বৈরাম খাঁঃ
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলায় একজন ভূয়া সি, আই, ডি ইন্সেপেক্টর এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, এই ভূয়া সি, আই, ডি ইন্সেপেক্টর দীর্ঘ ১২/১৪ বছর যাবৎ নারায়ণগঞ্জ সি, আই, ডি পুলিশ ক্যাম্পে সি, আই, ডি সোর্স হিসাবে কাজ করে আসছে। যার ফলে নারায়ণগঞ্জ সি, আই, ডি পুলিশের আসকারা পেয়ে এই মোফাজ্জল এখন নিজেকে সি, আই, ডি ইন্সেপেক্টর হিসাবে পরিচয় দিতেও ভুল করে না। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, এই ভূয়া মোফাজ্জল নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যেক মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে। এই চাঁদা আদায়ে তিনি নিজেকে কখনো ক্যাশিয়ার আবার কখনো ইন্সেপেক্টর পরিচয় দিয়ে থাকেন। এখানে উল্লেখ্য, মোফাজ্জল নিজেই একজন সোর্স, অথচ বিভিন্ন এলাকায় তিনি নিজেকে ইন্সেপেক্টর পরিচয় দিয়ে, সেখানে কিছু ক্যাশিয়ার নিযুক্ত করে দিয়েছেন, তারা হলেন আলমগীর, জয়নাল, বাসার ও রবিন সহ আরো ৪/৫ জন। গভীরে অনুসন্ধান করে জানা যায় যে, নারায়ণগঞ্জ সি, আই, ডি অফিস মোফাজ্জলের কথামতই চলে। খোজ নিয়ে জানা য়ায়, নারায়ণগঞ্জ সি, আই, ডি তে ২ টি টিম মোফাজ্জলের নির্দেশেই চলে। নারায়ণগঞ্জ সি, আই, ডি অপরাধ দমনের কোন কাজ করে না, শুধু মোফাজ্জলের নির্দিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা চাঁদা আদায়ে ব্যাস্ত থাকেন। মোফাজ্জলের নির্দেশে যারা মাঠ দাবরিয়ে বেরাচ্ছেন তারা হলেন, ইন্সেপেক্টর প্রদিব বাবু, ইন্সেপেক্টও সাইফুল, এস, আই আশ্রাফ, এ, এস, আই মোকলেস। উপরে উল্লেখিত অফিসার গণ, ফতুল্লা ফাজিলপুর কয়লার মাঠের পাশে একটি চোরাই তেলের গোডাউনে হামলা দিয়ে বান্ডারির ছেলে রনির কাজ থেকে ৫ লক্ষ টাকা আদায়ায়ের পর চোরাই তেল ছেড়ে দেন এবং চুক্তির মাধ্যমে অবৈধ ব্যবসাকে বৈধ করার সুযোগ দেন। এছাড়া বাবু নামের এক তেলের ব্যবসায়ীকে, চোরাই ব্যবসায়ী আক্ষা দিয়ে ৩০ হাজার টাকা আদায় করেন। তাছাড়া আলীগঞ্জে সোবানের চোরাই তেলের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা এবং ফতুল্লার হিরুর দোকান থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন। এছাড়া ফরহাত, রনি, রিপন ও মোকলেসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাসিক/সাপ্তহিক কিস্তিতে চাঁদা আদায় করে থাকেন। এলাকায় অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, ভূয়া এই মোফাজ্জল সি, আই, ডি পুলিশের নাম দিয়ে, কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ইতি মধ্যে মটর পার্সের ২টি দোকান দিয়েছেন ১ টি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বাস টার্মিনাল এলাকায় এবং অন্যটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ রেল ষ্টেশনের সাথে। আরো জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ পাইক পাড়ায়, ৪ শতাংশ জমির উপর ৫ তলা বিশিষ্ট বিলাশ বহুল বাড়ি নির্মান করেছেন। এছাড়া ফতুল্লা রোসেন হাউজিং এলাকায় ৬শতাংশ জমির উপর টিনসেড বাড়ি নির্মান করেছেন। ভূয়া সি, আই, ডি ইন্সেপেক্টও পরিচয় দান কারী মোফাজ্জল কোন মুসলমান পরিবারের ছেলে নয়, সে এক জন হিন্দু পরিবারের ছেলে, তার বাড়ি ভারতের শিলিগুরি শহরের পটি পাড়ায়, তার আসল নাম মনিদাশ। ভারতে থাকা কালীন অবস্থায় নারী শিশু পাচারকারী দলের সদস্য ছিলেন। নারী শিশু পাচারকারীর অপরাধে শিলিগুরিতে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়, তখন তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে এসে নিজেকে রক্ষার জন্য পুলিশের সাথে সক্ষতা গড়ে তুলেন। তিনি এখনো হুন্ডির মাধ্যমে শিলিগুরিতে টাকা লেনদেন করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করলেই আসল রূপ ধরা পড়বে। বিস্তারিত আগামী সংখ্যায়।
