গত বছর আরকে স্টুডিওতে শেষ গণপতিপূজা হয়। তখন এসেছিলেন রাজীব কাপুর, রণবীর কাপুর ও রণধীর কাপুর
গত বছর আরকে স্টুডিওতে শেষ গণপতিপূজা হয়। তখন এসেছিলেন রাজীব কাপুর, রণবীর কাপুর ও রণধীর কাপুর
বলিউডে কাপুর পরিবারের সেই আড়ম্বর, সেই ঐতিহ্যের এবার অবসান হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজ কাপুরের স্বপ্নের আরকে স্টুডিও বিক্রি হয়ে গেছে। এবার এই পরিবারের ৭০ বছরের পরম্পারও শেষ হতে চলেছে। আর আরকে স্টুডিওর আনাচকানাচে শোনা যাবে না ‘গণেশবন্দনা’। আলো আর ফুলে সেজে উঠবে না আরকে স্টুডিওর আঙিনা।
এ বছর মে মাসে ঐতিহ্যবাহী আরকে স্টুডিও কিনে নেয় গোদরেজ প্রোপার্টি। বছর কয়েক আগে মুম্বাইয়ের চেম্বুর এলাকার এই বিশাল স্টুডিওতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়। স্টুডিওর অনেকটা অংশ পুড়ে যায়। অনেক মূল্যবান জিনিসও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এরপর কাপুর পরিবার ভস্মীভূত এই স্টুডিওকে আর স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রচুর ক্ষতি হয়। আর তারপরই আরকে স্টুডিওকে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কাপুর পরিবার।
রাজ কাপুর প্রথম আরকে স্টুডিওতে গণপতিপূজা শুরু করেন। এরপর এই পরম্পরাকে রক্ষা করেছেন তাঁর উত্তরসূরিরা। আরকে স্টুডিও বিক্রি হওয়ার পর স্থানের অভাবে এই পূজার আয়োজন কাপুর খানদান আর করতে পারছে না। ভারতের এক জনপ্রিয় দৈনিককে রাজ কাপুরের ছেলে রণধীর কাপুর বলেছেন, ‘গত বছর আমাদের শেষ গণপতিপূজা হয়েছিল। আরকে স্টুডিও আর নেই, তো কী করব? বাবা ৭০ বছর আগে এই পরম্পরা শুরু করেন। আর তিনি গণেশকে খুব ভালোবাসতেন। আমরাও ‘বাপ্পা’কে খুব ভালোবাসি। তাঁর প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। এখন এই উৎসব উদ্যাপনের জায়গা আমাদের কাছে নেই৷ তাই আমরা এই ঐতিহ্য আর বজায় রাখতে পারব না।’
একসময় আরকে স্টুডিও থেকে তৈরি হয়েছে অনেক ব্লকবাস্টার ছবি। এর রমরমা ছিল ঈর্ষণীয়। ৭০ বছর ধরে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে আরকে স্টুডিওতে উদ্যাপন করা হয়েছে গণেশ উৎসব। পুরো কাপুর পরিবার এই উৎসবের মেজাজে ভেসেছে। এখন আর আরকে স্টুডিওর কোনায় কোনায় গুঞ্জরে উঠবে না ‘গণপতি বাপ্পা মোরিয়া’ রব।

