খন্দকার মোহাম্মাদ আলী সরিাজগঞ্জ প্রতনিধিি
সমকালের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যার ১ বছর। ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারী শাহজাদপুরে আওয়ামীলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারী তিনি মৃত্যু বরন করেন। এই ঘটনার আজ ১বছর পূর্ন্য হয়েছে। তবে ১ বছরেও শিমুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এই হত্যার ঘটনায় নিহত শিমুলের স্ত্রী নুর নাহার বাদী হয়ে শাহজাদপুর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মীরুসহ ১৮ জনকের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামার আরো ২৫-৩০ জনকে আসামী করে শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গত বছরের ৩০ এপ্রিল মীরুসহ ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলায় ৩০ জন গ্রেফতার হলে ২৯ জন জামিনে রয়েছে। কারাগারে আটক করেছেন পৌর মেয়র হালিমুল হক মীরু। সাংবাদিক শিমুল হত্যার প্রতিবাদ ও তার আতœার মাগফেরাত কামনায় মানব-বন্ধন, আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে স্থানীয় সাংবাদিকরা। সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে হস্তান্তর করে দ্রত বিচার শেষ করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও শিমুলের পরিবার। আর মামলাটি পুন: তদন্তের দাবী জানিয়েছে আসামী পক্ষ। তারা মামলাটি পুন:তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে প্রেরনের বিষয়টি স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় বরাবর আবেদন করেছেন। উল্লেখ্য ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারী শাহজাদপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয়কে মারপিটের ঘটনায় আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে চলাকালে সাংবাদিক শিমুলসহ ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত সাংবাদিক শিমুলকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় নেয়ার পথে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বর এলাকায় তার মৃত্যু হয়। এই হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে শাহজাদপুর। প্রতিবাদে হরতাল, মিছিল, সমাবেশ, মানব-বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন বলেন, শাহজাদপুরের মানুষ এই হত্যাকান্ডকে নির্মম ও জঘন্য হত্যাকান্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে। এই হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার শেষ করতে শাহজাদপুরের সর্বস্তরের মানুষ মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের দাবী জানাচ্ছেন। বিচারের মধ্য দিয়ে প্রকৃত দোষিরা বিচার পান এটি শাহজাদপুর বাসির কামনা। সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গাজী আব্দুর রহমান বলেন, খুব আন্তরিকতার সাথে মামলাটি পরিচালিত হচ্ছে। স্বাক্ষিরা যদি ন্যায় কথাটি আদালতে উপস্থাপন করে তাহলে হত্যাকারীদের রক্ষা নাই। এই হত্যা মামলার রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। নিহত শিমুলের ছোট বোন বলেন, এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও আজও ন্যায় বিচারের আশ্বাস পাচ্ছি না। খুনিরা বলে কিছুই করতে পারবে না। এই মামলা যখন তখন তারা লোপাট করে দিতে পারে। আমরা কি ন্যায় বিচার পাবো না। আমার ভাইয়ের বিচার কি আমরা পাবো না। আমরা যদি বিচার না পাই তাহলে কে পাবে। তাই সরকারের কাছে আমরা দাবী জানাই দ্রুত এই মামলার বিচার কাজ শেষ করা হোক। যে ভাবে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে যে ভাবে খুনিদের ফাঁসিতে ঝোলানা হোক। তাহলে আমার ভাইয়ের আতœা শান্তি পাবে। শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাজা গোলাম কিবরিয়া বলেন, শাহজাদপুরের পৌর মেয়র ও অন্যান্য আসামীরা মীরুকে হত্যা করেছিলো। তদন্তে ৩৮ জন আসামীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আদালতে অভিযোপত্র দাখিল করেছি।

