আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক আশা প্রকাশ করেছেন, জুলাই মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
আজ রবিবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী জজদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধি, বিচার বিভাগের শৃঙ্খলার উপর একটা প্রভাব রাখবে। সেজন্য অত্যন্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো দেখে এই বিধানটি করা উচিত, যাতে এর মধ্যে এমন কোন কিছু না থাকে যা পড়ে এটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সে কারণে এটাকে অত্যন্ত সূক্ষভাবে দেখা হচ্ছে এবং আমি আশা করছি চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই এটা গেজেট হয়ে যাবে।
এর আগে আইনমন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোয়ালিটি জুডিসিয়ারির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারও জনগণকে কোয়ালিটি জুডিসিয়ারি উপহার দিতে বদ্ধ পরিকর। আর এই কোয়ালিটি জুডিসিয়ারি প্রতিষ্ঠায় নবীন বিচারকরা হলেন প্রথম সারির সহযোদ্ধা। তবে কোয়ালিটি জুডিসিয়ারির জন্য আমাদের চ্যালেঞ্জসমূহও কম নয়। দেশের আদালতসমূহের মামলাজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। এসময় আধুনিক তথা ডিজিটাল যুগের বিচারক হিসেবে দেশের সার্বিক বিচার ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে নবীন বিচারকদের বিজ্ঞান-মনস্ক ও ইনোভেটিভ আইডিয়া সমৃদ্ধ চৎড়-ধপঃরাব উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বিচারকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের বিচারক হয়ে ওঠার পেছনে এ দেশের গরীব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ অবদান রয়েছে। আর আপনাদের কর্মক্ষেত্রই হল বিচারপ্রার্থী এসব মানুষের শেষ ভরসাস্থল। তাই বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এসব সাধারণ জনগণ বিচার বিভাগকে কোন্ দৃষ্টিতে দেখছেন কিংবা তাদের চোখে ন্যায়বিচারের ধারণাই বা কেমন সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে আপনাদের কাজ করতে হবে। মোটকথা বিচারপ্রার্থী জনগণের অল্প সময়ে, অল্প ব্যয়ে ও সহজে ন্যায় বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করণে আপনাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। নিছক গতানুগতিক বা দায়সারা ভাব পরিহার করে কর্মক্ষেত্রে আপনাদের সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আপনারা পেশাগতজীবনে অন্যের অনুসরণীয় হবেন- এমন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আপনাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। আপনাদের বিন্দুমাত্র লোভ কিংবা অসততার কারণে বিচার বিভাগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে যাতে কোনো হতাশা বা বিরূপ ধারণার সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, আপনাদের পেশার গুরুত্ব যথাযথভাবে অনুধাবন করে বর্তমান সরকার আপনাদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করেছে।
দেশ মাতৃকা ও সাধারণ মানুষের প্রতি নবীন বিচারকদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, একথা অনস্বীকার্য যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে ’৭১ এ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে এ দেশটির জš§ হয়েছিল বলেই আমরা একেকজন আজ বিভিন্ন উচ্চতর পদে আসীন হতে পেরেছি। বিচারক হিসেবে আপনারাও এর ব্যতিক্রম নন। তাই আপনাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের উন্নয়ন পরিপন্থী কর্মকান্ডের সমর্থন তো দূরের কথা, এরূপ চিন্তারও যাতে উদ্রেক না হয় আপনাদের কাছে এ প্রত্যাশা রাখছি।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ড. শেখ গোলাম মাহবুব স্বাগত বক্তৃতা করেন।
