ¥ীপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন করেন। এতে করে দলের দুঃসময়ের নেতাকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, সম্মেলনের ১ বছর পর জেলা কমিটির সম্মেলন দেয়ার কথা থাকলে ও তা বৃদ্ধি হয়ে ২ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে সংগঠনকে সু-সংগঠিত ও গতিশীল করতে হলে নিয়মিত ছাত্র ও দুঃসময়ের ত্যাগী নির্যাতিত নেতাকর্মীদের স্থান দিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
সাবেক রায়পুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মারুফ বিন জাকারিয়া জানান,১২১ সদস্যের পদের স্থলে ১৬৬ সদস্য কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে অ-ছাত্র, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বিবাহিতদের, এমন সংবাদ ছাত্রলীগের আদর্শ,উদ্দেশ্যে বিচুত্যি করে। শিবির কর্মী, ছাত্রদল কর্মী ও সমর্থিতরা জেলা ছাত্রলীগে এসে আদর্শ উদ্দেশ্য বিচুত্যি করে সংগঠনকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছেন। এতে করে ছাত্রলীগের মূলনীতি বিচুত্যি হবে।
জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি চেীধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল জানান,গত ২৫ ডিসেম্বর ১৬৬ জন সদস্য উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় কমিটি লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন। এ কমিটিতে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১৫১ জনের কথা উল্লেখ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি তার সাংগঠনিক এখতিয়ারে সংগঠনের স্বার্থে ১৬৬ জন অনুমোদন দেন।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন টিপু জানান,দীর্ঘ ২ বছর আগে জেলা কমিটির দেয়া তালিকা বর্তমানে অনুমোদন পাওয়ায় অনেকেই অনুমোদনের আগেই পদের অপেক্ষায় না থেকে বিয়ে করে সংসার করছেন।এ কমিটিতে শিবির, ছাত্রদলের লোকজন স্থান পেয়েছেন বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির রয়েছেন। কমিটিতে শিবির, ছাত্রদল স্থান পেলে ঐক্য ও শান্তির পরিবর্তে কোন্দল সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ জানান, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র পরিবর্তিত হয়েছে। ঐ গঠনতন্ত্রে ১২১ জনের পরিবর্তে ১৫১ জন রাখা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে যে জেলা কমিটি দেয়া হয়েছে ঐ তালিকায় কেউ শিবির, ছাত্রদলের নেই। এর আগে জেলা কমিটির দেয়া তালিকায় ছাত্রদল,ছাত্রশিবির নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে ২৫ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হয়েছে।
