রাজাপুর প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির রাজাপুরে দুই স্ত্রী থাকার কারনে সম্পত্তির লোভে সাংবাদিকের লাশ নিয়ে টানা টানি । ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার কানুদাসকাঠি গ্রামের সন্তান বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সিনিয়র ক্যামেরাম্যান ছিলেন মরহুম আলতাফ হোসেন। আদালতের নির্দেশে সোমবার ১৬ জুলাই ২০১৮ ইংরেজি তারিখ তার মরদেহ নিজ বাড়ির কবর থেকে কঙ্কালের টুকরা উত্তোলন করা হয়েছে । সরোজমিনে জানা যায়, দাফনের ৪ বছর ৩ মাস পরে পারিবারিক গোরস্থান থেকে রাজাপুর উপজেলার কানুদাসকাঠি গ্রামের মৃত. তাছেন উদ্দিনের পুত্র বিটিভি ক্যামেরাম্যান আলতাফ হোসেনের কঙ্কাল উত্তোলন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, নিহত আলতাফকে ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী সকাল ৮ টার দিকে একটি সাদা অ্যাম্বুলেন্সে নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে তার প্রথম সংসারের স্ত্রী ও সন্তানেরা পার্শ্ববর্তি কাটাখালী বাজারে আছে বলে জানায় তোমার স্বামী অসুস্থ্য। ২য় স্ত্রী দেখেন আলতাফ অসুস্থ্য নয় সে লাশে পরিনত।
পরের দিন অর্থাৎ ৭ জুলাই আলতাফকে মৃতাবস্থায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। মাইকিং করে বিকেলে জানাজা ও দাফনের কথা বললেও সকাল ৮ টায় নিয়ে এসে ৯ টার মধ্যেই তাড়াহুড়া করে দাফন কাজ সম্পন্ন করে। কোর্ট সূত্রে অভিযোগ, আলতাফ হোসেনের দুটি বিবাহের কারনে আলতাফ হোসেন’র ২য় স্ত্রী সাবিনা বাদী হয়ে হত্যা ঘটনার ৩ বছর ৭ মাস পরে ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে নালিশী অভিযোগ করেন, মামলার বাদী ছবি আক্তার সাবিনা জানান, আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার স্বামিকে হত্যা করার পর থেকে আমাকে ও আমার সন্তানকে আসামীরা নানাভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে । আমরা তাঁদের কারণে জীবনযাপন করতে পারছি না। মামলার বাদী নিহতের ২য় স্ত্রী ছবি আক্তার সাবিনা সাথে ২০১১ সালের ২৭ জুলাই আলতাফ হোসেনের বিবাহ হয়। ১ম স্ত্রীর ২ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তান ঢাকায় আছে। বিবাহের পর তাঁদের এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। প্রথম বিবাহিত সংসারের কন্যা লাইজু আক্তারের সাথে জাহিদুল ইসলাম লিটনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল বিধায় জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে উল্লেখিতরা আলতাফকে হত্যার পরিকল্পনা করে অভিযোগ করেন ২য় স্ত্রী সাবিনা।
যার কারনে ২য় স্ত্রী সাবিনা কোর্টে মামলা বসায়। তার-ই প্রেক্ষিতে আদালত রাজাপুর থানার ওসিকে এজাহার রেকর্ডের নির্দেশ দেয়। যার কারনে গত রোববার ১৫ জুলাই-১৮ আদালতে বিষয়টি অবহিত করার পর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজা আলতাফ হোসেন’র মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেন। রাজাপুর থানার ওসি মোঃ শামসুল আরেফিন জানান, আদালতের নির্দেশক্রমে কবর থেকে কঙ্কাল উত্তোলন করা হয়েছে। দাফনের ৪ বছর ৩ মাস পরে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কিছু হাড্ডি এবং মাথার খুলি ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে কবর খুড়ে কিছু হাড্ডি ও মাথার খুলি পাওয়া গেছে। এগুলো পরীক্ষার জন্য মহাখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হবে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাখাওয়াত হোসেন এর নেতৃত্বে উক্ত কঙ্কাল উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোঃ আসাদুজ্জামান, অফিসার ইন চার্জ (প্রশাসন) মোঃ শামসুল আরেফিন, ওসি (তদন্ত) হারুন অর রশিদ।

