পার্বত্য বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে মাদকের ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ, কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু হয় মাদক পাচার ও বিক্রি। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা রকম মানুষ মাদকদ্রব্য সেবন করে মাতলামি করছে প্রতিনিয়ত, রাত গভীর হলে মাদক পাচারকারীদের আনাগোনা শুরু হয়। সম্প্রতি মাদক সেবন করে চাম্বি মফিজ বাজার রাস্তায় দিন দুপুরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে একে অন্যকে পিঠিয়ে রক্তাক্ত করেছে।
দীর্ঘ বছর থেকে আজিজনগরে মাদক বিরোধী কোন অভিযান পরিচালনা না করায় অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাচ্ছে মাদক পাচারকারী সিন্ডিকেট।
সন্ধ্যার পর থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত পিক-আপ, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও শরীরে করে ইয়াবা ও চোলাই মদ পাচার করলেও স্থানীয় প্রশাসন নীরব।
মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নীরবতা সাধারণ মানুষের কাছে নানা প্রশ্ন জন্ম দিচ্ছি।
সম্প্রতি মাদকাসক্ত দেলোয়ারের হামলার শিকার মাংস ব্যবসায়ী বাবুল জানান, আমি গরুকে ঘাস খাওয়ানোর সময় হঠাৎ মাদকাসক্ত দেলোয়ার আমাকে গাছ দিয়ে একাধিকবার আঘাত করলে আমার হাতের আঙ্গুল ফেটে গিয়ে রক্ত বের হয়। সে চোলাইকৃত মদ খেয়ে আঘাত করেছে বলে জানান প্রতিবেদককে।
মাদকাসক্তদের মাতলামি অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে আজিজনগরের ব্যবসায়ীরা। চাম্বি মফিজ বাজারের ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, মাদকাসক্তদের কারণে বাজারে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তারা মাদক সেবন করে দোকানের সামনে এসে নানা রকম বকাবকি ও অঙ্গভঙ্গি করছে যা একজন ভদ্র নারী পুরুষ শুনলে বা দেখলে লজ্জার বিষয় হয়ে দাড়ায়।
৬ ডিসেম্বর সোমবার সকালে উত্তর হারবাং ৮নং ওয়ার্ডের কলাতলী এলাকার আলী আকবরের পুত্র মোঃ মোঃ ইদ্রিস চোলাইমদ সেবন করে চাম্বি মফিজ বাজারের বটতলায় অনেকক্ষণ মাতলামি করে রাস্তায় পড়ে থাকে।
নামমাত্র স্থানীয় প্রশাসন ইয়াবা ও চোলাই মদ পাচারকারী আটক করলেও গডফাদারা রয়েছে নিরাপদে।
আজিজনগর ক্যাম্প ইনচার্জ শামীম শেখ জানান, মাদক সেবন ও পাচার রোধে আমরা মার্মা পাড়ার কারবারি ও মেম্বার উথোয়াইং সাথে আলোচনা করেছি। যারা বহিরাগত মাদক সেবন করতে আসে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে, আমরা অনেকজনকে মাদক পাচারকাজে জড়িত থাকার কারণে আটক করে মামলা দিয়েছি, যারা বর্তমানে অনেকে কারাগারে রয়েছে।

