বেপরোয়া রাজউক পরিচালক শেখ শাহীনুল ইসলাম গোল্ডেন মনিরের সাথে সংশ্লিষ্টতা দুদকে গরহাজির সহ অভিযোগের শেষ নেই

0
917

মো: আবদুল আলীম: দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন মানীয় প্রধানমন্ত্রী। অপরাধি যে ই হোক কাউকে তিনি ছাড় দিচ্ছেন না। নিজ দলের কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন ও প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে, কোন অপরাধিকে ছাড় দিচ্ছেন না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এর পরও কিছু অপরাধী শেখ পরিবারের আত্মীয় বলে প্রচার করছেন ও অপরাধ করে যাচ্ছেন। এসব অপরাধি দ্রæতই দুর্নীতির জালে আটক হবে যা সময়ের ব্যপার মাত্র। রাজউকের পরিচালক জোন-৬ শেখ শাহীনুল ইসলাম। তিনি একাধারে এস্টেট ও ভ‚মী-২ এর পরিচালকের দায়িত্বে আছেন। তার দাপটে কাপছে গোটা রাজউক ভবন। বডিগার্ড নিয়ে চলেন রাজউকের ভেতর ও বাইরে। রাজউক এর একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা গেছে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে তিনি কাউকে পরোয়া করছেন না। বাস্তবে হচ্ছেটাও তাই। রাজউকে গেলে দেখা যায় তার দাপট। ঠিক যেন ‘হেলেদুলে চলি আমি রাজার মত চালে’। একদিকে তিনি রাজউকের দুইটি বিভাগের চার্জে। অপরদিকে শেখ পরিবারের সদস্য। এমন কে আছে তার কেশের আগা ধরে? রাজউক সূত্রে জানা গেছে বিশাল  টাকার মালিক এই শেখ শাহীনুল  ইসলাম রাজউক কার্যালয়ের ভেতরে মানুষের গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করেন না। ব্যবসায়ীর কাছে বিনিয়োগ করা কিশালাকারের টাকা আদায় করতে না পেরে নিজ দপ্তরে পিটিয়েছেন ব্যবসায়ীকে। শেখ শাহীনুলের নির্মম নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ীর নাম রায়হান আহমেদ। রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় বসবাস করেন তিনি। নির্যাতনের পর তিনি মামলার জন্য প্রথমে যান মতিঝিল থানায়।

Advertisement

অভিযোগ রয়েছে মেডিকেল রিপোর্ট সহ আইনগত সকল প্রমাণ থাকার পরও থানা মামলা না নিয়ে  ভিকটিমকে হযরানি করে। অবশেষে বাধ্য হয়ে শেখ শাহীনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ মহানগর হাকিমের আদালতে সিআর মামলা নং১৯৭৮/২০২০ধারা১০৯/৩২৩/৩২৭/ ৩৩০/৩৪৭/৩৪৮/৩৬৩/৩৮৪/৩৮৬/৩০৭/ ৫০৬ দন্ড বিধি দায়ের করেন।  শেখ শাহীনুল ইসলাম মামলার ৩ নং আসামি। মামলাটি আদালত থেকে মতিঝিল থানাকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার কপি এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। মামলার বিবরনে দেখা যায় বাদির ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান হেডরন কেমিক্যালস লি: কে শেখ শাহীনুল ইসলাম ব্যবসায়ীক কারণে ৫০ লাখ টাকা ঋন দিয়েছেন। ঋনের চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকে ঋনগৃহীতা মুনাফা বাবদ অতিরিক্ত ১৫ লাখ টাকা ত্রৈমাসিক ৩ লাখ পচাত্তুর হাজার টাকা হারে শেখ শাহীনুল ইসলামকে প্রদান করবে। হেডরন কেমিক্যালস লি: মামলার ১ নং আসামি  মো: রকিবুল হাসান এর নিকট হতেও চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ১ কোটি টাকা ঋন গ্রহন করে।

করোনা মহামারির কারণে ব্যবসায়িক মন্দা ও আর্থিক সমস্যার কারণে ১ নং আসামির ১ কোটি টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে না পারায় ১ নং আসামি মামলার বাদি, এবং ৪ও ৫ নং স্বাক্ষীদের সাথে উগ্র আচরন করেন এবং তাদেরকে ৩ নং আসামি শেখ শাহীনুল ইসলামের সাথে দেখা করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। অত:পর বাদি, ৪ ও ৫ নং আসমি রাজউধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক ভবনের এনেক্স ভবনের ৪র্থ তলায় ৩ নং আসামির কামরায় প্রবেশ করেন।

৩ নং আসামি শেখ শাহীনুল ইসলাম তার কামরার ভেতর বাদি এবং ৪ ও ৫ নং স্বাক্ষীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং বলেন যে, ১৫ দিনের মধ্যে সুদসহ সকল টাকা পরিশোধ না করলে বাদিসহ ৪ ও ৫ নং স্বাক্ষীকে অপহরন করবেন এবং তাদের পরিবারের অন্যান্য  সদস্যদের ক্ষাতসাধন করবেন। বাদীপক্ষের কাছে থাকা রেকডির্ং ডিভাইস এর মাধমে উক্ত সকল কথাবার্তা রেকর্ড করেন।

রেকর্ডগুলো সংরক্ষিত আছে। এক পর্যায়ে ৩ নং আসামী তার অফিস কামরার ভেতরে বাদীকে কিল ঘুষি , লাথি, চর থাপ্পর মারে। শেখ শাহীনুল ইসলামের নির্দেশে রাজউকের আরও কয়েকজন কর্মচারী তার কামরায় প্রবেশ করে এবং  বাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে চেয়ার তুলে বাদির মাথায় বার বার আঘাত করে। উক্ত আঘাত ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাদি একাধিকবার হাত তুললে প্রচন্ড আঘাত প্রাপ্ত হন। বাদির মুখ ও ঠোট দিয়ে রক্ত বের হওয়ায় আঘাতকারীরা বাদিকে বাথরুমে নিয়ে ফ্রেশ হতে বলে।

বাথরুমে যাওযার পর বাদি উক্ত সময়ের মধ্যে তার শরীলে আঘাতের ছবি তুলে হোয়াট অ্যাপস এর  মাধ্যমে মামলার ৪ ও ৫ নং স্বাক্ষীর হোয়াটস অ্যাপস এ প্রেরণ করেন। বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর ৩ নং আসামী শেখ শাহনিুল ইসলাম ও রাজউকের আরও কযেকজন কর্মচারী বাদিকে বলে যে আমার সাথে নিচে নামবি, কোন কথা বা চিৎকার করলে গুলি করবো। অত:পর বাদি শেখ শাহীনুল ইসলাম ও রাজউকের অজ্ঞাত কর্মচারিদে সাথে রাজউকের এনেক্স ভবন এর ৪ র্থ তলা হতে নিচ তলায় নিমে আসে।  

সেখান থেকেও তাকে একটি গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়। অপহরনের পরও অনেক রকমের কাহিণী ঘটেছে। রাজউক পরিচালকের এধরনের হামলা মামলা ও অপহরণের নাটক নিয়ে এর প্রতিবেদকের তদন্ত চলছে। রাজউক পরিচালক শেখ শাহীনুল ইসলামের বিরুদ্ধে হেডরন কেমিক্যালস লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এর প্রতিমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগ থেকে প্রকাশ রাজউকের উক্ত পরিচালক হেডরন কেমিক্যালস লি: নামক প্রতিষ্টানে পূর্বের ৫০ লক্ষ টাকার সাথে পুণরায় আরও ৫০ লক্ষ টাকা সহ মোট এক কোটি টাকা বিনিযোগ করেন। শেখ শাহীনুল ইসলাম গোল্ডেন মনির ওরফে মনির হোসেনের সাথে রাজধানী ও এর আশেপাশের এলাকায় ২০২ টি প্লট জালিয়াতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যপারে দুদক তাকে নোটিস দিলে তিনি হাজির হন নাই এবং গরহাজির থেকে নোটিসের জবাব দাখিল করেন। উক্ত জবাব দুদকের নিকট সন্তোষজনক না হওয়াতে দুদক পুণরায় তাকে হাজির হওয়ার জন্য নোটিস জারি করছে বলে সুত্রে জানা গেছে। রাজধানীর উত্তরায় শেখ শাহীনুল ইসলামের নামে ৫ কাঠা জমির ওপর ১০ তলা আলীশান ভবন রয়েছে। তিনি বিশাল সম্পদ ও টাকার মালিক বলে রাজউক সুত্রে জানা গেছে।

এই ব্যপারে শেখ শাহীনুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নাই। তার বিরুদ্ধে নিজ কার্যালয়ে ব্যবসায়ীকে পেটানো সংক্রান্ত মামলা, প্লট জালিয়াতিতে গোল্ডেন মনিরের সাথে সংশ্লিষ্টতা, উত্তরায় ১০ তলা ভবনের বিবরন ও বিশালাকারের সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়ে এ প্রতিবেদকের তদন্ত অব্যহত আছে। আগামি সংখ্যায় বিস্তারিত থাকছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here