এর বহু প্রকার ও ধরন রয়েছে। কিছু সদকা আছে অস্থায়ী। যেমন কাউকে খাদ্যদ্রব্য দান করা। আর কিছু সদকা আছে স্থায়ী। যেমন মসজিদ নির্মাণ করা। এই প্রকার সদকাকে ‘সদকায়ে জারিয়া’ বলা হয়। সদকায়ে জারিয়া করলে মৃত্যুর পরও দানকারীর ‘সওয়াব-সঞ্চয়’ সমৃদ্ধ হতে থাকবে।
সদকায়ে জারিয়ার কথা হাদীসে এভাবে ব্যক্ত হয়েছে- إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ. মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তার তিনটি আমল ছাড়া সমস্ত আমল তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমল তিনটি হচ্ছে- সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম, যা থেকে উপকৃত হওয়া যায় এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দুআ করে। -(সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৩১০) আরেকটি হাদীসে এসেছে, ‘মানুষ যা কিছু রেখে যায় তার মধ্যে তিনটি জিনিস উত্তম- নেক সন্তান, যে তার জন্য দুআ করে।
এমন সদকা যা অব্যাহত থাকে। এর সওয়াব সে লাভ করে। এবং এমন ইলম, যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়।’ -সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৯৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ২৪১; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ২৪৯৫
এখানে সদকায়ে জারিয়ার কিছু উদাহরণ উল্লেখ করছি : ১. মসজিদ নির্মাণ। ২. মকতব-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা। ৩. দ্বীনী পাঠাগার ও দ্বীনী কিতাবের ব্যবস্থা করা। ৪. ঈদগাহ বানানো। ৫. কবরস্থান করা। ৬. যে কোনো দ্বীনী কাজের জন্য জমি ওয়াফ্ক করা। ৭. এতীম ও অসহায় লোকদের বাসস্থান ও উপার্জনের ব্যবস্থা করা। ৮. রাস্তা ও পুল নির্মাণ করা। ৯. পানির ব্যবস্থা করা। ১০. ফলদার বৃক্ষ রোপণ করা। ১১. সরাইখানা তৈরি করা। ১২. সীমান্ত পাহারা দেওয়া ইত্যাদি।

