কে.এ.সাদাত : সমালোচিত প্রধান শিক্ষক মনোজ হালদার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন আকারে প্রতিবাদ প্রকাশ করে ভুয়া সনদকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পিরোজপুর জেলার নেসারাবাদ (স্বরুপকাঠী) উপজেলার পি. জি.এস সুকাদিত্যকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তিনি। রুমা আক্তার নামে দুই সন্তানের জননী এক নারীকে ২২.০৯.২০২২ তারিখে হাতে লেখা অষ্টম শ্রেণি পাশের একটি সনদ প্রদান করে সমালোচনায় আসেন তিনি। তার প্রদত্ত ঐ ভুয়া সনদকে কেন্দ্র করে সারেংকাঠী পঞ্চগ্রাম সন্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়া পদে একটি নিয়োগ স্থগিত হয়ে যায়। তার প্রদত্ত ঐ ভুয়া সনদের উপর ভিত্তি করে চাকরি পাওয়ার আশায় একটি দরিদ্র পরিবার আজ ঋণের ঘানি টানছে।
মনোজ মাস্টারের দেয়া ভুয়া সনদকে নিয়ে অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকায় ৩টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তারমধ্যে ” উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ঘুষ বানিজ্য ও প্রধান শিক্ষকের সনদ বানিজ্য একই সূত্রে গাথা ” শিরোনামের সংবাদটি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বলে তিনি বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছেন। তার এবং তার প্রতিষ্ঠানের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অন্য দূটি প্রতিবেদনের কথা তিনি বেমালুম ভুলে গেছেন। ৩ টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও মনোজ হালদার পত্রিকায় কোন প্রতিবাদ দেন নি। সর্বশেষ গত ০৬ মে ২০২৪ তারিখে অপরাধ বিচিত্রায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেসারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নেতিবাচক কর্মকান্ডও প্রকাশ হয়। ইহা ছাড়াও গত ২৮ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে এলাকাবাসীর পক্ষে জনস্বার্থে মনোজ হালদারকে একটি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়। আইনি ঝামেলা এড়ানোর জন্য উভয়ই গত ১০ জুন ২০২৪ তারিখে অপরাধ বিচিত্রায় বিজ্ঞাপন আকারে প্রতিবাদ প্রকাশ করান। আমরা অপরাধ বিচিত্রার এ সংখ্যায় হেড মাস্টার মনোজ হালদারের প্রতিবাদের পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট প্রকাশ করছি।
প্রকাশিত প্রতিবাদ বিজ্ঞাপনের পোস্ট মর্টেম :
ঐ প্রতিবাদ বিজ্ঞাপনে তিনি একটি সংবাদের প্রতিবাদ দিলেও উল্লেখ করেছেন দুটি সংবাদের কথা। অন্য সংবাদ কোনটি তা উল্লেখ করেন নি।
তিনি দীর্ঘ ১২ বছর যাব ঐ বিদ্যালয়ে সুনাম ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
রুমার সনদ পত্রের জন্য যে ঘুষ বানিজ্য হয়েছে তা কাল্পনিক ও মিথ্যা।
তিনি উল্লেখ করেছেন তার এবং তার প্রতিষ্ঠানের নামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা যুক্তি যুক্ত নয়।
একদল কুচক্রী মহল তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। তারা বিভিন্ন সময়ে নানা ইস্যুতে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
উক্ত সংবাদটি তাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য সাংবাদিকদের কাছে অসত্য তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন প্রকৃতপক্ষে রুমা আক্তার পিতা-আনসার আলী ২০০১ সালে তার বোনের বাড়ি সারেংকাঠী গ্রামে থেকে অত্র প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করে।
বিদ্যালয়ের ভর্তি বহি, ছাত্র হাজিরাসহ অন্যান্য তথ্যাদি যাছাই বাছাই করে সনদপত্র প্রদান করা হয়।
সনদধারী একটি হত দরিদ্র প্রতিবন্দ্বী পরিবারের সদস্য।
তার সুনাম ও দক্ষতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি সুন্দর ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
আপনাদের জ্ঞাতার্থে বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রুমার সকল প্রকার বৈধ কাগজ পত্র প্রেরন করা হলো।
প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
প্রতিবেদকের মন্তব্য :-
তিনি প্রধান শিক্ষক হিসাবে দক্ষতা ও সুনামের সাথে দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালন করে এই কম্পিউটার যুগেও হাতে লেখা সনদ প্রদান করেন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্ম কর্তার কারন দর্শানো নোটিশের উত্তর দিয়েছেন স্মারক নম্বর বিহীন এবং হাতে লিখে। ওনার দক্ষতার কি নমুনা।
উনি সনদ প্রদানে ঘুষ নেয়নি বলে উল্লেখ করেছেন তবে কোন স্বার্থে হাতে লেখা এবং সিরিয়াল নম্বর বিহীন ভুয়া সনদ দিয়েছেন।
রুমা আক্তারের সকল বৈধ কাগজ পত্র পত্রিকা অফিসে প্রেরন করা হয়েছে বলে প্রতিবাদে জানানো হয়েছে। কিন্তু তার মতো একজন অদক্ষ হেড মাস্টারের অবশ্যই জানা থাকার কথা নয় যে তিন বছরে একজন বৈধ শিক্ষার্থীর কতগুলো বৈধ ডকুমেন্টস থাকতে হয়। ইহাছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভর্তি রেজিস্ট্রার এর পৃষ্ঠা দেখানো হয়েছে যাহা ফ্লুইড দিয়ে ঘষামাজা এবং তারিখের ঘর ওভার রাইটিং করা। তিনি একটা অবৈধকে বৈধতা দিতে আবারও প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছেন।
সারেংকাঠী গ্রামে রুমা আক্তারের কোনো বোনের বাড়ীই নেই। মনোজ মাস্টার ঐ গ্রামে তার বোনের বাড়ি কোথায় পেলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন ২০০১ সালে সে বোনের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে বাকি দুই বছর সে কার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেছে। তার বিস্তারিত নাই।
মনোজ মাস্টার নিজেকে খুব মানবিক চরিত্রের অধিকারী বলে জাহির করতে একটি হতদরিদ্র ও প্রতিবন্দ্বী পরিবারকে ঐ ভুয়া সনদটি দিয়েছেন বলে তিনি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তার মত একজন স্বঘোষিত দক্ষ মাষ্টারের জানা উচিৎ মানবিকতার দোহাই দিয়ে একজন অশিক্ষিতকে শিক্ষিতের ভুয়া সনদ প্রদান করা আইন বিরুদ্ধ এবং অপরাধ। তিনি সেই অপরাধটি করেছেন।
মনোজ মাস্টার নিজেকে একজন জনপ্রিয় ব্যাক্তি বলে উল্লেখ করেছেন তাই তাকে হেয় করার জন্য একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। সাংবাদিকদের নাকি ভুল বুঝিয়ে তারা মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। মনোজ হালদারের এটাও জানা উচিৎ যে,
অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করেই প্রকৃত সংবাদ প্রকাশ করে কারো ভুল বোঝানোয় প্রভাবিত হয় না। মনোজ হালদারের সকল বিষয়ে অনুসন্ধান করার জন্য আমাদের অনুসন্ধানী টিম মাঠে রয়েছে। বিস্তারিত সংবাদ জানতে চোখ রাখুন অপরাধ বিচিত্রার পাতায়।

