ভোলা সিভিল সার্জন অফিসের আব্দুল হাই সনদ জালিয়াতি করে সুইপার থেকে স্বাস্থ্যসহকারী

0
472

স্টাফ রিপোর্টারঃ প্রতারনা, জালি‌য়াতি, দূর্নীতিসহ নানাবিধ অপকর্মের  অভিযোগ উঠেছে ইলিশা ইউনিয়নের স্বাস্হ্য সহকারী আব্দুল হাই  বিরুদ্ধে।

Advertisement

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানিয়েছে, আব্দুল হাই ওরফে দুলাল ডাক্তার ১৮৮৭ সালে অস্টম শ্রেনীর পাশের সনদে ভোলা সিভিল সার্জনের অধিনে সুইপার পদে চাকুরীতে যোগদান করে। সুইপার পদটি একটি ব্লক পদ হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে ২০০১ সরকারী চাকুরী বি‌ধি বিধান লংগন করে স্বাস্হ্য সহকারী পদে পদন্নতি দেয়া হয়।সূত্রটি আরো জানায়, তৎকালীন অথরিটি সার্ভিস রূলস লংগন করে আঃ হাইকে সুইপার থেকে বর্তমান সহকারী স্বাস্হ্য সহকারী পদে (ভোলা সদর উপজেলার ইলিশ ইউপিতে বর্তমানে কর্মরত) পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।এ বিষয়ে ভোলা জেলার সিভিল সার্জনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার নলেজে আছে । এ বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ছাড়াও আব্দুল হাই ওরপে দুলাল ডাক্তারের বিরূদ্ধে দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে এলাকার বহু মানুষের জমি আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

ভোলা সিভিল সার্জন অফিসের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আব্দুল হাই এর পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়াটি বেআইনীভাবে হয়েছে। এ ধরনের পদোন্নতি নজির বিহীন বলেও মন্তব্য করেন ঐ সুত্রটি।

এ ছাড়া উক্ত আব্দুল হাইকে একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হলেও স্বাস্থ্য বিভাগ দৈব কারনে তার বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

 এলাকায় সেচ্ছারিতা, জালিয়াতির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক, স্বাস্থ্য বিভাগ ও দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী।তারা জানায় সে যথেষ্ট সম্পদের মালিক হওয়ায় সব জায়গায় টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে বের হয়ে যায়।

আব্দুল হাই এর বিরুদ্ধে যত অভিযোগঃ

এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায, ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মরত স্বাস্থ্যসহকারী আবদুল হাই ৮ম শ্রেণি পাশের সনদপত্র দেখিয়ে ১৯৮৭ সালে ভোলা সদর হাসপাতালে সুইপার/ঝাড়ুদার হিসেবে নিয়োগ পান।অষ্টম শ্রেণির পাশ ১৯৮৩ সাল হবে।

১৯৮৭ সালে চাকরি পেয়েছে। খরকিস্কুল (তার মামা মোস্তফা মিয়া মৃত তখন ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিল) থেকে ১৯৮৩ সালের ৮ম শ্রেণির পাশ দেখিয়েছে।আদৌ খড়কী স্কুলে পড়েনি এমন প্রমান পাওয়া যায় নি। সে পড়েছে ভোলা দারুল হাদিস আলিয়া মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ১৯৮১ সালে দাখিল (তৎকালীন ৮ম শ্রেণি) পাসের সনদপত্রকে এসএসসি সমমানের দেখিয়ে স্বাস্থ্যসহকারী পদে পদোন্নতি পান। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্বা.নং: শা ১/৬ এন পি ১৩/৮৪/১৪২(৪০)- শিক্ষা তারিখ- ঢাকা ২৩-০২-৮৬ইং-এর মাধ্যমে ১৯৮৫ সাল থেকে দাখিল পাসকে এসএসসি সমমান দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি ১৯৮১ সালের দাখিল পাস সেহেতু তিনি আদৌ এসএসসি সমমানের পাস করেননি।উল্লেখ্য ১৯৮৭ সালে অষ্টম শ্রেণির সনদে সুইপার পদে চাকিরী নিয়ে ১৮৮১ সালের দাখিলের সনদে প্রোমোশনের বিষয়টি যথেষ্ঠ রহস্যজনক। এছাড়াও ১৯৮১ সালে দাখিল পাশ করার পর ৮৭ সালে অষ্টম শ্রেনী পাশ এ বিষয়টি ও বোধগম্য কোন বিষয় হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

রহস্যজনকভাবেই ঝাড়ুদারের পদ থেকে স্বাস্থ্য সহকারী পদে পদন্নতি পেয়ে স্বাস্হ সহকারী পদের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছে।

এ ছাড়াও আর্থিক কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।তার দুর্নীতি ওঅনিয়মের বিভিন্ন দুর্নীতির খবর স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হলে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে চাকুরী করে যাচ্ছে। বরং তিনি অনিয়ম দুর্নীতিতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

স্থানীয়রা জানান, ছেলে এবং ছেলের স্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চাকরি করেন- এই দাপট দেখিয়ে আব্দুল হাই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষকে মারধর ও জমি দখল করেছে এমনও বিস্তর অভযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।আব্দুল মান্নান নামের এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় আব্দুল হাইর বিরুদ্ধে ভোলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মে মাসের ২ তারিখে দণ্ডবিধির ৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩৭৯/৩৫৪/৪২৭/৫০৬(২) ধারায় সি.আর ২৩৪/২১ নং মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় বিজ্ঞ আদালত হাইর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করেন। ওয়ারেন্টমূলে পুলিশ বিগত ১২ তারিখ হাইকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।

এমতাবস্থায় সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধি ও বিএআর মোতাবেক হাই গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার কথা। কিন্তু লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে কর্তৃপক্ষ আব্দুল হাইর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।কতৃপক্ষের নিরবতার বিষয়টিও প্রশ্ন সাপেক্ষ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ। 

এদিকে, আব্দুল হাইর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- সনদপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি চাকরি প্রাপ্তি এবং পদোন্নতির মাধ্যমে সরকারের টাকা আত্মসাত। হাসপাতালের সুইপার হয়ে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, নিজ বাড়ির সামনে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ওষুধের দোকান দিয়ে সেখানে হাসপাতাল থেকে চুরি করা সরকারি ওষুধ বিক্রি।গত বিএনপি আমলে স্ত্রীকে মেম্বার বানিয়ে স্ত্রীর সই জাল করে সরকারি লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করে জ্ঞাত আয় বিহর্ভূত সম্পদ অর্জন। তার বাড়ির সামনের সরকারি আয়রন ব্রিজ ভেঙে অর্ধেক বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আবদুল হাইর বিরুদ্ধে। নিজ ডিপার্টম্যান্টে আর্থিক কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিকবার শোকজ করা হলেও উৎকোচ দিয়ে তা ম্যানেজ করে চাকরিতে বহাল এবং আরো বেপরোয়া হয়ে দুর্নীতি করে সরকারি অর্থ আত্মসাত করছেন বলেও অভিযোগ।

অভিযোগ নিয়ে আব্দুল হাইর মতামত জানতে তার মোবাইলে কয়েক বার ফোন দিলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।সাংবাদিক পরিচয়ে টেক্স মেসেজ দিলেও তিনি কোন জবাব দেন নি।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here