বিতর্কিত ৫৭ ধারায় ৬৬% মামলা প্রমাণ করা যায়নি বাড়ছে জন হয়রানী ও প্রতিশোধ নেয়ার ফাঁদ

1
1160

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা। এক সময় এ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলে সাত বছর থেকে দশ বছর পর্যন্ত স্বশ্রম কারাদন্ড ও মোটা অংকের অর্থদন্ড দেয়ার বিধান ছিল। বর্তমান সরকার তার দ্বিতীয় মেয়াদে এসে এ সাজার মেয়াদ বাড়িয়ে চৌদ্দ বছর করে  ও এক কোটি টাকা অর্থিক জরিমানা নির্ধারন করে। অধিকন্ত অপরাধটি জামিনের অযোগ্য করা হয় এবং পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। বিতর্কিত এ ৫৭ ধারা নিয়ে গণমাধ্যমে অনেক আপত্তি তোলা হয়। এ ধারাটি বাতিলের জন্য উচ্চ আদালতে রিট পর্যন্ত হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার বৈধতা চেলেঞ্জ করে তিন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়–য়ার করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ৫৭ ধারা কেন সংবিধান পরিপন্থী ঘোষনা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। আইন বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজ ও ভুক্তভোগিদের প্রবল দাবি বন্ধ করতে পারেনি ৫৭ ধারার অপব্যবহার। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে এ আইন মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করা, হয়রানি করা ও প্রতিশোধ নেয়ার একটি ফাঁদ। তাছাড়া এই আইনে যে অপরাধের কথা উল্লেখ আছে সে অপরাধের চেয়ে সাজা অনেক বেশি যা নিতান্ত অমানবিক। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিকও এ মামলার শিকার। বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের মামলা দ্রুত বাড়ছে। ২০১৩ সালে মাত্র তিনটি মামলা দিয়ে সাইবার ট্রাইবুনালের যাত্রা শুরু। সম্প্রতি পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় তদন্তাধীন ও বিচারাধীন মামলা মোট ৫৯৩ টি। প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলে হয়রানি করার জন্য এ মামলা করা হচ্ছে ও অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি কারাগারে অমানবিকভাবে আটক আছে বলে মানবাধিকারকর্মীরা হতাশা প্রক্রাশ করছেন। সাইবার ট্যাইবুনাল সূত্রে প্রকাশ, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৬৬ শতাংশ মামলারই সব আসামি খালাস পেয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরু থেকেই ৫৭ ধারাটি বিতর্কিত হয়ে আসছে। জনহয়রানি নিয়ে এ বিষয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সাইবার ট্রাইবুনালের তথ্য-উপাত্ত এখন সেই আশংকাকে সত্য করে তুলেছে। আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা এ-ও বলেছেন, সরকারের আইনমন্ত্রী তাদের উদ্বেগের সঙ্গে একই মত পোষন করে ৫৭ ধারা বাতিল বা সংশোধনের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার সেই আশ্বাস আজও পুরণ হয়নি। চলমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করার জন্য ৫৭ ধারার পরিবর্তে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৬ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আছে। নতুন প্রস্তাবিত এ আইনটি আলোর মুখ দেখবে কি?

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here