ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনে জোরদার হবে ব্যক্তি ও পরিবারতন্ত্র

0
1638

ব্যাংক পরিচালনা নিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইন ‘২০১৭’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উঠেছে। এ আইন বাস্তবায়ন করা হলে একই ব্যক্তি বেসরকারি কোন ব্যাংকের পরিচালক থাকতে পারবেন একটানা ৯ বছর। এদিকে একটি ব্যাংকে একসঙ্গে চারজন পরিচালক হতে পারবেন একই পরিবার থেকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন এ আইনের ফলে আমানতের অর্থে পরিচালিত ব্যাংকগুলো প্রভাবশালী শেয়ারহোল্ডারদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

Advertisement

 

কারন পরিচালক পদের সময়কাল হবে তিন থেকে টানা নয় বছর। আবার কেউ চাইলে তিন বছর বিরতি দিয়ে অমৃত্যু পরিচালক পদে থাকতে পারবেন। সরকারি এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছেন অর্থনীতিবিদ ও অভিজ্ঞ ব্যাংকাররা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত অসুস্থ রাজনীতির বহি:প্রকাশ। দুর্বৃত্তদের অর্থনীতি দিয়ে রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এটা তারই প্রমান। এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাড়বে কুঋন। বিশৃংখল হবে পুরো ব্যাংকিং খাত। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমনিতেই ব্যাংকিং খাতে অসাধু পরিচালকদের লুটপাটের বিষয়টি অনেকটা প্রতিষ্ঠিত। এদের অনেকেই কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন থেকে গ্রাহকদের অর্থ লুটপাট করছেন। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকও। কিন্তু পরিচালকদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে শক্ত কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে একই ব্যক্তি নামে-বেনামে বার বার ঋন নিচ্ছেন। এসব ঋনের বেশিরভাগই ফেরত আসছে না। হয়ে যাচ্ছে খেলাপি। এরপর অবলোপন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট ঋন ছিল ৬ লাখ ৩০ হাজার ১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৩ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকার ঋন নিয়েছেন ব্যাংক মালিকরা, যা বিতরণকৃত ঋনের প্রায় ১৫ শতাংশ। নিজ ব্যাংক থেকে ঋন, পরিচালক নিজে গ্যারান্টর হয়ে ঋন বিতরন এবং সমঝোতার মাধ্যমে এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে ঋন নিচ্ছেন। অর্থাৎ বিতরনকৃত ঋন পরিচালকদের হাতেই থাকছে। এ ছকেই তারা লুটপাট করে থাকেন। সংশোধিত আইন কার্যকরি হলে এধরনের ঘটনা আরও বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে। তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড: এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সরকারের এধরনের সিদ্ধান্তের মানে হল কতিপয় ব্যবসায়ীর চাপের কারনে সরকারের নতি স্বীকার। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংকিং খাতে পরিবারতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়া হল। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, লুটপাটের জন্যই এ আইন। তিনি বলেন সরকার দেশের অর্থনীতিকে রসাতলে নিয়ে গেছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা একেবারে শেষ হয়ে গেছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here