বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার সফরে দু’রাকাআতের যে কোন রাকাআতে সূরা আত-তীন পড়লেন । আমি তার মত সুন্দর স্বর ও পড়া আর কোন দিন শুনিনি ।” [বুখারী: ৭৬৭, ৬৭৯, ৪৯৫২, মুসলিম: ৪৬৪, আবু দাউদ: ১২২১, তিরমিযী: ৩১০] (২) এর ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায় । হাসান বসরী, ইকরামাহ, আতা ইবনে আবী রাবাহ, জাবের ইবনে যায়েদ, মুজাহিদ ও ইবরাহীম নাখায়ী রাহেমাহুমুল্লাহ বলেন, তীন বা আঞ্জির (গোল হালকা কালচে বর্ণের এক রকম মিষ্টি ফল) বলতে এই সাধারণ তীনকে বুঝানো হয়েছে, যা লোকেরা খায়। আর যায়তুন বলতেও এই যায়তুনই বুঝানো হয়েছে, যা থেকে তেল বের করা হয় । [কুরতুবী, তাবারী] কোন কোন মুফাসসির বলেন তীন ও যায়তুন শব্দের অর্থ এই ফল দু’টি উৎপাদনের সমগ্র এলাকা হতে পারে । আর এটি হচ্ছে সিরিয়া ও ফিলিস্তীন এলাকা । কারণ সে যুগের আরবে তীন ও যায়তুন উৎপাদনের জন্য এ দু’টি এলাকাই পরিচিত ছিল । ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়েম রাহেমাহুমুল্লাহ এই ব্যাখ্যা অবলম্বন করেছেন। অন্যদিকে ইবনে জারীর প্রথম বক্তব্যটিকে অগ্রাধিকার দিলেও একথা মেনে নিয়েছেন যে, তীন ও যায়তুন দ্বারা এই ফল দু’টি উৎপাদনের এলাকা উদ্দেশ্য হতে পারে । (৩ ) বলা হয়েছে “তুরে সীনীন” । এর অর্থ, সীনীন অঞ্চলের তূর পর্বত । এ পাহাড়ে আল্লাহ তা’আলা মূসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেছিলেন । [মুয়াসসার] এ পাহাড় সীনীন উপত্যকায় অবস্থিত, যার অপর নাম সাইনা। আর সাইনা বা সিনাই মিসর ও ফিলিস্তিন দেশের মধ্যে একটি মরুভূমি । [আত-তাহরীর ওয়াত-তানওয়ীর] (৪) এ সূরায় কয়েকটি বস্তুর শপথ করা হয়েছে। (এক) তীন অর্থাৎ আঞ্জির বা ডুমুর এবং যয়তুন । (দুই) সিনাই প্রান্তরস্থ তূর পর্বত । (তিন) নিরাপদ শহর তথা মক্কা মোকাররমা। এই বিশেষ শপথের কারণ এই হতে পারে যে, তূর পর্বত ও মক্কা নগরীর ন্যায় ডুমুর ও যয়তুন বৃক্ষও বিপুল উপকারী বস্তু । অথবা এটাও সম্ভবপর যে, এখানে তীন ও যয়তুন উল্লেখ করে সে স্থানকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে এ বৃক্ষ প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। আর সে স্থান হচ্ছে সিরিয়া ও ফিলিস্তিন
অঞ্চল, যা অগণিত রাসূলগণের আবাসভূমি। বিশেষ করে তা ঈসা আলাইহিস দিয়ে সালামের নবুয়ত প্রাপ্তিস্থান । আর তূর পর্বত মূসা আলাইহিস সালাম-এর আল্লাহর সাথে বাক্যালাপের স্থান । সিনীন অথবা সীনা- তূর পর্বতের অবস্থানস্থলের নাম পরবর্তীতে উল্লেখ করা নিরাপদ শহর হল পবিত্র মক্কা; যা শেষনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মস্থান ও নবুয়ত প্রাপ্তিস্থান । (বাদাইউত তাফসীর ইবন কাসীর]

